Bhopal Gas Tragedy-এর ৪১ বছরে ফিরে দেখা যাক সেই ভয়ঙ্কর সময়কে

Bhopal Gas Tragedy

ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার (Bhopal Gas Tragedy) দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে ৪১ বছর, তবুও সেই আতঙ্কের ইতিহাস বড্ড তাজা। আরও একবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছিল করোনাকালে। সেই সময় বেঁচে গিয়ে যাঁরা ভাবছিলেন, সত্যিই তাঁরা ভাগ্যবাণ তেমনই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। তালিকাটা নেহাৎই কম নয়। ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছিল কোভিডে। সেই সময় এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল গ্যাস আক্রান্ত হয়ে বেঁচে গেলেও ভিতরে ভিতরে তাঁরা বড় রোগকে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল।

গ্যাস লিকের সেই ভয়াবহ ক্ষত আজও বয়ে বেরাচ্ছে সেখানকার মানুষরা। মানসিকভাবে তো বটেই, শারীরিকভাবেও সেই গ্যাসের প্রভাব সেই সময়ের মানুষদের উপর যেমন রয়েছে তেমনই রয়েছে নতুন প্রজন্মের উপরও। ১৯৮৪ সালের এমনই একটা দিন ছিল। বাকি সব দিনের মতই স্বাভাবিক ছন্দে দিন শুরু করেছিল ভোপালের মানুষ। ২ ডিসেম্বর রাত থেকে শুরু হয় সেই ভয়ঙ্কর গ্যাস লিগের ঘটনা। চলে ৩ ডিসেম্বর রাত পর্যন্ত। শুরুতে বুঝতে অসুবিধেই হয়েছিল ঠিক কী ঘটছে সকলের সঙ্গে। ক্রমশ পরিষ্কার হয় পুরো ঘটনা। ততক্ষণে মানুষের যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গিয়েছে।


১৯৮৪ সালের ৩ ডিসেম্বর, ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালে ইউনিয়ন কার্বাইড ইন্ডিয়া লিমিটেডের কীটনাশক কারখানার আশেপাশে ৫,০০,০০০ এরও বেশি মানুষ বিষাক্ত গ্যাস মিথাইল আইসোসায়ানেটের সংস্পর্শে আসে, যা বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ শিল্প বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০০৬ সালে একটি সরকারি হলফনামায় বলা হয়েছিল যে এই লিকেজ প্রায় ৫,৫৮,১২৫ জনকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছিল, যার মধ্যে ৩৮,৪৭৮ জন আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন এবং ৩,৯০০ জন গুরুতর ও স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর সংখ্যা সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে বিভ‌িন্ন পরিসংখ্যান উঠে এসেছে।তাৎক্ষণিক মৃত্যুর সরকারি সংখ্যা ছিল ২,২৫৯। অন্যান্য সূত্র থেকে অবশ্য এই সংখ্যা ভয়াবহ। যেখানে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটার দুই সপ্তাহের মধ্যে ৮,০০০ জনের মৃত্যু গিয়েছিল এবং আরও ৮,০০০ বা তার বেশি মানুষ গ্যাস-সম্পর্কিত রোগে মারা গিয়েছিল। ২০০৮ সালে, মধ্যপ্রদেশ সরকার গ্যাস লিকে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়।

ইউনিয়ন কার্বাইড ইন্ডিয়া লিমিটেড (UCIL), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিয়ন কার্বাইড কর্পোরেশন (UCC)-এর বেশিরভাগ মালিকানাধীন ছিল, যেখানে ভারত সরকার-নিয়ন্ত্রিত ব্যাঙ্ক এবং ভারতীয় জনসাধারণের ৪৯.১ শতাংশ অংশীদারিত্ব ছিল। ১৯৮৯ সালে গ্যাস লিকের মামলা নিষ্পত্তির জন্য ৪৭০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করে। ১৯৯৪ সালে, UCC UCIL-এ তার অংশীদারিত্ব এভারেডি ইন্ডাস্ট্রিজ ইন্ডিয়া লিমিটেড (EIIL)-এর কাছে বিক্রি করে, যা পরবর্তীতে ম্যাকলিওড রাসেল (ইন্ডিয়া) লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত হয়। এভারেডি ১৯৯৮ সালে ফ্যাকট্রি সাইটটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ শেষ করে, এবং এটি তার ৯৯ বছরের ইজারা বাতিল করে এবং মধ্যপ্রদেশ রাজ্য সরকারের কাছে সাইটের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করে। ডাউ কেমিক্যাল কোম্পানি ২০০১ সালে UCC কিনে নেয়, যা গ্যাস লিকের ১৭ বছর পর।

১৯৮৬ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাগুলি খারিজ করে ভারতীয় আদালতে পাঠানো হয়, কারণ মার্কিন আদালতগুলি UCIL-কে ভারতের একটি স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে বিবেচনা করে। ভারতের ভোপালের জেলা আদালতেও UCC, UCIL এবং অ্যান্ডারসনকে জড়িত করে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২০১০ সালের জুন মাসে, ১৯৮৪ সালে UCIL-এর কর্মচারী হিসেবে থাকা সাতজন ভারতীয় নাগরিক, যাদের মধ্যে UCIL-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান কেশুব মাহিন্দ্রাও ছিলেন, তাদের অবহেলার কারণে মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগে ভোপালে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং দু’বছরের কারাদণ্ড এবং প্রায় ২,০০০ ডলার জরিমানা করা হয়েছিল, যা ভারতীয় আইন অনুসারে সর্বোচ্চ শাস্তি। রায়ের পরপরই সকলকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। অষ্টম প্রাক্তন কর্মচারীকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, কিন্তু রায় ঘোষণার আগেই তিনি মারা যান।

ইউনিয়ম কার্বাড ইন্ডিয়া লিমিডের কীটনাশক তৈরির প্ল্যান্ট থেকে মিথাইল আইসোসায়ানেট লিক হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল ভোপালের বাতাসে। প্রচুর মানুষ চিকিৎসারও সুযোগ পাননি। চোখের সামনে একটু একটু করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেছেন প্রিয় মানুষদের। পরবর্তী সময়ে সরকারি হিসেবে ৩৭৮৭ জন এর মৃত্যু হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন ৫৭৪,৩৬৬ জন মানুষ। আসলে গোটা শহর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু না হলেও সেই গ্যাসে আক্রান্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে বিভিন্ন সময়ে।

পরবর্তী সময়ে এই সব হিসেব বার বার পরবর্তীত হয়েছে। সব থেমে যাওয়ার পর দেখা দিয়েছে নানা রোগ। যা আজও বয়ে বেরাতে হচ্ছে। সেই সংস্থা সেই সময় নাশকতার তথ্য তুলে এনেছিল। এত মানুষের মৃত্যু আজও ন্যায় পায়নি। ইউনিয়ন কার্বাইড কর্পোরেশনের সেই সময়ের সিইও ছিলেন ওয়ারেন অ্যান্ডারসন। সংস্থা ও তাঁর বিরুদ্ধে আমেরিকায় ক্রিমিনাল কেসও করা হয়েছিল। যা পরবর্তী সময়ে ভারতীয় আদালতে স্থানান্তরিত হয়। আসলে এত মানুষের মৃত্যুর জন্য শাস্তি যথাযথ পায়নি কেউই।

প্রশ্ন একটাই কে দায়ী? যার উত্তর আজও খুঁজে চলেছে ভোপালের সেই সব মানুষ।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle