এটি কোনও বিজ্ঞাপনের অংশ ছিল না। কিন্তু লিওনেল মেসি (Lionel Messi)-র মুখ থেকে যখন এই পানীয়ের নাম বেরিয়েছে, যেটা নাকি তিনি পান করেন, তার পর যেটা হওয়ার সেটাই হয়েছে। ঘটনাটা বেশ মজার। বিনে পয়সায় এমন প্রচার মেসি জানলে অবশ্যই করতেন না যা এনডোর্সমেন্ট ভ্যালু সাধারণ মানুষের কল্পনাতীত। বিভিন্ন খাবারের যুগলবন্দীর ক্ষেত্রে আমাদের সবারই কিছু অদ্ভুত পছন্দের জিনিস থাকে। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ক্লাসিক যুগলবন্দীতে পরিণত হয়েছে, যেমন গোলাপ জামুন ও আইসক্রিম, হুইস্কির সঙ্গে কোক, বা কুলফির সঙ্গে জিলাপি। আবার কিছু এমন মিশ্রন বেশ বিরক্তিকরও। তবুও সব কিছুই খারাপ বা ভালো তখনই বলা যাবে যখন আপনি নিজে সেটি চেখে দেখবেন। কারণ স্বাদের পছন্দ সবার এক হয় না।
আপনি পরীক্ষা না করলে, কখনওই জানতে পারবেন না যে একটি আপাতদৃষ্টিতে বেমানান জুটি আসলে অদ্ভুত নাকি একটি অসাধারণ সংমিশ্রণ যা আপনার খাবারের অভিজ্ঞতাকে অন্য স্তরে নিয়ে যেতে পারে। আমাদের মতোই, ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসিও খাবার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তিনি তাঁর পছন্দের অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের সঙ্গে একটি কার্বনেটেড পানীয় মিশিয়ে খেতে পছন্দ করেন – ওয়াইন এবং স্প্রাইট।
আসন্ন বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই, এই ফুটবলার তাঁর এই অস্বাভাবিক পছন্দ নিয়ে মুখ খুলেছেন। লুজু টিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা বলেন, “আমি ওয়াইন পছন্দ করি, কিন্তু যদি তা না হয়, তবে আমার সাধারণ পছন্দের পানীয়টি হলো, স্প্রাইটের সঙ্গে ওয়াইন। এতে দ্রুত নেশা হয়, হাহা!”
কেন তিনি এই অস্বাভাবিক কম্বোটি পছন্দ করেন তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এটি মিয়ামির রোদে তাঁকে আরাম দেয়। তিনি একা কিছু সময় কাটানোর বিষয়েও রসিকতা করেন, যা তাঁকে বাড়ির কোলাহল ও মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু থেকে দূরে রাখে। তিনি আরও বলেন, “আমি যা ভাবা যায় তার চেয়েও বেশি অদ্ভুত… আমি সত্যিই একা থাকতে পছন্দ করি। বাড়িতে তিন সন্তান সারাক্ষণ ছোটাছুটি করে যে চাঞ্চল্য তৈরি করে, তা আমাকে ক্লান্ত করে তোলে, এবং আমি এক মুহূর্তের নির্জনতা খুঁজে নিই।”
তিনি আরও বলেন যে তিনি সাধারণত তাঁর দিনের পরিকল্পনা করেন, এবং যদি এর মাঝে কিছু ঘটে, তবে তা তাঁর জন্য সবকিছু বদলে দেয়। তিনি এমনকি রসিকতা করে বলেন যে এই বিষয়ে মানুষের তাঁর স্ত্রী আন্তোনেলার সঙ্গে কথা বলা উচিত। তবে মেসি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বললেও বিশ্ব জুড়ে থাকা তাঁর ভক্তরা নিজেদের পছন্দ ঠিক বেছে নিয়েছেন।
লিওনেল মেসি হালকাভাবে কিছু একটা বললেও সেটা যে লাখ টাকার সমান তা কে জানত। আর তা মার্কিন শেয়ার বাজারকে এভাবে প্রভাবিতও করবে তা নিশ্চই স্বয়ং মেসিও ভাবেননি। কীভাবে এমনটা ঘটল? যে সাক্ষাৎকারে এই ফুটবলার ওয়াইন এবং স্প্রাইট পান করার কথা উল্লেখ করেছিলেন, সেটি ৭ জানুয়ারি, ২০২৬-এ সামনে আসে এবং তারপর থেকে কোকা-কোলার শেয়ারের দাম ৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। ডে ট্রেডিং, একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে আপনি ক্রিপ্টো, স্টক এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে তথ্য পেতে পারেন, তারা জানিয়েছে যে শেয়ারের এই সামান্য বৃদ্ধি ব্র্যান্ডটির বাজার মূল্যকে ১২.৯ বিলিয়ন ডলারে পরিণত হয়েছে।
মেসি তাঁর পছন্দের পানীয়টি সম্পর্কে ইতিবাচক তথ্য দেওয়ার পর, তা দ্রুত ব্র্যান্ডটির জন্য বিপুল ইতিবাচক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এমনিতে কোকা কোলা পুরো বিশ্বের কাছেই জনপ্রিয় পানীয় ব্র্যান্ড, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। এবার মেসির ভক্তরা সেই চাহিদাকে কয়েক কোটিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যারা স্প্রাইট কেনার জন্য এবং ওয়াইনের সঙ্গে এটি চেখে দেখার জন্য সঙ্গে সঙ্গে কাছের দোকানে ছুটে গিয়েছে।
এই প্রথম নয় যে কোনও ক্রীড়াবিদের সাধারণ কোনও মন্তব্যের কারণে একটি কোম্পানির শেয়ার প্রভাবিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ২০২১ সালের জুন মাসে ইউরো ২০২০-এর একটি সাংবাদিক সম্মেলনে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো প্রকাশ্যে কোকা-কোলার পণ্যকে উপেক্ষা করেছিলেন। জানা যায়, এর ফলে কোম্পানিটির শেয়ারের ব্যাপক পতন ঘটে এবং তাদের বাজার মূল্য ৪ বিলিয়ন ডলার কমে যায়। এবার ঠিক উল্টোটা করলেন মেসি। ক্রিশ্চিয়ানো-মেসি দ্বৈরথ এখানেও বজায় থাকল।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
