পথিক গুপ্ত: বইমেলা থেকে কেউ হাসিমুখে ফিরেছিলেন, কেউবা গোমড়া মুখে। কারা ফিরেছিলেন হাসি মুখে? যাঁদের কাছে ছিল ‘সুভাষ ফিরেছিলেন।’ বাকিদের সঙ্গী হতাশা। হবে নাইবা কেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কাউন্টারের সামনে গিয়ে শুনতে হচ্ছে, ‘আউট অফ স্টক।’ বলা হচ্ছে, ‘অমুক দিন আরও কিছু স্টক আসবে, এখন নেই।’ কখনও বইয়ের বদলে হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কুপন। সেটা দেখিয়ে নির্দিষ্ট দিনে বই দেওয়ার অঙ্গীকার করছে পাবলিশার্স। তার আগে বইয়ের লাইনে দেখা যাচ্ছে, উৎকণ্ঠা, মান-অভিমান, ঝগড়া-হতাশা। দীর্ঘ লাইন সামলাতে আসরে নামতে হচ্ছে পুলিশকে। কখনও বা ঘিরে রাখতে হচ্ছে বইয়ের স্টলও। কুপনও বিলি করতে হয়েছে পুলিশকে। কারণ নেতাজী (Netaji)।
৪৯তম কলকাতা বুকফেয়ারে যে বই ঘিরে এমন ধুন্ধুমার হচ্ছে, তার নাম ‘সুভাষ ফিরেছিলেন।’ কুনাল বোসের লেখা শালিধান প্রকাশনীর এই বই এখন বইমেলায় যেন হটকেকের চেয়েও বেশি। কী আছে এই বইয়ে? আসলে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার কুণাল বেশ কয়েক বছর ধরেই নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুকে নিয়ে কাজ করে আসছেন।
তাইওয়ান বিমানবন্দরের বিস্ফোরণে নেতাজীর মৃত্য হয়েছিল কি না তা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত নয়। পরবর্তী কালে নানা তত্ত্বের মধ্যে উঠে আসে ‘গুমনামি বাবা’ থিওরি। অনেকে মনে করেন, উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদের সাধু গুমনামী বাবা বা ভগবানজীই আসলে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু। তাইওয়ানে বিমান দুর্ঘটনায় তিনি মারা যাননি। বরং ফৈজাবাদে গুমনামী বাবা হিসেবে শেষ জীবন কাটান এবং মারা যাওয়ার পরে সেই শহরের গুপ্তার ঘাটে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
গুমনামী বাবাই যে নেতাজী, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের নানা প্ল্যাটফর্মে সেই মত প্রতিষ্ঠা করেন কুণাল। তাঁর সেই প্রয়াসই উঠে এসেছে এ বার ‘সুভাষ ফিরেছিলেন’ বইয়ের আকারে। প্রসঙ্গত, এটাই কুণালের লেখা প্রথম বই। সে দিক থেকে দেখলে প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়েছেন কুণাল। তবে তার চেয়েও বড় কথা, আজও নেতাজী সুভাষ ও তাঁর নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া রহস্য জনমানসে সমান কৌতুহল তৈরি করে। এ বারের বুক ফেয়ারে যা রীতমতো ট্রেন্ডিং করে তুলল দেশনায়ক নেতাজীকে।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
