নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের হতাশা কাটিয়ে T20 World cup 2026 Champion ভারত

T20 World cup 2026 Championছবি— বিসিসিআই এক্স

‘India repeat History, India defeat history’ , টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ চ্যাম্পিয়ন (T20 World cup 2026 Champion) হয়ে এই কথাটিকেই যেন নতুন করে প্রতিষ্ঠা করল ভারতীয় ক্রিকেট দল বা ভারতীয় টি২০ দল। রবিবার বিশ্বকাপের যবনিকা পতনের রাতে আবার লাইম লাইটে উঠে এসেছিল আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম। বার বার উঠে আসছিল ২০২৩-এর হতাশার বিশ্বকাপ ফাইনাল হারের কথা। প্রশ্ন উঠছিল, ঘরের মাঠে যেটা পারেনি রোহিত শর্মার ভারত, সেটা কি পারবে সূর্যকুমারের দল? টুর্নামেন্টের প্রথম থেকেই জয়ের মুখ দেখতে শুরু করে এই ভারত। কিন্তু একাধিক জয় সহজে আসেনি, যতটা সহজে ফাইনালে জয় এলো, তেমনটা মনে হয় কোনও ম্যাচেই আসেনি। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার এই নতুন ভারতীয় দলকে যেন চাগিয়ে দিয়েছিল। আর শেষ হাসি হাসল আহমেদাবাদের  এক লাখ ৩২ হাজারের স্টেডিয়াম থেকে ১৪৭ কোটির ভারতবর্ষ। আজ রাত জাগবে ক্রিকেটের ভারত। ৯৬ রানে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে পর পর দু’বার টি২০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ভারত। যে জয় মাঠে বসে উপভোগ করলেন গতবারের চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক রোহিত শর্মা।

এদিন টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান কিউই অধিনায়ক মিচেল সাঁতনার। সবারই জানা আহমেদাবাদের পিচ বড় রানের জন্য বিখ্যাত। তাই টস জিতলে রান তাড়া করতে চাইবে যে কোনও দল সেটাই স্বাভাবিক। ভুল করেননি নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। তবে সামনে যে ভারতীয় ক্রিকেট দল। যারা মুহূর্তে বদলে দিতে পারে সব হিসেব। যেভাবে ফাইনালে মঞ্চে হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ভারতের হয়ে ভিত তৈরি করে দিলেন ব্যর্থ অভিষেক শর্মা। ১৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে ২১ বলে ৫২ রান করে থামলেন তিনি। আর একজন, যিনি পর পর তিনবার সেঞ্চুরির কাছে পৌঁছেও দলের স্বার্থে তা স্পর্শ করতে পারলেন না। তিনি সঞ্জু স্যামসন। এদিনও তাঁর ব্যাট থেকে এল ৮৯ রান। আর তিন নম্বরে নামা ঈশান কিষাণ করে গেলেন ৫৪ রান। দলের টপ অর্ডারের সবার ব্যাট থেকে যখন হাফসেঞ্চুরি আসে তখন বড় রানের জন্য ভাবতে হয় না।


এর পর সূর্যকুমারের শূন্য রানে ফেরা আর হার্দিক পাণ্ড্যের কষ্টসাধ্য ১৮ রানের ইনিংসকে ঢেকে দেয় শিভম দুবের ঝোড়ো অপরাজিত ২৬ রান। ভারত পৌঁছে যায় ২৫৫-৫-এ। নিউজিল্যান্ডের হয়ে তিন উইকেট নেন জেমস নিশাম। একই ওভারে পর পর দুই উইকেট তুলে নিয়ে ভারতকে জোড় ধাক্কা দেন তিনি। একইভাবে হ্যাটট্রিকের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন ভারতীয় বোলিংয়ের ভরসা যশপ্রীত বুমরাহ। তাঁরও হ্যাটট্রিক হয়নি তবে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা তিনিই। যখনই প্রতিপক্ষ বড় রানের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে তখনই ধাক্কাটা দেন তিনি। তাঁর পাশাপাশি তিন উইকেট অক্ষর প্যাটেলের। বরুণ চক্রবর্থী আর হার্দিক পাণ্ড্যের পাশাপাশি শেষ ওভারে বল করতে এসে এক উইকেট নিজের নামের পাশেও লিখে নেন এই পুরো টুর্নামেন্টে সব থেকে আলোচিত ব্যক্তি অভিষেক শর্মা।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ওপেন করতে নেমে সর্বোচ্চ রান আসে ওপেনার টিম সেইফার্টের ব্যাট থেকে। ৫২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাঁতনারের ৪৩। আর কেউই ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। অনেক আগেই এই ম্যাচ হেরে গিয়েছিল কিউইরা, অপেক্ষা ছিল শুধু শেষ বলের। তবে শেষ বল পর্যন্ত ম্যাচ গড়াল। সবাইকে চমকে দিয়ে ১৯ তম ওভারে বল করতে নিয়ে আসা হল অভিষেককে। তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য এর থেকে ভালো আর কী হতে পারে। পুরো টুর্নামেন্টে যেভাবে তাঁর উপর ভরসা রেখেছে কোচ, ক্যাপ্টেন তার মান রাখলেন তিনি। ২৫৬ রানের লক্ষ্যে নেমে ১৯ ওভারে ১৫৯ রানে অলআউট হয়ে গেল নিউজিল্যান্ড। পর পর দু’বার টি২০ বিশ্বকাপ‌ জিতে রেকর্ড গড়ল ভারত। এই নিয়ে তৃতীয়বার টি২০ বিশ্বকাপ জিতল ভারত। প্রথমবার এমএস ধোনির নেতৃত্বে, দ্বিতীয়বার রোহিত শর্মা ও তৃতীয়বার সূর্যকুমারের অধিনায়কত্বে টি২০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ভারত।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle