বরুণ ধাওয়ান (Varun Dhawan) সম্প্রতি জানিয়েছেন যে তাঁর মেয়ে লারা ‘ডেভেলপমেন্টাল ডিসপ্লেসিয়া অফ দ্য হিপ’ (ডিডিএইচ) নামক একটি হাঁটার সমস্যায় আক্রান্ত। ‘বি এ ম্যান, ইয়ার!’ অনুষ্ঠানের সাম্প্রতিক একটি পর্বে কথা বলতে গিয়ে ধাওয়ান বলেন যে, রোগটি দ্রুত শনাক্ত হওয়ায় লারা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পেরেছে। ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’ অভিনেতা বলেন, “যখন ওর বয়স দেড় বছর ছিল, তখন ওর ডিডিএইচ ধরা পড়ে, যা মূলত নিতম্বের হাড় সকেট থেকে সরে যাওয়া। এতে একটি পা অন্যটির চেয়ে লম্বা হয়ে যায়, যার ফলে হাঁটা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। ঠিকমতো দৌঁড়ানো যায় না, হাঁটাও যায় না। অল্প বয়সেই আর্থ্রাইটিস বা স্লিপ ডিস্কের সমস্যা হতে পারে। এতে অনেক সমস্যা হয়। পশ্চিম বিশ্বে জন্মের সময়ই এটি ভালোভাবে নির্ণয় করা যায়, কিন্তু ভারতে তেমনটা হয় না। তবে এখানে অনেক ভালো ডাক্তার রয়েছেন যাঁরা এর যত্ন নেন।”
তিনি আরও বলেন, “তার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়নি। একটি মাত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা নিতম্বের হাড়টি আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন। কিন্তু তাকে স্পাইকা কাস্ট পরে থাকতে হয়েছিল। এর মানে হলো, শিশুটিকে আড়াই মাস কাস্ট পরে থাকতে হয়, যা অত্যন্ত কঠিন। শুধু শিশুটিকে অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হয় এবং তারপর সে কাস্ট পরা অবস্থায় ঘুম থেকে ওঠে। কিন্তু শিশুরা মানিয়ে নেয়। এখন কাস্টটি খোলা হয়েছে। আমি এই বিষয়ে একটি বই লিখতে চাই।”
ডেভেলপমেন্টাল ডিসপ্লেসিয়া অফ দ্য হিপ কী?
ডিডিএইচ (DDH) এমন একটি অবস্থা যেখানে শিশু এবং ছোট বাচ্চাদের নিতম্বের ‘বল অ্যান্ড সকেট’ জয়েন্টটি সঠিকভাবে খাপ খায় না। সাধারণ শিশুদের ক্ষেত্রে, নিতম্বের জয়েন্টটি উরুর হাড়কে শ্রোণীচক্রের সঙ্গে সংযুক্ত করে। ফিমারের উপরের অংশটি একটি বলের মতো গোলাকার এবং এটি কাপ-আকৃতির হিপ সকেটের ভিতরে বসে থাকে।
তবে, ডিডিএইচ আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে, নিতম্বের সকেটটি খুব অগভীর হয় এবং ফিমারের মাথাটি শক্তভাবে ধরে রাখতে পারে না। ফলে, নিতম্বের জয়েন্টটি হালকা থাকে। কিছু ক্ষেত্রে, ফিমার সকেট থেকে বেরিয়েও আসতে পারে, যার ফলে ডিসলোকেশন বা স্থানচ্যুতি ঘটে। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ অর্থোপেডিক সার্জনস-এর মতে, ডিডিএইচ (DDH) দ্বারা সৃষ্ট অন্যান্য সমস্যাগুলির মধ্যে রয়েছে:
ডিসলোকেশন: এই ক্ষেত্রে, ফিমারের মাথা অ্যাসিটাবুলামের (acetabulum) মধ্যে থাকে, কিন্তু শারীরিক পরীক্ষার সময় এটিকে সহজেই সকেট থেকে বের করে দেওয়া যায়।
আংশিক ডিসলোকেশন: ডিডিএইচ-এর হালকা ক্ষেত্রে, ফিমারের মাথা সকেটের মধ্যে কেবল আলগা থাকে। শারীরিক পরীক্ষার সময়, হাড়টিকে সকেটের মধ্যে নাড়ানো যায়, কিন্তু এটি স্থানচ্যুত হয় না।
ডিডিএইচ-এর কারণসমূহ: এই অবস্থাটি একটি বা উভয় নিতম্বেই হতে পারে, তবে এটি সাধারণত বাঁ নিতম্বে বেশি দেখা যায়। কিছু নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে যা ডিডিএইচ হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এনএইচএস (NHS) অনুসারে, এই অবস্থাটি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়:
মেয়ে শিশু এবং প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি দেখা যায়। এছাড়া যেখানে বা যেসব পরিবারে শৈশবে নিতম্বের সমস্যা ছিল (বাবা-মা, ভাই বা বোন) এবং গর্ভাবস্থার ২৮ সপ্তাহ পর ব্রিচ পজিশনে (পা বা নিতম্ব নিচের দিকে) জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ডিডিএইচ (DDH)-এর লক্ষণ
নিতম্ব স্থানচ্যুত হওয়া কিছু শিশুর ক্ষেত্রে কোনও বাহ্যিক লক্ষণ দেখা যায় না। তবে, আপনার শিশুর মধ্যে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা গেলে, আপনার শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
১) পা দুটির দৈর্ঘ্য ভিন্ন হওয়া
২) উরুতে ত্বকের ভাঁজ অসমান হওয়া
৩) একদিকে নড়াচড়া বা নমনীয়তা কম থাকা
৪) খোঁড়ানো, পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে হাঁটা, বা টলমল করে হাঁটা
ডিডিএইচ (DDH) নির্ণয়
এনএইচএস (NHS) অনুসারে, নবজাতকের শারীরিক স্ক্রিনিং পরীক্ষার অংশ হিসেবে জন্মের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এবং আবার ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ বয়সে শিশুর নিতম্ব পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষার মধ্যে আপনার শিশুর নিতম্বের জয়েন্টগুলো আলতোভাবে নাড়িয়ে কোনও সমস্যা আছে কিনা তা পরীক্ষা করা অন্তর্ভুক্ত। যদি কোনও ডাক্তার, ধাত্রী বা নার্সের মনে হয় যে আপনার শিশুর কোমর অস্থিতিশীল, তাহলে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ বয়সের মধ্যে তার কোমরের একটি আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান করানো উচিত। এছাড়াও, ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ বয়সের মধ্যে শিশুদের কোমরের আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান করানো উচিত যদি আপনার পরিবারে কি শৈশবে নিতম্ব-সংক্রান্ত কোনও থেকে থাকে।
এছাড়া গর্ভাবস্থার ২৮ সপ্তাহ অতিক্রান্ত হওয়ার পর আপনার শিশুটি ‘ব্রিচ পজিশন’ বা উল্টো অবস্থানে (পা অথবা নিতম্ব নিচের দিকে রেখে) জন্মগ্রহণ করেছে এবং আপনার যদি যমজ বা একাধিক সন্তান হয়ে থাকে এবং তাদের মধ্যে অন্তত একটি শিশু ‘ব্রিচ পজিশন’-এ থেকে থাকে, তবে প্রতিটি শিশুর বয়স ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ হওয়ার আগেই তাদের নিতম্বের একটি আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান করানো উচিত।
যদি এই সমস্যাটির প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসা না করা হয়, তবে তা বেশ কিছু জটিলতাগুলোর সৃষ্টি করতে পারে। তার মধ্যে রয়েছে, চলাফেরায় সমস্যা—উদাহরণস্বরূপ, খুঁড়িয়ে হাঁটা, ব্যথা, নিতম্ব ও মেরুদণ্ডে অস্টিওআর্থ্রাইটিস (হাড়ের সন্ধির প্রদাহ)। তবে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে, শিশুদের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় এবং তাদের স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
