রবীন্দ্র জাডেজাকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করে দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে চাইছে Ganesh Sattu

Ganesh Sattu

তাঁকে কে না চেনে। তিনি যখন মাঠে থাকেন তখন ব্যাটে, বলে, ফিল্ডিংয়ে বাজিমাত করা তাঁর কাজ। তাঁর গোঁফে তা দেওয়া থেকে সাফল্যের সেলিব্রেশন, সবেতেই রয়েছে রাজকীয় ব্যাপার। এহেন রবীন্দ্র জাডেজাকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করে এবার বাজিমাত করতে প্রস্তুত গণেশ ছাতু (Ganesh Sattu)। পূর্ব ভারতে জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী পানীয় ছাতুকে জাতীয় বাজারে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে গণেশ কনজিউমার প্রোডাক্টস লিমিটেডের এই উদ্যোগ ঘিরে বুধবার শহরের এক হোটেলের কনফারেন্স রুমে হয়ে গেল বিশেষ অনুষ্ঠান। যদিও আইপিএল চলায় উপস্থিত থাকতে পারেননি স্বয়ং জাডেজা। তবে তাঁকে নিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপন চলল মঞ্চের জায়ান্ট স্ক্রিনে।

এদিন গনেশ ছাতুর নতুন টেলিভিশন বিজ্ঞাপনটির উদ্বোধন করা হয় এই অনুষ্ঠানে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ছাতুকে শুধু ঐতিহ্যবাহী পানীয় হিসেবে নয়, বরং আধুনিক, কর্মক্ষমতা-বর্ধক ও প্রোটিনসমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার ডিরেক্টর দেবাংশ মিমানি, সিনিয়র ম্যানেজার (মার্কেটিং) নীতেশ কুমার পাণ্ডে এবং সিনিয়র ম্যানেজার (মডার্ন ট্রেড) রাজা সরকার। বিজ্ঞাপনটি তৈরি করেছে লো লিন্টাস। যেখানে জাডেজার অনফিল্ড সক্ষমতার সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে ছাতুর গুণমানকে। জাডেজার মাঠের পারফরম্যান্সের সঙ্গে দৈনন্দিন পুষ্টির যোগসূত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে ছাতুকে প্রাকৃতিক, দীর্ঘস্থায়ী শক্তির উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা ঐতিহ্য ও আধুনিক জীবনযাত্রার মধ্যে সেতুবন্ধন করে।

বিজ্ঞাপনের ট্যাগ লাইন ‘জাদ্দু কা সাত্তু’—এই ট্যাগলাইনটি ব্র্যান্ডের আকর্ষণ বাড়ানোর পাশাপাশি ‘ন্যাচারাল এনার্জি কা ডেইলি ডোজ’ বার্তাকে সামনে আনে। পণ্যের প্যাকেজিং ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায় প্রোটিনসমৃদ্ধ, প্রিজারভেটিভ-মুক্ত এবং প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

পূর্ব ও উত্তর ভারতে বহুল জনপ্রিয় গনেশ ছাতু (সাত্তু) এখন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। স্বাস্থ্যসচেতন ক্রেতাদের মধ্যে ‘ক্লিন-লেবেল’ ও ঐতিহ্যবাহী পুষ্টিকর খাবারের চাহিদা বাড়ায় প্যাকেটজাত সাত্তুর বাজারও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। শহুরে ক্রেতাদের কাছে এটি সহজলভ্য ও পুষ্টিকর বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে শক্তিশালী উপস্থিতির পাশাপাশি ওড়িশা, উত্তর-পূর্ব ভারত, বিহার ও ঝাড়খণ্ডে ব্যবসা সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে সংস্থা। দিল্লি ও বারাণসীর মতো উত্তর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাজারেও ধাপে ধাপে প্রবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। জেনারেল ট্রেড, মডার্ন রিটেল ও ই-কমার্স—তিন ক্ষেত্রেই উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সংস্থার ডিরেক্টর দেবাংশ মিমানি বলেন, “সাত্তু বরাবরই ভারতের প্রাকৃতিক শক্তির উৎস। এই প্রচারের মাধ্যমে আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে এটিকে আরও প্রাসঙ্গিক ও সহজলভ্য করে তুলতে চাই।”

ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুডস (এফএমসিজি)-এর ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে ঐতিহ্যবাহী ও পুষ্টিগুণে ভরপুর খাদ্যপণ্যগুলিকে নতুনভাবে উপস্থাপনের প্রবণতা বাড়ছে। গণেশ কনজিউমারের এই পদক্ষেপ সেই বৃহত্তর প্রবণতারই প্রতিফলন।

কলকাতাভিত্তিক গণেশ কনজিউমার প্রোডাক্টস লিমিটেড পূর্ব ভারতে একটি শীর্ষস্থানীয় প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্য সংস্থা। ‘গণেশ’ ব্র্যান্ডের অধীনে আটা, ময়দা, ডালিয়া, ছাতু, সুজি, বেসন ও মিলেটস-এর পাশাপাশি মশলা ও ইনস্ট্যান্ট মিক্সের মতো বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে সংস্থাটি।

দৃঢ় ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এবং খুচরো ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির মাধ্যমে সংস্থাটি গুণমান, ধারাবাহিকতা ও সাশ্রয়ী মূল্যের জন্য পরিচিতি গড়ে তুলেছে। এখন ঐতিহ্যবাহী বাজারের বাইরে প্রসার ঘটাতে পণ্য উদ্ভাবন এবং পুষ্টিকর দৈনন্দিন খাদ্যপণ্যের ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থা।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle