উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রকল্প ‘গতি’ নিয়ে উচ্ছ্বসিত Sourav Ganguly

Sourav Ganguly

বাংলার ফুটবলে উত্তর ২৪ পরগনা একটা নাম। দিনের পর দিন ধরে বাংলা তথা ভারতীয় ফুটবলকে পর পর তারকা উপহার দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের এই জেলা। কে নেই সেই তালিকা, তারকা গোলকিপার সুব্রত পাল থেকে স্ট্রাইকার মহম্মদ রফিক। তালিকা করতে বসলে শেষ করা যাবে না। অরিন্দম ভট্টাচার্য, লালকমল ভৌমিক, গৌরাঙ্গ দত্ত, গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, প্রবীর দাস— আরও কত কে। তবে এবার বিষয়টা একটু অন্যরকম। ফুটবলের মঞ্চ থেকে বেরিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা এখন তৈরি করবে ক্রিকেটারও। হ্যাঁ, সেই উদ্যোগই নিয়েছেন জেলার ক্রীড়া প্রশাসনের সচিব নবাব ভট্টাচার্য। আর তাঁর এই তালিকায় রয়েছে বেবি লিগ থেকে বাংলা তথা ভারতের জন্য ফাস্ট বোলার তুলে আনার উদ্যোগ। সেই লক্ষ্যেই বৃহস্পতিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ও সিএবি-র বর্তমান সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Sourav Ganguly) উপস্থিতিতে ঘোষণা হয়ে গেল প্রকল্প ‘গতি’র।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব নবাব ভট্টাচার্য বলছিলেন, ‘‘বাংলার ক্রিকেটকে নতুন প্রতিভা উপহার দিতেই এই উদ্যোগ। জেলা জুড়ে চলবে এই প্রকল্প। ছেলে ও মেয়ে দুটো বিভাগেই নজর দিচ্ছে জেলা সংস্থা। যাদের নিয়ে আগামী জুন মাসে অনূর্ধ্ব ১০ বেবি ক্রিকেট লিগ আয়োজন করা হবে।’’ তার আগে অবশ্য শুরু হয়ে যাবে বাংলার ক্রিকেটকে ফাস্ট বোলার উপহার দেওয়ার প্রকল্প ‘‌গতি’‌। নবাব ভট্টাচার্য বলছিলেন, ‘‘মোট ২০ জন ক্রিকেটারকে বেছে নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন মাঠে প্রশিক্ষণ শিবির হবে। ক্রিকেটার বাছাইয়ের দিন ঠিক করা হয়েছে ৯ ও ১০। অনূর্ধ্ব ১৫ ও ১৭ বছরের ছেলে ও মেয়েকে বেছে নেওয়া হবে এই ‘গতি’ প্রকল্পকে।’’


এই উদ্যোগে চিফ কোচের ভূমিকায় থাকছেন বাংলার হয়ে রঞ্জি খেলা ফাস্ট বোলার সাগরময় সেন শর্মা। সঙ্গে বাংলারই ক্রিকেটার একলাখ আহমেদ, জয়ন্ত ঘোষ দস্তিদার, সনৎ ভট্টাচার্যরাও। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও কথা দিলেন, সময় সুযোগ করে হাজির হবে। বাংলার ক্রিকেট মানেই তো একটাই মুখ, তিনি সৌরভ। তাই তাঁর উপস্থিতি এই উদ্যোগকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে নিশ্চিত। নবাব ভট্টাচার্যের এই উদ্যোগের পাশে তিনি ও সিএবি সবসময় থাকবেন বলেও জানালেন সৌরভ। তবে শুধু ফাস্ট বোলার নয়, স্পিন বোলার তৈরির পথে হাঁটার উপদেশও দিলেন তিনি। তাঁর মতে, টি২০ ক্রিকেট হোক বা আইপিএল, দুই ধরনের বোলারেরই সমান গুরুত্ব এখন।

সৌরভ বলেন, ‘‘ভালো ক্রিকেটার উঠে আসবে কিনা সেটা শুধু পরিকাঠামো, কোচ বা কোচিংয়ের উপর নির্ভর করে না। একটা সময় এত কিছু ছিল না তবু অনেক ভালো ক্রিকেটার তৈরি হয়েছে। আসল হল নিজের ইচ্ছে, অধ্যাবসয়— সেটা না থাকলে কখনও সফল হওয়া যাবে না। সঙ্গে দরকার অভিভাবকদের বড় অবদান।’’ এই প্রসঙ্গে নিজের ছোটবেলার কথাও ভাগ করে নেন তিনি। যখন মা পড়াশোনা বাবা খেলাধুলো নিয়ে বেশি চাপ দিতেন। সঙ্গে নিজের ক্রিকেটার জীবনে খেলা সব থেকে কঠিন ফাস্টা বোলারকেও চিনিয়ে দেন তিনি।

বলেন, ‘‘জীবনে অনেক ফাস্ট বোলারের মুখোমুখি হলেও সবচেয়ে বেশি কঠিন ছিল গ্লেন ম্যাকগ্রাথকে খেলা। শোয়েব আখতারের ক্ষেত্রে ও ওরশোয়েব ওর কাজটা করত, আর আমি রান করতাম। আর একটা সময়ের পর বোলার কে, সেটা নিয়ে ভাবতাম না। বরং লক্ষ্য থাকত, কত বেশি রান করা যায়।’’ শুধু নিজের কথা নয়, বর্তমান ক্রিকেট থেকে কেকেআর, এমনকি শ্রেয়স আইয়ার থেকে বৈভব সূর্যবংশী সবাইকেই নিয়ে অকপটে কথা বলেছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর মতে, শ্রেয়সকে যেমন এখনই টি২০ ও ৫০ ওভারের ভারতীয় সিনিয়র দলে নেওয়া উচিত, তেমনই বৈভবকে আয়ারল্যান্ড সফরের দলে রাখা উচিত।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle