পরিকল্পনার অভাব ইস্টবেঙ্গলে, দায়িত্ব ছাড়ছেন Oscar Bruzon, কী জানাল ইমামি

Oscar Bruzon

অতীতে ক্লাব কর্তাদের প্রতি বিরক্তির কথা বলে তাদের রক্তচক্ষুর সামনে পড়তে হয়েছিল অস্কার ব্রুজোঁ (Oscar Bruzon)-কে। তার পর তিনি যাতে মুখ না খোলে বা কোনও বিতর্কীত কথা বলে না ফেলেন সে কারণে চোখে চোখেও রাখা হত তাঁকে। অনেক প্রশ্ন আটকে দেওয়া হত মিডিয়া ম্যানেজারের পক্ষ থেকে। তবে একজন সফল কোচ কেন এই সব প্রতিবন্ধকতা মেনে নেবেন? যার হাত ধরে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে দল তাঁকে চেপে দেওয়ার চেষ্টা মেনে নেননি ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। যার ফল মুম্বইয়ের খেলতে যাওয়ার আগেই বোমা ফাটিয়ে গেলেন তিনি। রবিবার প্রি-ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে এসে তিনি জানিয়ে দিলেন, পরের মরসুমে আর ইস্টবেঙ্গলের কোচের দায়িত্বে থাকবেন না তিনি। তিনি তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা ইতিমধ্যেই ক্লাব ও দ‌লকেও জানিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ দিন অস্কার বলেন, “আমি জানাতে চাই যে, ৩১ মে, মরসুম শেষ হওয়ার পর আর কোচ হিসেবে এখানে থাকতে চাই না। এখনও তিন সপ্তাহ হাতে আছে, সেই সময় নিজের জীবন, ঘাম, সমস্ত পরিশ্রম উজাড় করে দিতে চাই যাতে ইস্টবেঙ্গল ভালো জায়গায় শেষ করতে পারে।’’ এর সঙ্গে তিনি এও জুড়ে দেন,  ‘‘এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আমার নিজের। প্রায় দু’বছর ইস্টবেঙ্গলে রয়েছি। ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গল ভারতের অন্যতম সেরা, ঐতিহ্যশালী ক্লাব।’’ পাশাপাশি সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। বলেন,  ‘‘আমি সমর্থকদের কাছে ঋণী। ভাল এবং খারাপ সময়ে ওঁরা পাশে থেকেছেন যা আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাসী করেছে।”


অস্কার বার বারই বলার চেষ্টা করেন তাঁর ক্লাবের কোচের দায়িত্ব ছাড়ার পিছনে কোনও চাপ বা সমস্যা নেই। তবে এর পিছনে যে ক্লাবের পরিকল্পনার অভাব মূল কারণ তা স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।  এই মরসুমের পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে। এবং সবটার মধ্যেই ছিলেন ইমামি কর্তা বিভাস আগরওয়াল। কোন ফুটবলার নেওয়া হবে, কী পজিশনে নেওয়া হবে, কোথায় আরও নজর দিতে হবে সবই বিভাস আগরওয়ালের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি করতেন বলে দাবি করেছেন অস্কার ব্রুজোঁ।

তাঁর অভিযোগ তার পরও দলে পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। তবে দলের সাফল্য ও ব্যর্থতা সবটাই যে তাঁর তাও তিনি মেনে নিয়েছেন। অস্কার বলেন, “এ বছর দলের যা পারফরম্যান্স, তার দায় আমার। এ বছরের পরিকল্পনা আমি গত বছর শুরু করেছিলাম। এখন মে মাস। পরের মরসুমে জন্য এখনও কোনও পরিকল্পনা তৈরি হয়নি। কোনও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেই, দূরদৃষ্টি নেই। দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ক্লাবের কেউ কথা বলেনি।” যা মেন নিতে পারছেন না তিনি। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা না হলে কখনওই যে সাফল্য আসতে পারে না তা বার বারই বলেছেন তিনি। তিনি সব সময়ই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় বিশ্বাসী। গত বছর থেকে যখন আইএসএল নিয়ে টালমাটাল অবস্থা তখনও অনুশীলনে নেমে পড়েছিলেন তিনি। মরসুমে সবার আগে অনুশীলন শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল। এবারও তিনি তেমনটাই চেয়েছিলেন। কিন্তু ক্লাব বা স্পনসর সংস্থার তরফে গাছাড়া ভাব তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে যে বাধ্য করেছে তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।

তবে আরও একটা প্রশ্ন খুব জোড়ালভাবে উঠছে। মরসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যখন ইস্টবেঙ্গল জয়ে ফিরেছে, ভালো জায়গায় রয়েছে এমনকি চ্যাম্পিয়নশিপও দেখা যাচ্ছে, সেখানে মুম্বইয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলতে যাওয়ার আগে তাঁর এই ঘোষণা দলের খেলারর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও অস্কার বলছেন তেমন কিছু হবে না কারণ পুরো দলই অনিশ্চয়তায় ভুগছে। তিনি বলেন, “আমাদের সব খেলোয়াড়ই অনিশ্চয়তায় ভুগছে। ওরা জানেই না এই ওদের কী ভবিষ্যৎ, আদৌ এই ক্লাবে থাকবে কিনা। মাত্র এক মাস বাকি রয়েছে মরসুম শেষ হতে। ওদের সঙ্গে কেউ এখনও কথাই বলেনি। এই পরিস্থিতিতে আপাতত বাকি চারটে ম্যাচ নিয়েই ভাবছে ওরা।”

তবে ফুটবলারদের ক্ষেত্রে এই চারটি ম্যাচ তাঁদের জন্যও ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইস্টবেঙ্গল ক্লাব কী করবে তাঁদের নিয়ে আগামী তা জানা না থাকলেও তাঁদের পারফর্মেন্স তাঁদের জন্য অন্য ক্লাবের দরজা খুলে দিতে পারে। যদিও ভারতীয় ফুটবলই এখন ডামাডোলে। সেখানে কোন ক্লাবই বা ফুটবলারদের ভরসা দেবে।

এদিকে অস্কার ব্রুজোঁ বোমা ফাটানোর পর প্রেস রিলিজ দিয়ে সব দায় ফেডারেশনের কাঁধেই চাপিয়েছে ইস্টবেঙ্গলের স্পনসর সংস্থা ইমামি। তাদের পক্ষ থেকে অস্কার ব্রুজোঁর অভিযোগেরই জবাব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছে, ফেডারেশন পরবর্তী মরসুম নিয়ে এখনও কিছু ঘোষণা না করায় তারা দল গোছানো শুরু করতে পারেনি। তারা এও বলেছে, যখন গত মরসুমের টালমাটাল অবস্থার মধ্যে সব দল বেতন কমাতে বাধ্য হয়েছিল তখনও তেমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি ইমামি ইস্টবেঙ্গল।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle