Jose Ramirez Barreto-র হাতেই তৈরি হবে তমলুক খেলাঘর জর্জ টেলিগ্রাফের নতুন প্রজন্ম

Jose Ramirez Barreto

তিনি এসেছিলেন সুদূর সেই ব্রাজিল থেকে কয়েক যুগ আগে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কখন যেন এই দেশের, তার থেকেও বেশি এই রাজ্যে, এই শহরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জরিয়ে পড়েন। ফেরেন দেশে, কিন্তু থেকে গিয়েছেন এই দেশেই। খেলা ছাড়ার পর কখনও মুম্বইয়ে গিয়ে কোচিংয়ে হাত পাকিয়েছেন আবার কখনও কলকাতায় ফিরে বিএসএল-এ দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। সেই হোসে র‍্যামিরেজ ব্যারেটোই (Jose Ramirez Barreto) এখন যুক্ত হলেন আরও এক উদ্যোগের সঙ্গে। এবার তাঁকে দেখা যাবে তমলুক খেলাঘর জর্জ টেলিগ্রাফের কোচ হিসেবে। মঙ্গলবার জর্জ টেলিগ্রাফ তাঁবুতে ব্যারেটোকে সঙ্গে নিয়েই এই উদ্যোগের কর্তৃপক্ষরা ঘোষণা করে দিলেন তাঁর নাম। সংবাদ মাধ্যমের সামনেই চুক্তিতে সই করলেন ব্যারেটো।

মোহনবাগানের প্রাণ ভোমরাকে এই ক্লাবে নিয়ে আসা, তারও আগে জর্জ টেলিগ্রাফের সঙ্গে তমলুক খেলাঘরের গাটছড়া বাধার পিছনে যার সব থেকে বড় ভূমিকা সেই সুমন দত্ত একসময় দাপিয়ে খেলেছেন কলকাতা ময়দানে। মোহনবাগানে খেলার সময়ই ব্যারেটোর সঙ্গে কীভাবে যেন ইকুয়েশনটা তৈরি হয়ে গিয়েছিল, যা আজও অটুট। সে কারণে বিএসএল-এর দলে যখন ব্যারেটো কোচ হয়ে যোগ দিয়েছিলেন, তখন সহযোগী হিসেবে ডেকে নিয়েছিলেন সুমনকে। আর এবার সুমনের দৌলতে যখন এই উদ্যোগ তখন তিনিও ব্যারেটোকে ডেকে নিতে ভোলেননি। মনে করা যেতেই পারে এই সুমন-ব্যারেটো জুটি বাংলার ফুটবলে নতুন করে ফুল ফোটাবে।


এদিন সময়ের অনেকটা পরেই অবশ্য সাংবাদিক সম্মেলনে এলেন ব্যারেটো। এসেই তাঁর চিরাচরিত অমায়িক ভঙ্গিতে ক্ষমাও চেয়ে নিলেন দেরি করার জন্য। তার পরই একের পর এক প্রশ্ন ধেয়ে এল তাঁর দিকে। কখনও কখনও তো অবাক হয়ে এটাও বললেন, ‘‘এই প্রশ্নগুলো আমাকে কেন করা হচ্ছে।’’ তবে সামনে যখন ব্যারেটো তখন বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল থেকে আইএসএল-এ ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান নিয়ে প্রশ্ন তো থাকবেই। কারণ তাঁর মতামত এখনও কলকাতার ফুটবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতা ময়দান তথা মোহনবাগান ক্লাবের সর্বকালের অন্যতম সেরা বিদেশি তিনিই। এবার কলকাতা ময়দানে কোচের ভূমিকায়।  এই ব্রাজিলীয় তারকা এবার প্রথমবারের মতো কলকাতা ময়দানে কোচ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন।

ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যারেটোর সঙ্গে এক বছরের চুক্তি করা হয়েছে। নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করে ব্যারেটো বলেন, “তমলুক খেলাঘর জর্জ টেলিগ্রাফের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের সঙ্গে কাজ শুরু করতে পেরে আমি গর্বিত। ফুটবলার হিসেবে ময়দান আমাকে অনেক ভালোবাসা দিয়েছে। এবার কোচ হিসেবে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।”

ব্যারোটোর ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ঘোষণা করে ক্লাবের যুগ্মসচিব তথা আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত বলেন, “আমাদের বিশ্বাস, ব্যারেটোর অভিজ্ঞতা ও ফুটবল দর্শন দলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। তমলুক খেলাঘর জর্জ টেলিগ্রাফ সবসময়ই নতুন প্রতিভা ও নতুন ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে।” ক্লাবের এক্সিকিউটিভ সচিব অনিন্দ্য দত্ত বলেন, “তমলুক খেলাঘর জর্জ টেলিগ্রাফ এই মরসুমে কলকাতা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগে অংশগ্রহণ করবে এবং প্রতিযোগিতায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

প্রায় একমাস আগে এই গাটছড়া বাধার কথা ঘোষণা করেছিল ক্লাব। তখনও ব্যারেটোর আগমন নিশ্চিত হয়নি। একমাসের মধ্যেই প্রস্তুতি সারা। এবার শুধু মাঠে নেমে পড়ার অপেক্ষা। ব্যারেটোও জানিয়ে দিলেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই কাজ শুরু করে দেবেন তিনি। তাঁর হাত ধরেই কলকাতা ময়দানে খেলার স্বপ্ন দেখবেন তমলুক, মেদিনীপুরের নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা। যাদের মঞ্চ হয়ে উঠবে শতবর্ষ প্রাচীন জর্জ টেলিগ্রাফ ফুটবল ক্লাব।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle