Kangra Valley Railway চার বছর পর আবার যাত্রা শুরু করল

Kangra Valley Railway

দীর্ঘ বিরতির পর, যা হিমাচল প্রদেশের অন্যতম মনোরম রেলপথটিকে থমকে রেখেছিল, কাংড়া ভ্যালি রেলওয়ে (Kangra Valley Railway) অবশেষে তার পরিষেবা পুনরায় চালু করেছে, যা নিম্ন হিমালয়ের এক বহু আকাঙ্ক্ষিত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ফিরিয়ে এনেছে। ঔপনিবেশিক আমলের এই ন্যারো-গেজ লাইনটি, যা পঞ্জাবের পাঠানকোটকে হিমাচল প্রদেশের যোগিন্দরনগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে। মঙ্গলবার থেকে আবার চলতে শুরু করেছে। এটি স্থানীয় বাসিন্দা এবং এই স্বল্প পরিচিত পাহাড়ি যাত্রাপথটিকে পুনরুদ্ধারের ফলে স্থানীয়যাত্রী ও ভ্রমণকারী উভয়ের জন্য স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

২০২২ সালে প্রবল বর্ষার কারণে তৈরি হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ফলে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় এই ঐতিহাসিক লাইনে প্রায় চার বছর ধরে পরিষেবা স্থগিত ছিল। প্রতিবেদন অনুসারে, এই পুনরুজ্জীবন পঞ্জাব এবং হিমাচল প্রদেশের মধ্যে রেল সংযোগ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং একই সঙ্গে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত একটি অনন্য ভ্রমণ করিডোরে প্রবেশের পথ পুনরায় খুলে দিয়েছে। কাংড়া ভ্যালি রেলওয়ে প্রায় ১৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এটি হিমাচলের দীর্ঘতম টয় ট্রেন পথ।


কাংড়া, নুরপুর, জ্বালামুখী এবং পালামপুরের মতো শহরগুলিতে ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ায় এটিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। অনেক স্থানীয় বাসিন্দার জন্য, রেলপথ কেবল একটি মনোরম যাত্রাই নয়, এটি একটি অপরিহার্য এবং সাশ্রয়ী পরিবহন মাধ্যমও বটে। যাত্রীরা সড়ক ও রেলের ভাড়ার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন। যেখানে যোগিন্দরনগর পর্যন্ত বাসে যেতে প্রায় ৩৯২ টাকা খরচ হতে পারে, সেখানে ট্রেনের টিকিটের দাম জনপ্রতি প্রায় ৪০ টাকা, যা এটিকে অনেক বেশি সাশ্রয়ী একটি বিকল্প করে তুলেছে। আশা করা হচ্ছে, এই পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ায় নিত্যযাত্রী এবং এই অঞ্চলে ঘুরতে আসা পর্যটকরা উপকৃত হবেন।

২০২২ সালের বর্ষার মরসুমে কাংড়া ভ্যালি রেলওয়েতে ট্রেন পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়, কারণ প্রবল জলস্রোতের কারণে চাক্কি নদীর উপর রেলসেতুটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এর ফলে পঞ্জাব এবং হিমাচল প্রদেশের কিছু অংশের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা ভ্রমণ এবং স্থানীয় চলাচল উভয়কেই প্রভাবিত করেছিল।

হামিরপুরের সাংসদ ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর এবং রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভরদ্বাজ কাংড়া রেল স্টেশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেরামত করা লাইনটি পুনরায় চালু করেন।

পুনরায় চালু হওয়া পরিষেবার প্রথম দিনে সকালে পাঠানকোট সিটি ন্যারো গেজ রেল স্টেশন থেকে সাতটি কোচের দু’টি ট্রেন যাত্রা শুরু করে। সকাল ৫টায় ৬২৪৬৫ নম্বর ট্রেনটি ছাড়ে এবং এরপর সকাল ৭টায় ৫২৪৬৭ নম্বর ট্রেনটি ছাড়ে। হিমাচল প্রদেশ থেকে সকাল ৮:৩০ মিনিটে কাংড়া রেল স্টেশন থেকে পরিষেবা শুরু হয়, যা এই রুটের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে সংযোগ পুনরুদ্ধার করে।

কাংড়া ভ্যালি রেলওয়ে সমভূমি, উপত্যকা এবং পর্বতের পাদদেশের বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রকৃতির মধ্যে দিয়ে এক আরামদায়ক ভ্রমণের সুযোগ করে দেয়। যা ব্রিটিশ শাসনকালে ১৯২৯ সালে চালু হওয়া এই লাইনটি জ্বালামুখী ও বৈজনাথের মতো মন্দির শহর এবং পালামপুরের মতো পর্যটন কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যকে সংযুক্ত করে।

এই পথে ট্রেনটি বিয়াস নদীর উপর অবস্থিত পং বাঁধ জলাধারের পাশ দিয়ে চলে, চা বাগান ও ছোট ছোট গ্রাম অতিক্রম করে এবং ধীরে ধীরে পাহাড়ের দিকে এগিয়ে যায়।

হিমাচল প্রদেশ বললেই সাধারণত কালকা-শিমলা টয় ট্রেনের কথা মনে পড়ে, তবে কাংড়া ভ্যালি লাইনটি ভ্রমণের জন্য এক শান্ত ও মনোমুগ্ধকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। শিমলা রুটের খাড়া চড়াই-উতরাই বা সুড়ঙ্গের তুলনায় এই রেলপথটি অপেক্ষাকৃত সমতল ও মনোরম ভূপ্রকৃতির মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলে। যাত্রাপথে প্রতিনিয়ত বদলাতে থাকা দৃশ্যাবলীর মধ্যে রয়েছে ফসলের মাঠ, পাহাড়ি ঝর্ণা, দূরবর্তী গ্রাম এবং ঐতিহাসিক সব বাজার-শহর।

৯০০-এরও বেশি সেতু পার হলেও এই পথে সুড়ঙ্গের সংখ্যা বেশ কম, ফলে যাত্রীরা আশেপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্যের নিরবচ্ছিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। শিমলা টয় ট্রেনের তুলনায় কম পরিচিত হলেও, রেল-প্রেমীদের কাছে এই রুটটি দীর্ঘকাল ধরেই অত্যন্ত জনপ্রিয়।

পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ায়, পর্যটকদের কাছে হিমাচল প্রদেশের ভিড়ভাট্টা-পূর্ণ গন্তব্যগুলোর বাইরে নতুন কোনও স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্ষাকাল বা তার পরবর্তী সময়ে—যখন প্রকৃতি হয়ে ওঠে সজীব ও প্রাণবন্ত—তখন এই পথে ভ্রমণের পরিকল্পনা করাটা বিশেষ সুবিধাজনক।

যারা পাহাড় ভ্রমণের প্রচলিত ধারার বাইরে ধীরগতির ও মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ্য কোনও বিকল্প খুঁজছেন, তাদের জন্য উত্তর ভারতের অন্যতম সুন্দর অথচ কম আলোচিত অঞ্চলের মধ্যো দিয়ে যাওয়া এই পুনরুদ্ধারকৃত টয় ট্রেন রুটটি এক চমৎকার অভিজ্ঞতার ডালি সাজিয়ে অপেক্ষা করছে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle