মোহনবাগানের দুর্বলতা আছে, আমি তো সেটাকেই কাজে লাগাব: অস্কার ব্রুজোঁ

সুচরিতা সেন চৌধুরী: শহর থেকে দূরে সেন্টার অফ এক্সিলেন্সের মাঠে নিয়মিত অনুশীলন করে ইস্টবেঙ্গল। ইট, কাঠ, পাথুরে শহুরে আবহাওয়া থেকে কিছুটা যেন প্রকৃতির মাঝেই দলকে নিয়ে এই মরসুমের প্রস্তুতি সারা। সব সময় সংবাদ মাধ্যম সেখানে গিয়েও পৌঁছতে পারে না। আর সেটাই চান কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। গত বছর বার বার তাঁর পরিকল্পনা নাকি বেরিয়ে পড়েছে সর্বসমক্ষে। তাই এবার যেন গোপনীয়তাটা আরও বেশি, ডুরান্ড কাপ ২০২৫-এর ডার্বির আগে সেটা স্বীকার করে নিলেন অস্কার। বলেই দিলেন, “আমাদের দলে এবার অনেক নতুন প্লেয়ার। অন্য মডেলে খেলার পরিকল্পনা করছি। তাই আমার অনুশীলন সবার সামনে আনতে পারব না। আগে বার বার আমাদের পরিকল্পনা সবাই জেনে গিয়েছে।”

শুধু কী তাই? মোহনবাগানের দুর্বলতাও বলতে নারাজ অস্কার ব্রুজোঁ। তিনি এমনিতে খুবই স্পষ্ট বক্তা। তাই সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়েও অকপট। “আমি মোহনবাগানের শক্তি নিয়ে বলতে পারি কিন্তু দুর্বলতা নিয়ে বলব না, কারণ সেটাকেই তো আমি কাজে লাগাব।” তবে মোহনবাগানের এতদিনের খেলা দেখে তাদের যে দুর্বলতা রয়েছে কিছু জায়গায় তাও মেনে নিলেন। বললেন, “অবশ্যই দুর্বলতা আছে।”


তাহলে মোহনবাগানের শক্তির দিকটাই জানা যাক কোচের তরফে। তা নিয়ে অবশ্য বলতে তাঁর কোনও অনীহা নেই। “মোহনবাগান খুব ভালো দল। ওরা পুরনো দল ধরে রেখেছে। কাউন্টার আক্রমণে বেশি ওঠে। ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। মোহনবাগান দল অভিজ্ঞ। আমরা কিন্তু নতুন দল, আমাদের সামনে কঠিন লড়াই। আগামীকাল আমাদের সামনে সুযোগ নিজেদের প্রমাণ করার, আমরা কতটা আগের থকে উন্নতি করতে পেরেছি সেটা দেখার। মোহনবাগান এমন একটা দল যারা পুরো সময় ম্যাচে না থেকেও একটা শটে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে।”

এদিকে জয় গুপ্তা দলের সঙ্গে অনুশীলন করলেও তিনি ডাবি খেলবেন কি না ততা নিয়ে সংশয় রেখে গেলেন কোচ। বলছিলেন, “ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টা আগে সাধারণত রেজিস্ট্রেশন করাতে হয়। সেদিক থেকে দেখতে গেলে সম্ভাবনা কম।” এদিকে বিষ্ণু পুর ফিট নন সেটাও জানিয়ে দিলেন। সঙ্গে এও জানিয়ে দিলেন, বেঞ্চে থাকতে পারেন বিষ্ণু।

তবে মেনে নিলেন, ডার্বি সব সময়ই আলাদা ম্যাচ যার জন্য তাঁর দল তৈরি। ডুরান্ডে এখনও পর্যন্ত নিজেদের প্রমাণ করছে ইস্টবেঙ্গল। প্রাথমিকভাবে এবারের দলকে বেশ শক্তিশালী দেখাচ্ছে। স্বপ্ন দেখছেন সমর্থকরা। তাদের জন্যই এই ডার্বি জিততে চাইবেন কোচ। সঙ্গে দলের নবাগত বিদেশি রশিদের বাবার অকাল প্রয়াণে তাঁকে ছাড়াই দল নামাতে হবে। যা কোচের কাছে হতাশার। তবে তাঁর এই পরিস্থিতি নিয়ে বেশি আলোচনা করতে চাইছেন না কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। বরং বাংলায় সৌভিক চক্রবর্তীর বলা কোটের রেশ ধরে বুঝিয়ে দিলেন বাংলাটাও তিনি ভালোই বোঝেন।

বলেন, “আমি বাংলা বুঝি, সৌভিক যেটা বলল ডার্বি ৫০-৫০। আগামীকালের ম্যাচ একদম আলাদা, আমরা এই ম্যাচ নিয়ে খুব সিরিয়াস। জয় ছাড়া কিছু ভাবছি না।”

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle