দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের করা একটি জরুরি আবেদনে বলা হয়েছে যে, আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk) তাঁর অনির্দিষ্টকালের অনশন চালিয়ে গেলে আর দু’দিনের বেশি বাঁচবেন না। বর্তমানে তাঁর অনশনের ১৮তম দিন চলছে। আবেদনে বলা হয়েছে যে, ‘‘রাষ্ট্র এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নয় এবং সংবেদনহীন আচরণ করছে।’’ এতে ওই আন্দোলনকারীকে জোরপূর্বক খাওয়ানোর নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, তিনি নিট পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন।
দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছে, আগামীকাল এই আবেদনের শুনানি হবে।
হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা কর্মবিরতি চলাকালীন কর্তৃপক্ষের পক্ষে কেউ উপস্থিত না থাকায়, প্রধান বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ জনস্বার্থ মামলাটির শুনানি স্থগিত রাখে। দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছে, ‘‘ভারত সরকারের পক্ষে কেউ উপস্থিত নেই। আমরা আবেদনটি গ্রহণ করছি। আমরা আগামীকালই বিষয়টি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করব এবং তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ নিতে বলব। আমরা রেজিস্টারকে বলব আজই কর্তৃপক্ষের কাছে এই আদেশ পৌঁছে দিতে।’’
আইনজীবী রাকেশ কুমার সাইনির দায়ের করা এই আবেদনটি এমন এক সময়ে এল যখন ৫৯ বছর বয়সী ওই আন্দোলনকারীর শরীরের ওজন প্রায় ৮.৫ কেজি কমে গিয়েছে । আবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘সহজ সমাধান হল তাঁকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং তরল খাবারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ জোরপূর্বক খাওয়ানো, যা মানবদেহের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।’’
আবেদনকারী যুক্তি দেন যে, ‘‘সর্বজনীন স্থানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা নাগরিকদের একটি মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। তাতে এভাবে যদি তিনি প্রাণ যায়, তবে তা দেশ ও বিশ্বের কাছে অত্যন্ত লজ্জাজনক বিষয় হবে। রাষ্ট্র নিজের চোখের সামনে দেশের কোনও নাগরিককে স্বেচ্ছায় অনাহারে মৃত্যুবরণ করতে দেবে—এমনটা আদালত হতে দেবে না।’’
আবেদনকারী অভিযোগ করেন যে, সরকার ওই আন্দোলনকারীর সঙ্গে “কট্টর অপরাধী, সন্ত্রাসী বা দেশদ্রোহীর মতো” আচরণ করছে এবং তাঁর বিষয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নয়।
আবেদনকারী বলেন, ‘‘এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় যে, ভারত সরকার এবং এনসিটি দিল্লি সরকার এই উদ্বেগজনক ও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত বলে মনে হচ্ছে না; অথচ তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থমূলক বিষয় এবং শিক্ষা ও কোটি কোটি শিক্ষার্থীর গভীর উদ্বেগের একটি বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছেন।’’ আবেদনকারী আরও যুক্তি দেন যে, ‘‘সরকারের এই ব্যর্থতা কার্যত আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার শামিল হবে।’’
‘ককরোচ জনতা পার্টি’—যারা নিজেদের “তরুণদের দ্বারা, তরুণদের জন্য এবং তরুণদের রাজনৈতিক মঞ্চ” হিসেবে পরিচয় দেয়—তাদের আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পর থেকে গত ২৮ জুন থেকে ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk) অনির্দিষ্টকালের অনশন পালন করছেন।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
