দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে ২৭ বছর। তবুও স্মৃতি ঝাঁপসা হয়নি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর বীরত্বগাথা স্মরণ করতে গেলে সবার উপরে উঠে আসে কার্গিল বিজয় দিবস (Kargil Vijay Diwas)-এর কথা। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্গিল যুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করা বীর সেনাদের ঋণ কখনও শোধ করা সম্ভব নয়। তাই প্রতিবছর এই দিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেমন পালিত হয় বিজয় উৎসব, তেমনই উঠে আসে বীর শহিদদের কথা। দুই মাস তিন সপ্তাহব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৫২৭ জন বীর সেনার আত্মবলিদানের বিনিময়ে পাকিস্তানের দখলে চলে যাওয়া একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ চূড়া ও অবস্থান পুনর্দখল করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেই যুদ্ধেই দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছিলেন কলকাতার টালার সন্তান, ক্যাপ্টেন কনাদ ভট্টাচার্য।
১৯৯৯ সালের ২১ মে বিকেল থেকে শিখ রেজিমেন্টে কর্মরত ক্যাপ্টেন কনাদ ভট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁর টালার পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জন্ম থেকে মামার বাড়িতেই বেড়ে ওঠা জয়পুরিয়া কলেজের এই প্রাক্তন ছাত্রের স্বপ্ন ছিল, যুদ্ধ জিতে ফিরে এসে মা পূর্ণিমা দেবীর হাতে নিজের বীরত্বের পদক তুলে দেবেন। কিন্তু মাত্র ২৪ বছর বয়সী সেই তরুণের খোঁজ মেলেনি টানা প্রায় দু’মাস। অবশেষে ১৫ জুলাই খবর আসে, টাইগার হিলে উদ্ধার হয়েছে জঙ্গিদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া তাঁর মরদেহ। ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় কফিনবন্দি অবস্থায় কলকাতায় ফিরে আসে শহীদের নিথর দেহ।
কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে রবিবার সকালে টালায় শহীদ ক্যাপ্টেন কনাদ ভট্টাচার্যের বাড়িতে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। শহীদের স্মৃতির উদ্দেশে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে টালা ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশন। সমাজসেবী নবরতন ঝাওয়ার এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শহীদ ক্যাপ্টেন কনাদ ভট্টাচার্যের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্মৃতিচারণ করেন তাঁর নেতৃত্বে কার্গিল যুদ্ধে দায়িত্ব পালন করা শিখ রেজিমেন্টের একাধিক সেনাসদস্য। তাঁরা নতুন প্রজন্মের সামনে ক্যাপ্টেন কনাদের সাহস, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং আত্মত্যাগের আদর্শ তুলে ধরেন।
এই মঞ্চ থেকেই নতুন প্রজন্ম’কে দেশপ্রেম এবং আদর্শের শিক্ষা দিয়ে যান রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
