মুর্শিদাবাদের পর এবার নদিয়ার চাকদার শ্রীনগরে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হলো জুট দিবস ২০২৬ (Jute Day 2026)। গত বছর মুর্শিদাবাদে এই অনুষ্ঠানে যে ব্যাপক সাড়া মিলেছিল, তারই প্রতিফলন দেখা গেল নদিয়ার চাকদহের এদিনের অনুষ্ঠানেও। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পাটচাষি, কৃষি বিশেষজ্ঞ, আধিকারিক এবং পাট শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
একসময় বাংলার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল পাট। আজও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় দেশ-বিদেশে পাটের চাহিদা বাড়ছে। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে বিশ্বের বহু দেশ এখন পাটজাত পণ্যের উপর জোর দিচ্ছে। কারণ, পাট সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক একটি উপাদান এবং সহজেই মাটিতে মিশে যায়। ফলে পরিবেশ দূষণও অনেকটাই কম হয়। সেই কথা মাথায় রেখেই পাট চাষিদের আরও উৎসাহ দিতেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের যুগ্মসচিব শ্রীমতি পদ্মিনি সিংলা, জুট কর্রপোরেশন অফ ইন্ডিয়া (JCI)-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস কে পানিগ্রাহী, জেসিআই-এর ফিন্যান্স ডিরেক্টর কৌশিক রক্ষিত, জুট কমিশনার নিরাজ কুলহারি এবং ন্যাশনাল জুট বোর্ডের সচিব শশীভূষণ সিং।
অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাট চাষিদের সংবর্ধনা জানানো হয়। তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় উন্নত মানের পাটের বীজ, আধুনিক চাষের সরঞ্জাম এবং পাট দিয়ে তৈরি অত্যাধুনিক বিভিন্ন সামগ্রী। এই বিশেষ সম্মান পেয়ে খুশি চাষিরাও।
এদিন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের যুগ্মসচিব শ্রীমতি পদ্মিনী সিংলা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভারতে পাটের বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগামী পরিকল্পনা সম্পর্কেও একাধিক তথ্য ভাগ করে নেন। পদ্মিনী সিংলা বলেন, কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের একটাই লক্ষ্য আমাদের দেশের পাট চাষিরা যাতে তাঁদের ন্যায্য পারিশ্রমিক পায় এবং বাজারে একটি যথাযথ মূল্য বিজয় রাখা। একইসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এবছর যথাযথ পরিমাণে পাট চাষ হয়েছে আর তার ফলে রাজ্যে যেসব পাট কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তা আবার ফের খোলার সুযোগও তৈরি হয়েছে।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
