সুচরিতা সেন চৌধুরী: কলকাতা ডার্বির শততম বছর হতাশার নজির তৈরি করল। কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগান মুখোমুখি হবে আর গ্যালারি এভাবে ফাঁকা থাকবে তা হয়তো অতি বড় বোদ্ধাও বুঝে উঠতে পারেননি। কিন্তু হতাশার পাশাপাশি কলকাতা ফুটবলের দুরবস্থার চিত্রটা আরও একবার পরিষ্কার হয়ে গেল। এমনিতেই কলকাতা প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে কোনও উত্তেজনা নেই ফুটবল মহলে। একমাত্র যা বেঁচে ছিল ডার্বি, এদিন যেন সেটারও বিসর্জনের ঘণ্টা বেজে গেল কলকাতা লিগে। ইস্টবেঙ্গল গ্যালারিতে যাও কিছু সমর্থকের উত্তেজনা দেখা গেল কিন্তু মোহনবাগান গ্যালারি পুরোপুরি হতাশ করল। যে মোহনবাগান সমর্থকরা একা পুরো ৬০ হাজারের গ্যালারি ভরিয়ে দিয়েছিল আইএসএল-এর সময় এদিন তাঁরাই অনুপস্থিত। আর তার মধ্যেই মরসুমের প্রথম ডার্বিতে ২-১ গোলে মোহনবাগানকে হারিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল।
ঠিক যেমন গ্যালারির দুরবস্থা, তথৈবচ দুই দলের ফুটবলও। প্রথমার্ধে খারাপ ফুটবলের নজির গড়ল দুই দল। এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়। রিসিভ থেকে বল রিলিজ, নিশ্চিত গোল নষ্ট, সব মিলে ভুলে ভরা ফুটবল। ম্যাচের ৩০ মিনিটে যে নিশ্চিত সুযোগ মিস করলেন পিভি বিষ্ণু তা গ্যালারিতে বসে নিশ্চই দেখলেন কার্লেস কুয়াদ্রাত। যাঁকে গত মরসুমে আইএসএল-এও খেলিয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য গোল করে সেই ভুল শুধরে নিলেন বিষ্ণু। ম্যাচের সেরাও হলেন। দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়াল ইস্টবেঙ্গল। যার ফল পর পর গোল করে এগিয়ে গেল লাল-হলুদ ব্রিগেড।
কলকাতা লিগে বেশ কয়েক বছর হয়ে গেল জুনিয়র দল খেলায় দুই প্রধান। সেখানেই ডার্বি ঘিরে উত্তেজনার দফারফা হয়ে গিয়েছিল। লক্ষ্য ছিল ভূমিপুত্র তুলে আনা। সেখানে দুই দলেরই প্রথম দলে নিয়ম মেনে চারজন করে ভূমিপুত্র রাখা হয়েছিল। তবে গোল পেলেন ভিনরাজ্যের প্লেয়াররাই। ৫০ মিনিটে সার্থক গোলুইয়ের ফ্রি কিক থেকে বক্সের ভিতর থেকেই বিষ্ণুর শট চলে যায় গোলে। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল।
এর পর দলের হয়ে ব্যবধান বাড়ান পরিবর্ত হিসেবে নামা জেসিন টিকে। ৫৯ মিনিটে মাঠে নেমে ৬৫ মিনিটে গোল করে ২-০ করেন তিনি। তার পরই ৭৭ মিনিটে জোড়া হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় জোসেফ জাস্টিনকে। ১০ জনে হয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল, যার ফলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে যেভাবে খেলাটা ধরে নিয়েছিল দল তা কিছুটা দমে যায়। আর সেই সুযোগেই ব্যবধান কমায় মোহনবাগান। সাত মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে টাইসনের সেন্টার থেকে সুহেল ভাটের অনবদ্য হেড মোহনবাগানকে গোল এনে দেয়। ব্যবধান কমলেও জয় আসেনি বাগানের ঘরে। শেষ পর্যন্ত ১০ জনে খেলে ডার্বি জিতেই মাঠ ছাড়ল ইস্টবেঙ্গল।
ইস্টবেঙ্গল: দেবজিত মজুমদার, জোসেফ জাস্টিন, মনোতোষ চাকলাদার, আদিল অমল, হিরা মণ্ডল, মহম্মদ রোশল, পিভি বিষ্ণু, নসীব রহমান, অমন সিকে, তন্ময় দাস, ডেভিড
মোহনবাগান: রাজা বর্মন, রবি বাহাদুর রানা, সৌরভ ভানওয়ালা, অমনদীপ, দীপেন্দু বিশ্বাস, রাজ বাসফোর, লিওয়ান কাস্তানহা, গ্লেন মার্টিন্স, অভিষেক সূর্যবংশী, সুহেল ভাট, ফারদিন আলি মোল্লা
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
