সুচরিতা সেন চৌধুরী, ভুবনেশ্বর: সম্প্রতি বাংলাার ফুটবলে শুধুই হতাশা। নেই কোনও বাঙালি ফুটবলার। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের দিকে তাকালে দেখা যাবে নিয়মিত খেলছেন এমন বাঙালি এই দুই দলে রয়েছেন একজন করে। মোহনবাগানের শুভাশিস বোস আর ইস্টবেঙ্গলের শৌভিক চক্রবর্তী। লাল-হলুদ মাঝ মাঠকে একাই নেতৃত্ব দিচ্ছেন শৌভিক। কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাতের হাতে পড়ে এই মরসুমের শুরু থেকেই নিজেকে ক্রমশ মেলে ধরেছেন শৌভিক। কোচেরও ভরসা হয়ে উঠেছেন। এদিন তাই হয়তো ম্যাচ শেষে অধিনায়ক ক্লেটন সিলভা তাঁর হাতের ক্যাপ্টেন্স ব্যান্ড খুলে পরিয়ে দিলেন শৌভিকের হাতে। আসলে মাঝমাঠ থেকে চুপচাপ দলটাকে তিনিই নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। তাই হয়তো দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও অধিনায়ক তাঁকে এই সম্মানটা দিতে ভুললেন না। তার পর থেকে সেই আর্মব্যান্ড পরেই ঘুরছিলেন শৌভিক। পাশে স্ত্রীকেও ডেকে নিলেন।
এমনিতে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতে চান না। তবে রবিবার কলিঙ্গ স্টেডিয়ামের মাঠে যে আবহ তৈরি হয়েছিল তাতে নিজের আবেগকে আটকে রাখতে পারলে না তিনিও। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের আবেগ তাঁর থেকে বেশি তো আর কারও পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। স্ত্রী এসেছিলেন খেলা দেখতে। তাঁকে মাাঠে নিয়ে এলেন এই বঙ্গ তণয়। পুরো সময়টা স্ত্রী পাশেপাশেই থাকলেন। শৌভিক তাঁর সাফল্যের জন্য পরিবারকে কৃতিত্ব দিতে ভুললেন না। বললেন, “যেভাবে সব পরিস্থিতিতে আমার পরিবার আমার পাশে থাকে সেটা না হলে আমি কিছুই করতে পারতাম না। স্ত্রীকেও কৃতিত্ব দিতে ভুললেন না।”
তবে হ্যাঁ, এটা সত্যি ২-২ হয়ে যাওয়ার পর রীতিমতো পুরো দল চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। মেনে নিলেন শৌভিক। তবে এটাও জানতেন, এখান থেকে দল ঠিক ম্যাচ বার করে নিয়ে যাবে। তবে তিনিই দলের একমাত্র বাঙালি সেটা মেনে নিতে নারাজ। বলছিলেন, “দলে আরও বাঙালি আছে। তবে আমরা যে চাপে পড়ে গিয়েছিলাম সেটা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। সেখন থেকে ম্যাচ বের করে এনে সমর্থকদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পেরেছে দল। জেতাটাই ইস্টবেঙ্গলের জন্য স্বাভাবিক, যেটা আগে ছিল। যেই পথে আমরা আবার হাঁটতে শুরু করেছি। এখন লক্ষ্য এটা ধরে রাখা আর আইএসএল-এ ভাল করা।”
মেনে নিলেন কোচ পরিবর্তনেই বদলে গিয়েছে শৌভিক নিজে। বলছিলেন, “আমি সব সমযই অনুশীলনে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তার পর কোচ আমার উপর ভরসা রেখেছেন।” ২০১২ সালে যখন ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল তখন তিনি ছিলেন মোহনবাগানে। এতদিনে সেই সময়ে শৌভিকের সঙ্গে খেলা প্রায় সকলেই অবসর নিয়েছেন কিন্তু তিনি যে শুধু খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন তা নয় তিনি বরং প্রতিদিন উন্নতি করছেন, এর রেসিপি কী জানত চাওয়া হলে শৌভিক জানান, এর পিছনে রয়েছে তাঁর ডিসিপ্লিনড জীবন আর পরিবারের সমর্থণ।। স্ত্রীকে আলাদা করে কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি।
যুদ্ধ জয় শেষ। মরসুমের শুরু থেকে একটাই লড়াই ছিল, যার একটা অংশ সম্পন্ন হয়েছে সবে। এখনও অনেকটা পথ বাকি। আর পাঁচদিন পরেই আরও একটি ডার্বি। আইএসএল-এর প্রথম পর্বের ডার্বির আগে সুপার কাপ জয় অবশ্যই ইস্টবেঙ্গলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে, মেনে নিলেন শৌভিক. তাই সমর্থকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “যেভাবে খারাপ সময় সবাই পাশে ছিল, এভাবেই যেন থেকে যায়। ভাল সময় ফিরছে। আরও ভাল ভাল মুহূর্ত আসবে।” এই ট্রফিও সভ্য -সমর্থকদের উৎসর্গ করলেন তিনি। মাঠ ছাড়লেন জয় ইস্টবেঙ্গল ধ্বনির মধ্যে দিয়েই।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
