Ram Temple ট্রাস্টের প্রথম সিইও অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রকে চিনে নিন

রাম মন্দির (Ram Temple) ট্রাস্ট  এই প্রথম একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) পেল। তিনি বিমান বাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত থ্রি-স্টার (লেফটেন্যান্ট জেনারেল বা এয়ার মার্শাল পদমর্যাদার সমতুল্য) কর্মকর্তা; কোনও পেশাদার আমলা বা পুরোহিত নন। সম্প্রতি তিনি ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় ভারতীয় বিমান বাহিনীর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ড’-এর নেতৃত্ব দিয়েছেন। বুধবার ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। এর আগে ট্রাস্টটিতে কোনও নির্দিষ্ট সিইও পদ ছিল না।

মূলত মন্দিরের প্রশাসনিক ও পরিচালনগত বিষয়গুলো দেখভাল করাই তাঁর দায়িত্ব। এর মধ্যে রয়েছে দৈনন্দিন প্রশাসন, সমন্বয় সাধন, তীর্থযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা, কর্মী ব্যবস্থাপনা, অর্থসংস্থান, নিরাপত্তা এবং বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি—যেসব অনুষ্ঠানে অযোধ্যায় প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে।


ট্রাস্টের মধ্যে যখন বড় ধরনের পরিবর্তন চলছে, ঠিক তখনই এই নিয়োগ হল। মিশ্রের নিয়োগের ঘোষণার দিনই তিনজন নতুন ট্রাস্টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মন্দিরে অনুদান সংক্রান্ত অভিযোগের জেরে সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্রের পদত্যাগের পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

কে এই জিতেন্দ্র মিশ্র যিনি ককপিট থেকে সোজা পৌঁছে গেলেন মন্দিরে? তিনি বিমান বাহিনীতে ৩৮ বছরেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন এবং ‘ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ড’-এর ‘এয়ার অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ’ পদে উন্নীত হয়েছেন। এই কমান্ডটি ভারতের পশ্চিম ও উত্তর সীমান্তের কার্যক্রম তদারকি করে।

এর আগে তিনি একটি ফাইটার স্কোয়াড্রন এবং দুটি সম্মুখসারির বিমান ঘাঁটির কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ‘চিফ টেস্ট পাইলট’ এবং পরবর্তীতে ‘এয়ারক্রাফট অ্যান্ড সিস্টেমস টেস্টিং এস্টাবলিশমেন্ট’-এর কমান্ড্যান্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাঁর কর্মজীবনে ‘এয়ার হেডকোয়ার্টার্স’ এবং ‘ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ’-এ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি ‘অপারেশনাল প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট গ্রুপ’-এর ডিরেক্টর, প্রিন্সিপাল ডিরেক্টর (এএসআর) এবং প্রজেক্টস-এর ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ অফ এয়ার স্টাফ’ হিসেবে কাজ করেছেন। ‘ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ড’-এর দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে তিনি ‘ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ’-এর অপারেশনস বিভাগের ডেপুটি চিফ ছিলেন।

তাঁর সামরিক জীবনের সবচেয়ে সাম্প্রতিক এবং সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি ছিল ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময়, যখন তিনি ‘ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ড’-এর নেতৃত্বে ছিলেন। এই অভিজ্ঞতার ফলে মিশ্র একটি অত্যন্ত চাপের সামরিক অভিযানের সময় একটি বিশাল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার হাল ধরার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা ও পটভূমিই এখন অযোধ্যার সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় কাজে লাগানো হবে।

সামরিক কর্মজীবনে মিশ্র ‘সর্বোত্তম যুদ্ধ সেবা পদক’, ‘অতি বিশিষ্ট সেবা পদক’ এবং ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’-এ ভূষিত হয়েছেন। তাঁর আদি নিবাস উত্তর প্রদেশের দেওরিয়ায় এবং তিনি ৩০ এপ্রিল, ২০২৬-এ বিমান বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

এবার তাঁকে দেখা যাবে একদম অন ভূমিকায়। সিইও-র কাজ মূলত ভারতের অন্যতম ব্যস্ত ধর্মীয় তীর্থস্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ক্রমশ জটিল হতে থাকা প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা করা। এর মধ্যে রয়েছে তীর্থযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, কর্মী নিয়োগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ট্রাস্টের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় এবং বড় ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি—যেসব অনুষ্ঠানে অযোধ্যায় বিপুল জনসমাগম হতে পারে।

রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে কার্যক্রমের পরিধি ক্রমাগত বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটেই একজন ফুলটাইম সিইও-র পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদের জন্য কেবল মিশ্র-র নামই বিবেচনা করা হয়নি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় ছিলেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজেশ পান্ডে, প্রাক্তন আইএএস অফিসার দীনেশ চন্দ্র, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার যোগেশ্বর রাম মিশ্র এবং প্রাক্তন আইপিএস অফিসার পরেশ সাক্সেনা।

ট্রাস্টের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া কেবল সিইও নিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বুধবার তিনজন নতুন ট্রাস্টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, দিল্লির মহেশ ভাগচান্দকা, অযোধ্যার মদন মোহন পান্ডে এবং শিখোহাবাদের নির্মলা যাদব। জানা গিয়েছে যে, ভাগচান্দকা প্রয়াত ভিএইচপি নেতা অশোক সিংঘালের আত্মীয়।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle