সবাইকে পিছনে ফেলে আট বছর পর কলকাতা ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়ন mohun Bagan

এমন টানটান উত্তেজনার কলকাতা লিগ শেষ কবে হয়েছে মনে পড়ছে না। যখন শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে চ্যাম্পিয়নশিপ লড়াই। শুধু কি তাই? এবার শেষ ম্যাচ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে ছিল পাঁচ দল। যে কারণে তিনটি ভেন্যুতে একই দিনে, একই সময়ে দেওয়া হয়েছিল তিনটি ম্যাচই। যাতে কোনওভাবে কোনও গড়াপেটার সম্ভাবনা তৈরি না হয়। সব মিলিয়ে এই মরসুমের কলকাতা লিগ আয়োজনে দারুণভাবে সফল আইএফএ। এদিন সব থেকে টান টান উত্তেজনার ম্যাচটি ছিল বারাসত স্টেডিয়ামে। যেখানে ইস্টবেঙ্গলের জুনিয়রদের কাছে আটকে গিয়েছিলেন মোহনবগানের সিনিয়ররা। আর এদিন সেই মাঠেই আট বছরের শাপমুক্তি ঘটল মোহনবাগানের (Mohun Bagan)। মহমেডান এসসিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান।

এই ম্যাচের উপর নির্ভর করছিল লিগের ভাগ্য। কারণ এই ম্যচ যেই জিতত সেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেত তা নিয়ে কোনও সংশয় ছিল না। অন্য দলকে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে সবার আগে দরকার ছিল মোহনবাগান বনাম মহমেডান ম্যাচ ড্র হওয়া। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল দারুণ শুরু করে মূল পর্বে এসে খেই হারিয় ফেলল। পর পর বেশ কয়েকটি ম্যাচ ড্র অনেকটাই পিছিয়ে দিয়েছিল সদ্য ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়নদের। যে কারণে কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে ইস্টবেঙ্গলের দরকার ছিল পাঁচ গোলের ব্যবধান জয়। সেখানে তারা কোল ইন্ডিয়াকে সাত গোলে হারিয়েও চ্যাম্পিয়ন হতে পারল না কারণ মোহনবাগান-মহমেডান ম্যাচ অমিমাংসিতভাবে শেষ হল না।


তিন প্রধানের সঙ্গে এই চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে প্রবলভাবে ছিল ভবানীপুরও। যাদের খেলা ছিল ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে। যে ম্যাচ শেষ হল গোলশূন্যভাবে। মোহনবাগানের জয়ের পথে আর কোনও বাধাই থাকল না। শুরু থেকেই মোহনবাগানের চ্যাম্পিয়নশিপের পথে একমাত্র বাধা ছিল মহমেডান। শুরুটাও করে দিয়েছিল মোহনবাগান। তবে প্রথমার্ধের শেষে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে যায় সাদা-কালো ব্রিগেডও। তবে শেষ হাসি হাসে মোহনবাগানই। এই ম্যাচের জন্য সিনিয়র দলের দুই তারকা ফুটবলার মনবীর সিং আর সাহাল আব্দুল সামাদকে জাতীয় দলের জন্য ছাড়েনি মোহনবাগান। সে ভরসার মান রাখলেন সাহাল।

এদিন শুরু থেকেই গোলের জন্য ঝাঁপাতে শুরু করে মোহনবাগান। কিন্তু সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় মোহনবাগানের ফুটবলাররা। স্বয়ং সাহালই মিস করেন একাধিক সহজ সুযোগ। যদিও জোড়া গোল করে তা সামলে দেন তিনি। ম্যাচের ২৬ মিনিটে ছাংতের মাপা ক্রসে সেই সাহালেরই দুরন্ত হেড চলে যায় মহমেডান গোলে। এবার আর ভুল করেননি তিনি। উচ্ছ্বাস থাকলেও তখনও ম্যাচের অনেকটা সময় বাকি থাকায় যে এক গোলের ব্যবধান যথেষ্ট নয় তাও খুব ভালো করে জানত বাস্তব রায়ের ছেলেরা। তার প্রমানও পেয়ে গেল হাতে নাতে। ৪২ মিনিটে মোহনবাগান রক্ষণের একতরফা লক্ষ্যকেই কাজে লাগিয়ে থাংকিমার থেকে বল পেয়ে মহমেডানকে সমতায় ফেরান মামরেমসাঙ্গা। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ গোলে।

দ্বিতীয়ার্ধ যে কারণেই দুই দলের জন্য ছিল স্নায়ুর লড়াই। একে তো চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ আর দ্বিতীয়ত, দুই দলই নামছে ১-১ গোল নিয়ে। এর মধ্যেই লাল কার্ড দেখেন মোহনবাগান গোলরক্ষক দীপপ্রভাত। বল নিয়ে গোলের মধ্যে ঢুকে পড়া লালরেমসাঙ্গাকে ফাউল করে ৫৯ মিনিট সরাসরি লাল কার্ড দেখে মোহনবাগানকে ১০ জনে করে দেন তিনি। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ২-১ করে মহমেডান। ৬৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন মহিতোষ রায়।  তবে মোহনবাগান জয় আটকাতে পারেনি মহমেডান। কাজে লাগাতে পারেনি এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মোহনবাগানের ১০ জনের হয়ে যাওয়ার সুযোগ। ৭০ মিনিটে মোহনবাগানকে সমতায় ফেরান সেই সাহাল। তবে জয় সূচক গোলটি আসে ঠিক তার তিন মিনিট পর, গত মরসমে ইস্টবেঙ্গলের লিগ জয়ের নায়ক সেই সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা থেকেই। এবারও মোহনবাগানের লিগ জয়ে নায়ক হয়ে থাকলেন এই বঙ্গ সন্তান। বাঙালির অভাবের ফুটবল সংসারে আশার আলো মহিতোষ, সায়নরাই।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle