East Bengal ২ (ডেভিড-২)
Al Shorta ৩ (আহমেদ ইয়াইয়া, হুসেন আলসাইদি, কিংসলে কুকু)
সুচরিতা সেন চৌধুরী: এক, দুই হল, কিন্তু তার পর হতে পারত আরও চার। প্রথমার্ধেই হয়ে যেতে পারত ডবল হ্যাটট্রিক। কিন্তু দুর্ভাগ্য, বার বার গোলের কাছে পৌঁছে গিয়েও সেটা হল না। তবে ডেভিড এদিন যে দাপট দেখালেন তাতে এর পর তাঁকে বেঞ্চে রাখার আগে ভাবতে হবে হাবাসকে। প্রথমার্ধে আল শোর্তার গোলের সময়টুকু ছাড়া বাকি সময়টা ছিল ইস্টবেঙ্গলেই। পুজোয় পুলিশের অভাবে ১২ হাজার টিকিটই ছাড়া হয়েছিল মার্কেটে। তার মধ্যেও গ্যালারি দেখে মনে হল ফুটবলের এটাই রসদ, সমর্থকদের এই ভালোবাসা। তাঁদের জন্য স্বার্থক হতে পারত সপ্তাহের শুরুতে সন্ধ্যে সোয়া সাতটায় এই ম্যাচ দেখতে আসা। সঙ্গে আইএফএ শিল্ড ফাইনালে হারের যন্ত্রণা থেকেও মুক্তি পাওয়া। কিন্তু তেমনটা হল কি? বরং স্বপ্ন দেখিয়ে এভাবে তাতে জল ঢেলে দেওয়ার মতো কাজ হয়তো ইস্টবেঙ্গলের পক্ষেই সম্ভব। তৃতীয়ায় আন্তর্জাতিক ম্যাচ দিয়েই পুজোর আগে কলকাতায় শেষ হল ফুটবল। আবার ফিরবে পুজোর পর আইএসএল-এর হাত ধরে। তার আগে মঙ্গলবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইরাকের আল শোর্তার বিরুদ্ধে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু ২০২৬-২৭-এর গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) এফসি। যেখানে দু’বার এগিয়ে গিয়েও ঘরের মাঠে ৩-২ গোলে হারতে হল।
শুরু থেকে যে ঝড় তুলল ইস্টবেঙ্গল তাতে বড় ব্যবধানে জিততেই পারত। যে জয় লড়াইয়ে দাপটের সঙ্গে টিকে থাকার জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল ইস্টবেঙ্গলের। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কেন সব খেই হারিয়ে ফেলল হাবাসের ছেলেরা সেটাই বড় প্রশ্ন। ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করা ইস্টবেঙ্গল মাত্র ৫৩ মিনিটেই ৩-২ গোলে পিছিয়ে পড়ল। আক্রমণে ঝড় তুলল আল শোর্তা। কেমন যেন দমে গেলেন হাবাসের ছেলেরা। তার মধ্যেই ডেভিডের মিসও থাকল উজ্জ্বল হয়ে। এই আফসোস নিয়ে অনেক রাত ঘুমোতে পারবেন না ডেভিড। তার মধ্যেই বিপিনকে নামিয়ে আক্রমণে ধার বাড়ানোর চেষ্টা করলেন হাবাস। তাতে লাভ কিছু হল না। ৭৬ মিনিটে জোড়া হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হল আল শোর্তার আব্দুল মাজিদকে। তার পরই দানি রামিরেজকে তুলে লোবা আর ডেভিডকে তুলে লুকাসকে নামিয়ে খেলার ছন্দ ফেরানো চেষ্টা করেন হাবাস। কিন্তু সে ছন্দ আর শেষ পর্যন্ত ফেরে না ইস্টবেঙ্গলের খেলায়।
ম্যাচ শুরুর আট মিনিটের মধ্যেই সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল আল শোর্তা। কিন্তু তা থেকে গোল আসেনি। বরং কাউন্টার অ্যাটাকে ইস্টবেঙ্গলের দুরন্ত আক্রমণ কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করে দেয় আল শোর্তার রক্ষণ। কর্নার থেকে ক্লিয়ার হয়ে আসা বল পেয়ে গিয়েছিলেন হার্দিক ভাট। হার্দিকের সেন্টার থেকেই ডেভিডের অসাধারণ ফিনিশে ৯ মিনিটেই এগিয়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। তার পর থেকে পুরোটাই ইস্টবেঙ্গলের। মাঝে ১৪ মিনিটে হুসেন আল-সাইদির কর্নার থেকে আহেদ ইয়াইয়ার গোলে ১-১ হওয়ার সময়টুকু বাদ দিলে। বাকি যে পুরো সময়টা দাপট দেখিল ইস্টবেঙ্গল, সেই হিসেবের তালিকায় শুধুই মিস। ২১ মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নুঙ্গার শট কোনওরকমে বাঁচিয়ে দেন শোর্তা গোলকিপার জালাল হাসান। ফিরতি বলে ডেভিডের শট গিয়ে জমা হয় গোলকিপারের হাতে।
না, এখানেই শেষ নয়। তবে তার আগে আরও একবার আশার আলো জ্বালিয়েছিলেন সেই ডেভিড। ৪০ মিনিটে দানি রামিরেজের ফ্রিকিক সেভ করে দেন শোর্তা গোলকিপার। ফিরতি বলে রশিদের ছোট্ট ব্যাকহিল ধরে ডেভিডের ফিনিশে ২-১ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। এর ঠিক দুই মিনিটেই আবার নিশ্চিত গোলের সুযোগ ডেভিড মিস করলেন। কী কী ভাবে এই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল গোলের সুযোগ নষ্ট করল, তার হিসেব কষতে বসলে মাথা খারাপ হয়ে যাবে কোচ হাবাসের। ৪৫ মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ নষ্ট ডেভিডের। এদিন দুরন্ত খেললেন ডেভিড, কিন্তু গোলের খতিয়ানে এগিয়ে থাকল ডেভিডের মিসের তালিকা।
প্রথমার্ধে যে খেলাটা ইস্টবেঙ্গল খেলেছিল তা দেখে এটা মনে করা হয়েছিল দ্বিতীয়ার্ধে কোচের ভোকাল টনিক নিয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে নেবে ইস্টবেঙ্গল। কারণ প্রথমার্ধ শেষ করেছিল ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে। সেখান থেকে যখন ৩-২ গোলে হারতে হয় তখন ধরে নিতেই হবে দ্বিতীয়ার্ধের দখল নিয়ে নিয়েছিল আল শোর্তা। তাদের দুরন্ত আক্রমণে রীতিমতো ব্যস্ত থাকতে হল ইস্টবেঙ্গল রক্ষণকে। তার মধ্যেই ৫১ মিনিটে আহমেদ ইয়াইয়ার সেন্টারে হুসেন আল সাইদির ফ্লিক গোলে যেতেই ২-২ সমতায় ফিরল অ্যাওয়ে টিম। আর তাতেই ছন্দ ফিরে পেল তারা আর ৩-২ করতে নিল মাত্র পরের দু’মিনিট। যখন পরিবর্ত হিসেবে নামা ক্রিস্টিয়ান বারকোর কর্নারে কিংসলে কুকুর হেড চলে যায় ইস্টবেঙ্গল গোলে।
৭৬ মিনিটে আল শোর্তা ১০ জনে হয়ে গেলেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ ইস্টবেঙ্গল। প্রশ্ন উঠছে হাবাসের টিম নির্বাচন নিয়ে। এদিন তিনি পাঁচ ডিফেন্ডারে দল সাজিয়েছিলেন। তাতে এটা স্পষ্ট তিনি রক্ষণ সামলেই আক্রমণে উঠতে চেয়েছিলেন। তা বলে আক্রমণে কোনও খামতি ছিল না ইস্টবেঙ্গলের পক্ষ থেকে। ডেভিড একাই ডবল হ্যাটট্রিক করতে পারতেন। এছাড়া গোল মিসের তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেললেন এডমুন্ড, জয় গুপ্তা, রশিদরা। ৮৯ মিনিটে অফসাইডের জন্য আল শোর্তার গোল বাতিল না হলে ৪-২ গোলে জিতে কলকাতা ছাড়ত তারা। এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ হাতছাড়া করার রোগ ইস্টবেঙ্গলের গেল না। কোচ বদলে গেল একাধিক, রোগের উপষম মিলল না। যার প্রমান পাওয়া গেল এএফসি গ্রুপ পর্বের পর পর দুটো ম্যাচেই। প্রথম ম্যাচে আল হুসেনের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে ২-২ ড্র করেছিল। আর আল শোর্তার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে প্রথমে ১-০ তার পর ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে ৩-২-এ হারতে হল। হাতে যদিও এখনও চারটে ম্যাচ বাকি। গ্রুপ পর্ব থেকে দুটো করে দল যাবে নকআউটে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে এখনই গেল গেল রব ওঠার কোনও কারণ নেই। তবে আরও অনেকটা বেশি সংঘবদ্ধ হতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের প্রমাণ করতে হলে।
ইস্টবেঙ্গল: প্রভসুখন সিং গিল, হার্দিক ভাট (বিপিন সিং), আনোয়ার আলি, লালচুংনুঙ্গা, জয় গুপ্তা, দিয়েগো জিভুলিচ, জিকসন সিং, এডমুন্ড লালরিনিডিকা, দানি রামিরেজ (আর্নড লোবা), ডেভিড লালহানসাঙ্গা (লুকাস জেলোনস্কি), বাসিম রশিদ
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
