Post Puja Plan-এ কী কী রাখবেন যা আপনাকে আবার কাজে ফিরতে সাহায্য করবে

দুর্গাপুজো মানেই কয়েকটা দিন টানা আনন্দ, আড্ডা, প্যান্ডেল হপিং, রাত জাগা, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা আর রকমারি খাওয়াদাওয়া। কিন্তু উৎসবের সেই ব্যস্ততা শেষ হওয়ার পর হঠাৎ করেই যেন চারপাশটা একটু ফাঁকা ফাঁকা লাগে। পুজোর পরের প্রথম উইকএন্ড তাই অনেকের কাছেই ‘পোস্ট-পুজো ব্লুজ’ (Post Puja Plan)-এর সময়। তবে মন খারাপ না করে এই দু’দিনকে একটু অন্যভাবে সাজিয়ে নেওয়া যায়।

সকাল শুরু হোক ধীরে

পুজোর কয়েকদিন হয়তো ঘুমের রুটিন পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। তাই উইকএন্ডের সকালে অ্যালার্মের তাড়াহুড়ো না করে একটু বেশি ঘুমিয়ে নিন। তবে দুপুর পর্যন্ত বিছানায় না থেকে সকালে উঠে হালকা স্ট্রেচিং, হাঁটাহাঁটি কিংবা যোগব্যায়াম করতে পারেন।


এক কাপ চা বা কফির সঙ্গে বারান্দায় বসে পুজোর ছবি, ভিডিও কিংবা স্মৃতিগুলো দেখাও হতে পারে দারুণ একটা সময় কাটানোর উপায়।

পুজোর পর এবার বাড়ির খাবারে ফেরা

পুজোর দিনগুলিতে বিরিয়ানি, ফুচকা, রোল, চাউমিন, মিষ্টি কিংবা রেস্তরাঁর নানা খাবার খাওয়ার ফলে শরীরও একটু বিশ্রাম চাইতে পারে। তাই উইকএন্ডে খাবারের তালিকায় রাখুন হালকা ও পুষ্টিকর খাবার।

সকালে ওটস, দুধ, ডিম বা ফল; দুপুরে ভাত বা রুটি, মাছ, ডাল ও সবজি; বিকেলে হালকা স্ন্যাকস এবং রাতে স্যুপ, সবজি বা হালকা প্রোটিন রাখা যেতে পারে। পর্যাপ্ত জল খাওয়াও জরুরি।

বাড়ি গুছিয়ে নিন

পুজোর আগে বাড়ি পরিষ্কার, সাজসজ্জা এবং অতিথি আপ্যায়নের ব্যস্ততায় অনেক কিছুই এলোমেলো হয়ে যায়। পুজোর পরের উইকএন্ড হতে পারে বাড়ি গুছিয়ে নেওয়ার আদর্শ সময়।

আলমারি থেকে পুজোর পোশাক বের করে ধুয়ে বা পরিষ্কার করে তুলে রাখুন। অপ্রয়োজনীয় জিনিস আলাদা করুন। ঘর একটু নতুনভাবে সাজিয়ে নিলে মনও অনেকটা ফুরফুরে হয়ে উঠবে।

পরিবারকে সময় দিন

পুজোর সময় হয়তো সবাই মিলে ঘুরেছেন, খেয়েছেন, আড্ডা দিয়েছেন। কিন্তু সেই ব্যস্ততার মধ্যেও অনেক সময় মন খুলে কথা বলা হয়ে ওঠে না। তাই উইকএন্ডে পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে বসে দুপুরের খাবার, বিকেলের চা কিংবা রাতের আড্ডার আয়োজন করতে পারেন।

মোবাইল কিছুটা দূরে রেখে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প করার অভ্যাসটাও ফিরিয়ে আনুন।

বন্ধু বা দূর থেকে আসা আত্মীয়দের সঙ্গে ছোট্ট আড্ডা

পুজোর সময় দেখা হলেও সব কাজিন বা বন্ধুদের সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলা হয়ে ওঠে না। তাই পুজোর পরের উইকএন্ডে বড় কোনও প্ল্যান না করে কাছাকাছি কোথাও কফি, লাঞ্চ বা সন্ধ্যার আড্ডা রাখা যায়।

অনেকদিন পর পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করে পুজোর সেরা মুহূর্তগুলো নিয়ে গল্প করাও হতে পারে আনন্দের। বা সেই সব তুতো ভাইবোন যারা ফিরে যাবেন তাদের গন্তব্যে, তাদের সঙ্গে সময় কাটান নিজের বাড়িতেই।

একদিন নিজের জন্য

উইকএন্ডের অন্তত কয়েক ঘণ্টা শুধু নিজের জন্য রাখুন। বই পড়তে পারেন, সিনেমা দেখতে পারেন, গান শুনতে পারেন অথবা কোনও প্রিয় শখে সময় দিতে পারেন।

যাঁরা সারাক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়ায় পুজোর ছবি, রিল ও পোস্ট দেখছেন, তাঁরা কয়েক ঘণ্টার জন্য ডিজিটাল ডিটক্সও করতে পারেন। এতে মন অনেকটাই শান্ত হবে।

কাছাকাছি কোথাও ঘুরে আসুন

পুজোর পরেও যদি ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছে থাকে, তাহলে দূরে না গিয়ে একদিনের ছোট ট্রিপ করা যায়। নদীর ধারে, কোনও পার্কে, ঐতিহাসিক জায়গায় কিংবা শহরের কাছাকাছি কোনও শান্ত জায়গায় কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে আসা যেতে পারে।

তবে পুজোর পরের সপ্তাহান্তে ভিড় বেশি হতে পারে, তাই যাওয়ার আগে যাতায়াত ও জায়গাটির সময়সূচি দেখে নেওয়া ভালো।

পরের সপ্তাহের প্রস্তুতি

উইকএন্ডের শেষটা শুধু আনন্দে কাটিয়ে না দিয়ে পরের সপ্তাহের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন। কাজের তালিকা তৈরি করুন, প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখুন এবং ঘুমের সময়টা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক রুটিনে ফিরিয়ে আনুন।

পুজোর ছুটির পর কাজে ফেরার সময় অনেকেরই ক্লান্তি বা অনীহা তৈরি হয়। তাই একসঙ্গে সব কাজ শেষ করার চেষ্টা না করে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাই ভালো।

পুজো শেষ হলেও আনন্দ থামবে কেন?

দুর্গাপুজো শেষ মানেই উৎসব শেষ নয়। বরং পুজোর ব্যস্ততার পর নিজের শরীর, মন, পরিবার ও প্রিয় মানুষদের জন্য একটু সময় বের করে নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে সুন্দর উদযাপন।

তাই এই উইকএন্ডে খুব বড় কোনও পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই। ভালো ঘুম, পছন্দের খাবার, পরিবারের সঙ্গে আড্ডা, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, একটু ঘোরাঘুরি আর অনেকটা নিজের মতো সময়—এই নিয়েই তৈরি হতে পারে পুজোর পরের একদম পারফেক্ট উইকএন্ড।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google