ISL 2026-27: ঘরের মাঠে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ছন্নছাড়া ফুটবল শেষে জয় উপহার মোহনবাগানের

সুচরিতা সেন চৌধুরী: নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাছে হেরে আইএসএল ২০২৬-২৭ (ISL 2026-27) শুরু করেছিল মোহনবাগান। এর পর অবশ্য দিল্লির বিরুদ্ধে জয়ে ফেরে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। পর পর দুটো অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলে ঘরে ফিরেছে দল। সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনই ঘরের মাঠে প্রথম আইএসএল ম্যাচ ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও গ্যালারি ভরাতে পারলেন না তাঁরা, যা খুবই স্বাভাবিক। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাগান সমর্থকদের সামনেই শুরু থেকে হতাশা ছড়াল মোহনবাগানের খেলা। তার মধ্যে যা একটা, আধটা সুযোগ তৈরি হল তা কাজে লাগাতে পারল না সবুজ-মেরুনের ফরোয়ার্ডরা। বরং প্রথমার্ধে মোহনবাগানের থেকে বেশি সুযোগ তৈরি করল চেন্নাইয়ন এফসি। দ্বিতীয়ার্ধেও তার ব্যতিক্রম হল না। তবে কথায় আছে, শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত কোনও কিছুই নির্ধারিত নয়। যা আরও একবাার প্রমান কর মোহনবাগান ৮৫ মিনিটে গোলের মুখ খুলে। ঘরের মাঠে ১-০ গোল জিতেই যাত্রা শুরু করল কলকাতার দল।

ম্যাচ শুরুর ১১ মিনিটেই  আলবার্তো যে সুযোগ নষ্ট করল তা তাঁর ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এর পরই এক মিনিটের মধ্যে মাদিহ তালাল বাগান বক্সের মধ্যে যে বল বাড়িয়েছিলেন তা এগিয়ে দিতে পারত চেন্নাইকেও কিন্তু সহজ জায়গা থেকে তা বাইরে পাঠালেন ব্রাইসন সিং। এর পর ২৭ মিনিটে আবার গোলের বল বাড়িয়েছিলেন সেই তালাল কিন্তু এবার তা বাইরে পাঠালেন  ইরফান ইয়াদওয়াদ। এর পর ৩৭ মিনিটে দ্রাজিচ যে সুযোগ পেলেন তা থেকে গোল না করাই পাপ। কিন্তু তাঁর গায়ের পাস দিয়েই সেই বল ক্লিয়ার করে দিলেন প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার। এর পর গোলের সামনে থেকে বল আকাশে ওড়ালেন মনবীর সিং। এক কথায় ছন্নছাড়া ফুটবল মোহনবাগানের।


মোহনবাগান কোচ দিমপেরিসের দল ফর্মেশনও বেশ চমকপ্রদ। দলের তিনজন নিয়মিত ফুটবলার আপুইয়া, মিগুয়েল ও ম্যাকলারেন এদিন দলেই ছিলেন না। তাঁদের যে পাওয়া যাবে না তা আগে থেকেই প্রায় নিশ্চিত ছিল। সেই পরিস্থিতিতে সাহাল আব্দুল সামাদ, অনিরুদ্ধ থাপাদের বেঞ্চে রেখেই দল সাজালেন তিনি। আর লালিয়ানজুয়ালা ছাংতেকে নিয়ে তো কোচ কী করবেন বুঝতেই পারছিলেন না। বা এটাই তাঁর স্ট্র্যাটেজির অংশ। কখনও মাঝমাঠ তো কখনও রক্ষণে, কখনও ডায়ে তো কখনও বায়ে দেখা গেল তাঁকে। তবে তিনি ইউটিলিটি ফুটবলার হিসেবে মান রাখছিলেন কোচের। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তাঁকে তুলেই সাহালকে নামিয়ে দিলেন। ৫৩ মিনিটে সামির জেলকোভিচকে তুলে নিয়ে এলেন থাপাকে। যে দু’জনকে প্রথম একাদশে রাখা উচিত ছিল তাঁদের দ্বিতীয়ার্ধে নামিয়ে দলের ছন্নছাড়া ফুটবলকে গোছানোর চেষ্টা করলেন দিমপেরিস। নামলেন শুভাশিস বোসও। তবে রক্ষণ নয় মোহনবাগানে দরকার ছিল ফিনিশারের।

গোলের সুযোগ তৈরি হল, আক্রমণও হল। প্রথমার্ধের থেকে দ্বিতীয়ার্ধে অনেক বেশি সুযোগ তৈরি করল মোহনবাগান কিন্তু ওই যে বললাম, ফিনিশারের অভাব। যা বার বার চোখে পড়ল। একই অবস্থা চেন্নাইয়েরও। একাধিক পজিটিভ আক্রমণ শানিয়েও গোলের মুখ খুলতে পারল না তারাও। তবে তুল্যমূল্য বিচারে পজেশনে একাধিকবার এগিয়ে গেল ক্লিফোর্ড মিরান্ডার চেন্নাই। সঙ্গে নিশ্চিত গোলের ব্যর্থ প্রচেষ্টায়ও। ৭৮ মিনিটে ব্রাইসনোর মাইনাস থেকে যে শট নিলেন নিকোলা সেটা ভাগ্যের পরিহাসে ক্রসপিসে লেগে ফিরল। তার পরের মুহূর্তেই আবারও নিকোলার শট অল্পের জন্য বাইরে গেল। আর এই বারই যেন ভাগ্য ফিরল মোহনবাগানের। যখন পরিবর্ত হিসেবে নেমেই গোলের বল বাড়ালেন লিস্টন কোলাসো। আর সেই বল বুক দিয়েই গোলে পাঠালেন মনবীর। এগিয়ে গেল মোহনবাগান। অতিরিক্ত উত্তেজনায় কর্নার ফ্ল্যাগ ভেঙে দিলেন লিস্টন। লেখা হয়ে গেল ম্যাচের ভাগ্য। ৬ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে এই ফলের আর কোনও পরিবর্তন হল না। শেষ হাসি হাসল মোহনবাগান।

মোহনবাগান: বিশাল কেইথ, মেহতাব সিংহ, রাহুল ভেকে (শুভাশিস বোস), আলবার্তো রদ্রিগেস,অভিষেক সিংহ, সামির জেলকোভিচ (অনিরুদ্ধ থাপা), দীপক টাংরি (অভিষেক সূর্যবংশী), মনবীর সিংহ, দেয়ান দ্রাজ়িচ (লিস্টন কোলাসো), লালিয়ানজ়ুয়ালা ছাংতে (সাহাল আব্দুল সামাদ), লি আরউইন।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google