Karung Onkholer আসলে কে, সেলিব্রিটির স্বামী হয়ে থেকে যাওয়া এক একলা পুরুষ

Karung Onkholer

কারুং ওনখোলার (Karung Onkholer)—নামটা শুনলে আজ হয়তো অনেকেরই ভ্রু কুঁচকে যাবে। জনমানসে তিনি এখন পরিচিত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। তবে এই পরিচয়ের বাইরেও তাঁর আরও একটি পরিচয় ছিল—তিনি মেরি কমের প্রাক্তন স্বামী। সেই মেরি কম, যিনি ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে এক অদম্য লড়াইয়ের মহাকাব্য লিখেছে।

মেরি কমের বক্সিং গ্লাভস যখন প্রথম প্রতিপক্ষের আঘাত সামলাতে শিখছিল, তখন পর্দার আড়ালে এক অদৃশ্য দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এই ওনখোলার। মেরি যখন মাতৃত্বের পর রিংয়ে ফিরবেন কি না তা নিয়ে দ্বিধায়, তখন সংসারের যাবতীয় ‘ঘরোয়া’ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। আমাদের সমাজ আজও শিখিয়ে দেয়—সংসার সামলানো নারীর কাজ, আর উপার্জন পুরুষের। সেই ছক ভেঙে অনখোলার সেদিন মেরির সাফল্যের পথ প্রশস্ত করেছিলেন।


কিন্তু ইতিহাসের ট্র্যাজেডি বোধ হয় এখানেই। যে ত্যাগ একদিন মেরিকে বিশ্বজয়ী করেছিল, সম্পর্কের ভাঙনের মুখে সেই ত্যাগই হয়ে উঠল ‘অক্ষমতা’র সমার্থক।

টেলিভিশনের পর্দায় যখন কোনও আইকন বলেন, “ও তো মেয়ে মানুষের রোজগারে বসে খেত”, তখন আঘাতটা শুধু একজন ব্যক্তির গায়ে লাগে না; আঘাত লাগে সেই প্রগতিশীল চিন্তার গায়ে, যা নারী-পুরুষের ভূমিকার অদলবদলকে স্বীকৃতি দিতে চায়। আর্থিক তছরুপের অভিযোগ আইনি বিষয়, কিন্তু ‘বসে খাওয়া’র অপবাদটি বিশুদ্ধ সামাজিক ব্যাধি।

সংসার সামলানো কি কোনও শ্রম নয়? এর কি কোনও বাজারমূল্য নেই? আজ যদি কোনও নারী ঘর সামলান, তবে সমাজ তাঁকে ‘ত্যাগ’ বলে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু সেই একই কাজ যখন একজন পুরুষ করেন, তখন তিনি হয়ে যান ‘পরজীবী’। এই দ্বিচারিতাই প্রমাণ করে, আমরা লিঙ্গসাম্যের কথা বললেও দিনশেষে মানুষের মূল্য নির্ধারণ করি তার ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স দিয়ে।

সম্পর্কে যখন একজনের হাতে সমস্ত অর্থনৈতিক ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়, তখন অন্যজনের আজীবনের নীরব সমর্থন মুহূর্তেই ধুলোয় মিশে যেতে পারে। ভালোবাসা তখন আর পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকে না, হয়ে দাঁড়ায় দাতা ও গ্রহীতার এক অসম হিসেব নিকেশ।

মেরি কমের মতো ব্যক্তিত্বরা যখন কথা বলেন, সমাজ কান পেতে শোনে। তাই তাঁদের প্রতিটি শব্দ আগামীর পথ তৈরি করে। আর্থিক স্বাধীনতা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকের জন্য অপরিহার্য—যাতে ভালোবাসার ঘর ভাঙলেও আত্মসম্মানটা অন্তত অক্ষত থাকে।

কারুং ওনখোলার বা মেরি কমের এই আখ্যান আসলে আমাদের চেনা সমাজেরই এক প্রতিচ্ছবি। যেখানে একজন সফল নারীর পাশে দাঁড়ানো পুরুষকে আজও সন্দেহের চোখে দেখা হয়। সাফল্যের আলো যতটা উজ্জ্বল, তার পেছনের ছায়াগুলো ততটাই অবহেলিত। সমাজ বদলের লড়াইটা শুধু পদক জয়ের নয়, দৃষ্টিভঙ্গি জয়েরও। আর সেই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ভার কিন্তু আমাদের আদর্শ বা ‘রোল মডেল’দেরই।

(লেখার বিষয় সম্পূর্ণ লেখকের মতামত)

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle