Sonamarg-এ তুষারধসে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন পর্যটকরা

Sonamargছবি—ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট

গত কয়েকদিন ধরেই উত্তর ভারতের পাহাড়ি এলাকায় শুরু হয়েছে প্রবল তুষারপাত। জানুয়ারির শেষে এমন তুষারপাতের ঘটনা অস্বাভাবিক। তবে এবার ডিসেম্বর ও জানুয়ারির শুরুতে হিমাচল প্রদেশ থেকে কাশ্মীর, কোথাও তেমন তুষারপাত হয়নি। তবে হঠাৎ করেই আবহাওয়ার বদলে বদলে গিয়েছে এই সব এলাকার চিত্র। স্বাভাবিকভাবেই তুষারপাত দেখতে দলে দলে মানুষ ছুটেছে পাহাড়ে। যার ফলে, রাস্তায় জ্যামজট যেমন রয়েছে, তেমনই বরফের জন্য রাস্তা পিচ্ছিল থাকায় বাড়ছে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও। বেশ কিছু ভিডিও, ছবিও উঠে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে পিচ্ছিল রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে গাড়ি। তবে সোনমার্গের (Sonamarg) মতো বিখ্যাত ট্যুরিস্ট স্পটে এই বিশাল আকাড়ের তুষারধস অস্বাভাবিক, যা ঘটল মঙ্গলবার রাতে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে জম্মু ও কাশ্মীরের সোনমার্গে একটি বিশাল তুষারধস নেমে আসে, যার ফলে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তুষারধসটি রাত প্রায় ১০টা ১২ মিনিটে মধ্য কাশ্মীরের গান্দেরবাল জেলার সোনমার্গে আঘাত হানে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বরফের একটি শক্তিশালী দেওয়াল পাহাড়ের গা বেয়ে দ্রুত নেমে আসছে এবং এর পথে থাকা বেশ কয়েকটি বাড়ি তাতে ঢেকে যাচ্ছে। তার মধ্যে রয়েছে হোটেলও। সেই সময় প্রায় সকলেই ঘুমিয়ে পড়েছিল।


তুষারধসের তীব্রতা এবং ক্যামেরায় দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও, পুলিশ নিশ্চিত করেছেন যে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে এবং যে কোনও সম্ভাব্য ঝুঁকি পর্যবেক্ষণের জন্য জরুরি দল এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

মঙ্গলবার কাশ্মীর জুড়ে নতুন করে তুষারপাতের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার মধ্যেই এই তুষারধসের ঘটনা ঘটে। জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শ্রীনগর বিমানবন্দরের সমস্ত বিমান বাতিল করা হয়, যার ফলে শত শত পর্যটক সেখানে আটকে পড়েন।

Sonamarg

সোমবার গভীর রাতে শুরু হওয়া তুষারপাত এই অঞ্চলের বিশাল এলাকাকে ঢেকে ফেলেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাজিগুন্দের নাভিউগ টানেল এবং বানিহাল অংশে ভারী বরফ জমার কারণে জাতীয় সড়ক ৪৪ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শ্রীনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্ধারিত ৫৮টি বিমানের সবগুলোই — ২৯টি আগমন এবং ২৯টি প্রস্থান — বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবিরাম তুষারপাতের কারণে রানওয়েটি বিমান চলাচলের জন্য নিরাপদ নয়।

আবহাওয়া দফতর বেশিরভাগ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা তুষারপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে এবং কিছু জায়গায় বজ্রপাত বা দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবারও হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ১১টি জেলার জন্য তুষারধসের সতর্কতা জারি করেছে। গান্দেরবাল জেলার ২,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতার এলাকার জন্য উচ্চ-বিপদের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কাশ্মীর অঞ্চলের অনন্তনাগ, বান্দিপোরা, বারামুলা, কুলগাম এবং কুপওয়ারা এবং জম্মু অঞ্চলের ডোডা, কিশতোয়ার, পুঞ্চ, রাজৌরি ও রামবানের একই উচ্চতার এলাকার জন্য মাঝারি-বিপদের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বরফ দেখতে যাওয়ার উচ্ছ্বাসে বিস্তারিত খবর না নিয়ে বেরিয়ে পড়াটা মোটেও সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। আনন্দের উদ্দেস্য বিপদে ফেলতে পারে। তাই হুজুগে না মেতে, যেখানে যাবেন সেখানকার বিস্তারিত পরিস্থিতি খবর নিয়েই যাওয়া উচিৎ। কারণ প্রকৃতির উপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle