প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার ভারতের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার (Vande Bharat Sleeper) ট্রেনের যাত্রার সূচনা করলেন, যা হাওড়া থেকে গুয়াহাটির কামাখ্যা জংশন পর্যন্ত চলবে। এই অত্যাধুনিক পরিষেবাটি একটি রাত্রিকালীন সংযোগ হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গ এবং অসামের মধ্যে একটি উচ্চ-গতির রেল সংযোগ স্থাপন করবে; এই দু’টি রাজ্যেই বর্তমানে নির্বাচন আসন্ন। অনেকেই মনে করছেন এটি একটি নির্বাচনী প্রচারের পদক্ষেপ। তবে সাধারণ মানুষ তথা ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এই ট্রেন এক বড় প্রাপ্তি তো বটেই।
প্রধানমন্ত্রী মোদী পশ্চিমবঙ্গের মালদা টাউন থেকে ভারতের প্রথম স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করেন। তিনি এখান থেকেই ভার্চুয়ালি গুয়াহাটি-হাওড়া রুটের ফিরতি বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনেরও উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আধুনিক ভারতের ক্রমবর্ধমান পরিবহন চাহিদা মেটাতে তৈরি, সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি যাত্রীদের সাশ্রয়ী ভাড়ায় বিমানের মতো ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেবে। এটি দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রাকে আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং সুবিধাজনক করে তুলবে। হাওড়া-গুয়াহাটি (কামাখ্যা) রুটে ভ্রমণের সময় প্রায় ২.৫ ঘণ্টা কমিয়ে এই ট্রেনটি ধর্মীয় ভ্রমণ এবং পর্যটনকেও একটি বড় উৎসাহ দেবে।”
ভারতের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক—
গতি: ট্রেনটি ১৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা সর্বোচ্চ গতিতে চলার উপযোগী করে তৈরি হলেও, এটি সর্বোচ্চ ১২০-১৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলাচল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্দরের ব্যবস্থা: বার্থগুলিতে আর্গোনমিক ডিজাইন রয়েছে, যা একটি বিশ্বমানের সাসপেনশন সিস্টেম দ্বারা সমর্থিত, যা অত্যন্ত মসৃণ ভ্রমণের জন্য তৈরি।
স্বাস্থ্যবিধি: ট্রেনটিতে উন্নত জীবাণুনাশক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যা ৯৯% জীবাণু মারতে সক্ষম, এবং সমস্ত যাত্রীদের জন্য নতুন চাদর ও তোয়ালে সরবরাহ করা হবে।
নিরাপত্তা: নিরাপত্তা একটি অগ্রাধিকার, তাই দেশীয় কবচ স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি ট্রেনে ব্যাপক নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে।
স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা: স্বয়ংক্রিয় স্লাইডিং দরজাগুলো পুরো যাত্রা জুড়ে বন্ধ থাকার জন্য প্রোগ্রাম করা হয়েছে এবং ট্রেন স্টেশনে পৌঁছানোর পরেই কেবল খুলবে।
ট্রেনে স্থানীয় খাবার: গতি, স্বাস্থ্যবিধি এবং নিরাপত্তার পাশাপাশি, ট্রেনটি তার যাত্রীদের প্রিমিয়াম বিমান পরিষেবার মতো স্থানীয় খাবার পরিবেশন করবে। ক্যাটারিং টিকিটের দামের অন্তর্ভুক্ত এবং এতে স্থানীয় স্বাদ ও খাবারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কামাখ্যা থেকে হাওড়া ভ্রমণকারী যাত্রীদের অসমীয়া খাবার পরিবেশন করা হবে, আর হাওড়া থেকে কামাখ্যায় ফিরতি যাত্রার যাত্রীরা বাঙালি খাবারের স্বাদ নিতে পারবেন।
ভাড়া: ট্রেনটিতে তিন ধরনের ভ্রমণ শ্রেণি রয়েছে এবং টিকিটের মূল্য ২,৩০০ থেকে ৩,৬০০ টাকার মধ্যে। একমুখী যাত্রার জন্য সম্ভাব্য ভাড়াগুলি হলো, থ্রি এসি: প্রায় ২,৩০০ টাকা, টু এসি: প্রায় ৩,০০০ টাকা, ফার্স্ট এসি: প্রায় ৩,৬০০ টাকা

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
