বাবার হাতে খুন মেয়ে (Radhika Yadav Murder)। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই এই খবর চমকে দিয়েছে পুরো দেশকে। মেয়ে প্রাক্তন জাতীয় স্তরের টেনিস খেলোয়াড়। বয়স মাত্র ২৫। কিন্তু চোটের কারণে খেলা ছেড়ে কোচিংয়ে মন দিয়েছিলেন রাধিকা যাদব। খুলেছিলএন নিজের অ্যাকাডেমি। পছন্দ ছিল না বাবার। সঙ্গে বানাতেন নানারকমের রিলস, সম্প্রতি একটি মিউজিক ভিডিও শ্যুট করেছিলেন। তাতে আরও রেগে যান রাধিকার বাবা দীপক যাদব। গত কয়েকমাস ধরেই এই নিয়ে মেয়ে-বাবার ঝামেলা চলছিল। কিন্তু নিজের বাবার হাতেই যে তাঁকে প্রাণ দিতে হবে তা ভাবতেও পারেননি রাধিকা। মেয়েদের সব থেকে ভরসার জায়গা সেই বাবার গুলিতেই ২৫ বছরেই হারিয়ে গেল এক প্রতিভাবন টেনিস কোচ।
তাঁর আর্থিক স্বাধীনতা, ইনস্টাগ্রাম রিল এবং একটি মিউজিক ভিডিও নিয়ে তাঁর বাবাকে ক্রমাগত নানান কটূ কথা শুনিয়েছিলেন তাদেরই পরিচিতরা। যে কারণে মেয়ের উপর তিনি চাপ সৃষ্টি করেন এই সব ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু রাধিকা সেটা চাননি। তিনি নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন, তা মানতে পারেনি তাঁর আশপাশের লোকজন, সারাক্ষণ তাঁর বাবাকে সে সব শোনাতে থাকেন, শেষ পর্যন্ত ধৈর্য্য হারিয়ে মেয়েকেই খুন করে ফেললেন বাবা।
পুলিশের মতে, ৪৯ বছর বয়সী দীপক যাদব প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই খুনের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন যে তার মেয়ের রোজগারের উপর নির্ভর করার জন্য তার জন্মস্থান ওয়াজিরাবাদের গ্রামবাসীদের থেকে তাকে বারবার তিরস্কারের মুখে পড়তে হয়েছিল এবং তিনি যে টেনিস অ্যাকাডেমিটি চালাতেন তা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য তাকে বেশ কয়েকবার চাপও দেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যেই রাধিকার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ডিলিটও হয়ে গিয়েছে। সেটি কে বা কারা করল তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ। এই খুনে আরও কারও হাত রয়েছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
দীপক স্বীকার করেছেন যে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রান্নাঘরে খাবার তৈরি করছিলেন রাধিকা, সেই সময় তিনি রাধিকার পিঠে তিনবার গুলি করেন। তার কাকা, কুলদীপ যাদব, যিনি একই বাড়ির এক তলায় থাকেন, গুলির শব্দ শুনে উপরে ছুটে যান। তিনিই প্রথম দেখেন রাধিকাকে রান্নাঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে, রিভলবারটি পাশের ড্রয়িং রুমে রাখা ছিল। ওই তলাতেই ছিল রাধিকার মা-ও। তিনি অসুস্থ থাকায়, পাশের ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। তিনিও গুলির শব্দ শুনে ছুটে যান। ততক্ষণে সব শেষে।
রক্তাক্ত রাধিকাকে গাড়িতে করে ৫৬ নম্বর সেক্টরে এশিয়া মারিঙ্গো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ডাক্তাররা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
একটি মিউজিক ভিডিও থেকেই সমস্যার সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাক্তন ব্যাঙ্ক কর্মী রাধিকার বাবা দীপক, বিশেষ করে ৫৭ নম্বর সেক্টরে নিজের টেনিস অ্যাকাডেমি খোলার পর, তাঁর মেয়ের বাড়তে থাকা মর্যাদা এবং স্বাধীনতার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বলে অভিযোগ।
যদিও আর্থিক স্বাধীনতা এবং অ্যাকাডেমি পরিচালনার বিষয়ে দ্বন্দ্ব নিয়মিত সমস্যার বিষয় ছিল, পুলিশ সূত্রের খবর, একটি মিউজিক ভিডিওতে রাধিকার উপস্থিতি বাড়িতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। যা এক বছর আগে রিলিজ হয়েছিল। সেই মিউজিক ভিডিওতে হিরোর সঙ্গে বেশ কিছু দৃশ্যে তাঁকে দেখা যায়, যা মেনে নিতে পারেনি তাঁর বাবা। তার সঙ্গে ছিল প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের কটূ কথা। সেই ভিডিওটি রাধিকার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল তাঁকে, কিন্তু তিনি রাজি হননি।
বছর খানেক আগে একটি ম্যাচে খেলার সময় রাধিকার কাঁধে চোট লাগে, যার ফলে তিনি তাঁর খেলার ক্যারিয়ার শেষ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। টেনিস থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার পরিবর্তে, তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের কোচিং করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মেয়ের আয়ের উপর সংসার চলছে, এই কথা সারাক্ষণ শোনানো হতো রাধিকার বাবাকে। যার পর আরও অশান্তি শুরু হয় পরিবারে। এফআইআর-এ রেকর্ড করা পুলিশের কাছে তার জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন, এই কথায় তিনি লজ্জা বোধ করতেন, যে কারণে মেয়েকে সব ছাড়তে বলেছিলেন।
“যখন আমি দুধ আনতে ওয়াজিরাবাদ গ্রামে যেতাম, তখন লোকেরা আমাকে কটূক্তি করত, বলত যে আমি আমার মেয়ের আয়ের উপর নির্ভর করি। এটি আমাকে খুব কষ্ট দিত। এমনকি কিছু লোক আমার মেয়ের চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলে। আমি আমার মেয়েকে তার টেনিস অ্যাকাডেমি বন্ধ করতে বলেছিলাম, কিন্তু ও তা মেনে নেয়নি,” দীপক পুলিশকে জানিয়েছে।
এই ঘটনার পর পুলিশকে খবর দেন রাধিকার কাকা কুলদীপ যাদব। তিনিই এফআইআর দায়ের করেন। “সকাল সাড়ে ১০টার দিকে, আমি একটা জোরে শব্দ শুনতে পায়। যখন আমি উপরে যাই, তখন দেখি আমার ভাগ্নি রান্নাঘরে অবস্থায় পড়ে রয়েছে। রিভলবারটি ড্রয়িং রুমের মেঝেতে পড়ে ছিল। আমি এবং আমার ছেলে ওকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাই, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ,” কুলদীপ পুলিশকে বলেন।
অভিযুক্তের স্ত্রী মঞ্জু যাদব গুলি চালানোর সময় বাড়িতেই ছিলেন কিন্তু তিনি লিখিত বিবৃতি দিতে অস্বীকার করেছেন। তিনি মৌখিকভাবে পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতেই ছিলেন। জ্বর থাকায় নিজের ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন সেই সময়।
“ও একজন বিশিষ্ট টেনিস খেলোয়াড় ছিল, অনেক ট্রফি জিতেছিল। ওর মৃত্যুতে আমি হতবাক এবং বুঝতে পারছি না কেন ওকে খুন করা হল। যখন আমি ফাস্ট ফ্লোরে গেলাম, তখন কেবল আমার ভাই দীপক, আমার বৌদি মঞ্জু যাদব এবং রাধিকা উপস্থিত ছিল…” এফআইআরে বলেন কুলদীপ।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবরে
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
