Holi-তে ট্রেন ও বাসের টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে, দামও আকাশছোঁয়া

Holi

৪ মার্চ রঙের উৎসব হোলি (Holi) এবং ৩ মার্চ হোলিকা দহন ঘিরে  উত্তর ও পূর্ব ভারতে ব্যাপক ভিড়ের আগাম ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যারা বিমানের টিকিট কিনতে পারেন, তারা টিকিট বুকিং করছেন, যদিও ভাড়া আকাশছোঁয়া। কিছু সেক্টরের টিকিট প্রতি আসনের জন্য ২০,০০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু যারা পারেন না, এবং ভারতীয়দের বড় অংশ ট্রেনের উপরই নির্ভরশীল। যার টিকিট কোনও সময়ই পাওয়া সহজ কাজ নয়। হোলির ভিড়ের কারণে, শেষ মুহূর্তের জন্য বাড়ি ফিরতে চাইছেন এমন মানুষরাও টিকিট পাচ্ছেন না।

রাজধানী এবং দুরন্ত এক্সপ্রেসের মতো প্রিমিয়াম রেল পরিষেবা, যেখানে ভাড়া বিমানের মতোই পরিবর্তনশীল, সেখানেও হাহাকার চলছে, যার অর্থ কোনও বুকিং পাওয়া যাচ্ছে না। নিয়মিত মেইল, এক্সপ্রেস এবং সুপারফাস্ট ট্রেন, যেখানে দাম স্থিতিশীল, ৬০ দিন আগে বুকিং খোলার দিনই টিকিট তিন অঙ্কের ওয়েটিং লিস্টে চলে গিয়েছে।


হোলির ভিড় সামলাতে ভরতীয় রেল কর্তৃক ঘোষিত স্পেশাল ট্রেনগুলিতেও লম্বা ওয়েটিং লিস্ট চলছে, বিশেষ করে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু থেকে বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত উচ্চ চাহিদা সম্পন্ন রুটগুলির অবস্থা টইটম্বুর। হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের জন্য এখন বাসই শেষ অবলম্বন।

নয়াদিল্লির আনন্দ বিহার আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনাস (ISBT) এর বাস এজেন্টরা প্রতি আসনের জন্য ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত চার্জ করছে। প্রিমিয়াম ট্রেনগুলির উপর চাপ সব থেকে বেশি কারণ সময়ানুবর্তিতা এবং অন্যান্য ট্রেনের তুলনায় উন্নত পরিষেবার জন্য সবাই চাইছে এই ট্রেনের টিকিট কাটতে।

বেশ কয়েকটি রুটে, রাজধানী পরিষেবাগুলি এসি ১, এসি ২ এবং এসি ৩-এর সমস্ত শ্রেণীতে “রিগ্রেট”  হয়ে গিয়েছে। মানে আপনি চাইলেও টিকিট কাটতে পারবেন না। রেলওয়ে বুকিং পরিভাষায়, এর অর্থ হল কোনও আসন পাওয়া যাচ্ছে না, এমনকি ওয়েটিং তালিকাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অন্যান্য সুপারফাস্ট এবং এক্সপ্রেস ট্রেনগুলিতে টু ও থ্রি এসি এবং স্লিপার ক্লাসে ওয়েটিং তালিকা তিন অঙ্কে পৌঁছেছে।

দুরন্ত, তেজস এবং রাজধানী পরিষেবাগুলিতে হোলির ছুটির দিনগুলিতে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের মূল রুটে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসগুলিতেও লম্বা ওয়েটিং লিস্ট। ফ্লেক্সিবল রেট হওয়ার ফলে ভাড়া বেড়েছে, তবে চাহিদা কমেনি। উদাহরণস্বরূপ, দ্বি-সাপ্তাহিক ডিব্রুগড় রাজধানীতে, নয়াদিল্লি থেকে শিলিগুড়ির এসি ৩ টিকিটের দাম এখন ৩,৪৩০ টাকা এবং ওয়েটিং লিস্ট প্রায় ১১৩। এসি ২ টিকিটের দাম ৪,৬৩৫ টাকা, যার ওয়েটিং লিস্ট ৩৭।

নয়া দিল্লি-পাটনা তেজস রাজধানীতে, এসি ৩ টিকিটের দাম ২,৫৪৫ টাকা, তবে বিশাল ওয়েটিং লিস্ট ২৩১-এ পৌঁছেছে। প্রথম এসি টিকিটের দাম এখন ৪,২৬০ টাকায় পৌঁছেছে। নয়াদিল্লি থেকে কলকাতা যাওয়ার শিয়ালদহ রাজধানী ট্রেনে ৩,১২৫ টাকায় ৩এসি টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। ওয়েটিং লিস্ট ১০০ ছুঁই ছুঁই। ২এসি টিকিট ৪,২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ওয়েটিং লিস্ট ৪০-এর কাছাকাছি। প্রথম এসি হাল ছেড়ে দিয়েছে এবং‘রিগ্রেট’ মোডে চলে গিয়েছে।

বেঙ্গালুরু-কলকাতা দুরন্ত এক্সপ্রেসে ৩এসি আসনের একটি আসন ৪০০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে ৬০ জনের বেশি অপেক্ষা তালিকায় রয়েছে। প্রথম এসির একটি টিকিট ৭,০০০ টাকা ছুঁই ছুঁই, যা একটি বিমান টিকিটের ভাড়ার সমান। নয়াদিল্লি থেকে অযোধ্যাগামী বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের টিকিটেরও বিশাল ওয়েটিং লিস্ট তৈরি হয়েছে, যার ভাড়া ২,৭০০ টাকায় পৌঁছেছে। এমনকি প্রিমিয়াম ভাড়া দিতে ইচ্ছুক যাত্রীরাও ট্রেনে নিশ্চিত আসন খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।

নয়াদিল্লির করোলবাগে বসবাসকারী ৩২ বছর বয়সী একজন ব্যবস্থাপনা পেশাদার ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটালকে বলেন যে, হোলির জন্য বিহারের খাগারিয়া জেলায় তার বাড়িতে যাওয়ার জন্য বাসের টিকিট পেতে তাকে আনন্দ বিহার ইন্টারস্টেট বাস টার্মিনালে (আইএসবিটি) যেতে হয়েছিল, কারণ ট্রেনের টিকিট পাওয়ার সব আশা তিনি হারিয়ে ফেলেছিলেন।

হোলির ভিড় মেটাতে ভারতীয় রেলওয়ে প্রচুর স্পেশাল ট্রেন চালু করেছে। উত্তর রেলওয়ে কেবল দিল্লি-এনসিআর থেকে বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং ঝাড়খণ্ডের দিকে প্রায় ৩০০টি বিশেষ ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করেছে। মধ্য রেলওয়ে ১৮৬টি বিশেষ ট্রেন চালাবে, যার মধ্যে মুম্বই এবং পুনেকে নাগপুর, বারাণসী এবং গোরখপুরের মতো শহরগুলিকে সংযুক্ত করে ৯৪টি বিশেষ হোলি ট্রেন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে বুকিং করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে যে এই বিশেষ ট্রেনগুলিও বেশিরভাগই ওয়েটিং লিস্টে চলে গিয়েছে।

নতুন দিল্লি-বারাউনি, আনন্দ বিহার-পাটনা এবং নতুন দিল্লি-গোরখপুরের মতো রুটে বিভিন্ন ক্লাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা রয়েছে। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে, স্লিপার এবং এসি ক্যাটাগরির ট্রেনগুলি কয়েকদিন আগে থেকেই সম্পূর্ণ ভর্তি হয়ে গিয়েছে। এই অতিরিক্ত বিশেষ পরিষেবাগুলি সাহায্য করেছে, কিন্তু উৎসবের সময় যে সর্বোচ্চ চাহিদা তৈরি হয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

এই ক্ষেত্রে, অনেক যাত্রী তাদের যাত্রা ভাগ করে নিচ্ছেন অথবা বিকল্প রুট বেছে নিচ্ছেন। কেউ কেউ ভ্রমণ স্থগিত করছেন। অন্যরা বাতিল করছেন, আবার কেউ কেউ যাত্রা শুরুর একদিন আগে তৎকাল টিকিটের জন্য অপেক্ষা করছেন। যদিও তৎকালে এই সময় টিকিট পাওয়া মানে সে বিশাল ভাগ্যের অধিকারী।

সুতরাং, আশায় বুক বাধুন, তবে হতাশ হওয়ার সম্ভাবনাটাও মাথায় রাখুন তাহলে দুঃখ কম হবে। পুরো বছর ধরে যে কোনও উৎসবের মরসুমে ভারতীয় পরিবহন ব্যবস্থার উপর একটা বড় চাপ তৈরি হয়। হোলিও ব্যতিক্রম নয়।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle