বুধবারের বিমান দুর্ঘটনা আরও একবার নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল। এদিন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar) এবং আরও চারজনকে নিয়ে তাদের লিয়ারজেট ৪৫ এক্সআর বিমানটি অবতরণের সময় ভেঙে পড়ে। যাতে মৃত্যু হয় সকলের। তার পর থেকেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে পরিষেবা শুরু হওয়ার পর থেকে লিয়ারজেট ৪৫/৪৫এক্সআর মডেলের বিমানের সঙ্গে জড়িত এটি চতুর্থ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
এই সর্বশেষ দুর্ঘটনার সঙ্গে লিয়ারজেট ৪৫/৪৫এক্সআর-এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা প্রায় ২৯-৩০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যার মধ্যে বিমানের আরোহী এবং একটি ঘটনায় মাটিতে থাকা লোকেরাও অন্তর্ভুক্ত।
বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (এএআইবি) দুর্ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে এবং একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত এখন চলছে। এএআইবি তদন্তের নেতৃত্ব দেবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে বলে জানা গিয়েছে।
ভিএসআর দ্বারা পরিচালিত একটি লিয়ারজেট বিমান এর আগেও ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩-এ একই ধরনের একটি দুর্ঘটনার সম্মুখিন হয়েছিল, যখন সংস্থার মালিকানাধীন এবং ভিটি-ডিবিএল হিসেবে নিবন্ধিত আরেকটি লিয়ারজেট ৪৫ এক্সআর মুম্বই বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করার সময় ভেঙে পড়েছিল।
বিমানটি বিশাখাপত্তনম থেকে একটি অনির্ধারিত যাত্রী ফ্লাইট পরিচালনা করছিল এবং অবতরণের চেষ্টার সময় ভারী বৃষ্টি ও খারাপ দৃশ্যমানতার সম্মুখীন হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবতরণের সময় বিমানটি ২৭ নম্বর রানওয়ে থেকে ছিটকে যায় এবং এর কিছুক্ষণ পরেই যখন অটোপাইলট বন্ধ করা হয়, তখন ককপিটে স্টল সতর্কতা এবং ভূখণ্ড সতর্কতার সঙ্কেত রেকর্ড করা হয়।

পরবর্তীতে বিমানটি ট্যাক্সিওয়ের সংযোগস্থলের কাছে জরুরি অবতরণ করে, এতে বিমানের মূল কাঠামোর দু’টি অংশে ভেঙে যায় এবং আগুন ধরে যায়। সকল আরোহীকে আহত অবস্থায় নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
লিয়ারজেট ৪৫ হলো একটি মাঝারি আকারের ব্যবসায়িক জেট বিমান যা ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে পরিষেবা শুরু করে। এর উন্নত সংস্করণ লিয়ারজেট ৪৫এক্সআর পরে কর্মক্ষমতা এবং পরিচালন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য চালু করা হয়েছিল। বিমানটি বোম্বার্ডিয়ার তার লিয়ারজেট ব্যবসায়িক বিমান চলাচল পোর্টফোলিওর অংশ হিসেবে তৈরি ও উৎপাদন করেছিল।
২০২১ সালে, বোম্বার্ডিয়ার হালকা এবং মাঝারি আকারের জেট থেকে সরে আসার একটি কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সমস্ত লিয়ারজেট মডেলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। তা সত্ত্বেও, লিয়ারজেট ৪৫ এবং ৪৫এক্সআর বিমানগুলো বিশ্বজুড়ে কর্পোরেট অপারেটর, চার্টার সংস্থা, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে পরিষেবাতে রয়েছে।
প্রায় তিন দশকের কার্যকালে, লিয়ারজেট ৪৫/৪৫এক্সআর বিমানটি বিশ্বজুড়ে চারটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় জড়িত হয়েছে। প্রথমটি ২০০৩ সালে ইতালিতে ঘটেছিল, এরপর ২০০৮ সালে মেক্সিকো সিটিতে একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটে, যার ফলে বিমানে এবং মাটিতে উভয় জায়গাতেই প্রাণহানি হয়। তৃতীয় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাটি ২০২১ সালে মেক্সিকোতে ঘটে এবং এতে সামরিক বাহিনীর পরিচালিত একটি লিয়ারজেট ৪৫এক্সআর জড়িত ছিল। ভারতে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাটি এই বিমানটির সঙ্গে সম্পর্কিত চতুর্থ প্রাণঘাতী ঘটনা।
প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ছাড়াও, লিয়ারজেট ৪৫/৪৫এক্সআর বিমানটি বিশ্বজুড়ে ৪০টিরও দুর্ঘটনা এবং গুরুতর ঘটনার সম্মুখিন হয়, যেখানে অবস্য মৃত্যু হয়নি। এগুলোর ফলে সাধারণত কোনও প্রাণহানি ছাড়াই বিমানের ক্ষতি বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়। বেশ কয়েকটি বিমান বাতিল করা হয়েছে বা যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে টেলুরাইড, কলোরাডো (২০০৯), হিউস্টন, টেক্সাস (২০১৮), মুম্বই, ভারত (২০২৩), এবং কায়রো, মিশর (২০২৫)-এর ঘটনাগুলো উল্লেখযোগ্য।
বিমানটির দুর্ঘটনার ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে একাধিক ঘটনায় কিছু কারণ বারবার ফিরে এসেছে। রানওয়ে থেকে ছিটকে যাওয়া, যার মধ্যে রানওয়ে অতিক্রম করা এবং পাশ থেকে সরে যাওয়া অন্তর্ভুক্ত, হলো সবচেয়ে সাধারণ ঘটনার ধরনগুলোর মধ্যে অন্যতম। অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ল্যান্ডিং গিয়ার-সম্পর্কিত ত্রুটি, অবতরণ বা নামার সময় প্রতিকূল আবহাওয়া, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং-এর ঘটনা এবং কঠিন অবতরণ।
লিয়ারজেট ৪৫/৪৫এক্সআর-এর সঙ্গে জড়িত দুর্ঘটনা এবং গুরুতর ঘটনাগুলো একাধিক মহাদেশে ঘটেছে, যা বিমানটির বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ব্যবহারের প্রমাণ। উত্তর আমেরিকায় ঘটনার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঘটেছে, এবং দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়াতেও অতিরিক্ত ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
