বৃহস্পতিবার থেকে কল্যাণীতে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে সার্ভিসেসের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলা। এটি অনুষ্টুপ মজুমদার (Anustup Majumdar)-এর শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। সেই বিশেষ মাইলফলকের কথা মনে রেখে এবং দলের ফোকাসের বিষয়ে সতর্ক থেকে অনাড়ম্বর ভাবেই অনুষ্টুপকে সংবর্ধিত করল সিএবি। বুধবার বাংলা দলের অনুশীলনের পর অনুষ্টুপকে ১০০ নম্বর লেখা বিশেষ জার্সি উপহার দিলেন সিএবি সচিব বাবলু কোলে এবং শততম ম্যাচ উপলক্ষে অনুষ্টুপের মাথায় বিশেষ টুপি পরিয়ে দেন সিএবির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। গোটা বাংলা দল এই সময় উপস্থিত ছিল সেখানে। দলের তরফেও সতীর্থদের স্বাক্ষর করা একটি জার্সি তুলে দেওয়া হয় অনুষ্টুপের হাতে। ছিলেন সিএবির প্রাক্তন সচিব তথা বর্তমানে সিএবির প্রধান কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়।
সিএবি সচিব বাবলু কোলে অনুষ্টুপকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বাংলা অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অভিষেক হয়েছিল অনুষ্টুপের। বরাবর তুমি ভালো খেলেছো। তবে যেভাবে তুমি কামব্যাক করেছো, তা দৃষ্টান্ত। বাবা-মায়ের অবদানের জন্য তুমি ক্রিকেটে এত দূর এসেছো। তবে কামব্যাকের ক্ষেত্রে তোমার স্ত্রী-র অবদান অনস্বীকার্য। লিস্ট এ-র পর এবার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে শততম ম্যাচ খেলতে নামছো। ব্রিলিয়ান্ট অ্যাচিভমেন্ট। এখনও বাংলা দল ব্যাটিং সমস্যায় পড়লে আমরা খবর নিই রুকু, শাহবাজ আছে না। এটাই কনফিডেন্স লেভেল। আরও রান করো, চাই ত্রিশতরান করো। আর দলের সকলকে বলব রঞ্জি ট্রফি জেতো।”
বিশেষ করে দলের বিপদের মুহূর্তে যেভাবে অনুষ্টুপ বারবার পরিত্রাতা হয়ে ওঠেন, সে কথা মনে করিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান সিএবির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। অনুষ্টুপের ডাক নাম রুকু। তবে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার দক্ষতার কারণে বাংলা দলের মধ্যে তাঁকে কেউ ডাকেন ‘ক্রাইসিস ম্যান’, কেউ বলেন ‘লোকনাথ বাবা’, কেউ বা সংকটমোচন।
বাংলার হেড কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা অনুষ্টুপের ফিটনেস, ধারাবাহিকতার প্রশংসা করে বলেন, শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ এক অসাধারণ কীর্তি। অনুষ্টুপের কেরিয়ারে তাঁর বাবা-মায়ের ভূমিকার কথাও মনে রাখতে হবে। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ বলেন, শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ অসাধারণ কীর্তি। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে অনুষ্টুপ মজুমদার একজন বড় ম্যাচ উইনার। চাইব এভাবেই তিনি খেলা চালিয়ে যান।
মহম্মদ শামির কথায়, ছোটবেলা থেকে সকলের স্বপ্ন থাকে রঞ্জি ট্রফি খেলার, রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করার। কিন্তু অনুষ্টুপ যে ধারাবাহিকতা দেখিয়ে ২১ বছরের বেশি সময় ধরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে চলেছেন তাতে ‘হ্যাটস অফ’। শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা তাঁর কাছে যেমন গৌরবের, তেমনই সতীর্থদের কাছেও। এমন ক্রিকেটারদের সঙ্গে থাকলে সব সময় কিছু না কিছু শেখার থাকে। অনুষ্টুপ ইতিমধ্যেই রোল মডেল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
শাহবাজ আহমেদ বলেন, অনুষ্টুপ মজুমদারের সঙ্গে ব্যাটিং বরাবর উপভোগ করি। তাঁর যা দক্ষতা বা প্রতিভা, তা পরিসংখ্যানে বোঝা যাবে না। তিনি সব ট্রফিই জিতেছেন, আমার মনে হয় রঞ্জি জেতার সময়টাও এবার হয়ে এসেছে। টেল এন্ডারদের নিয়ে অনুষ্টুপের ব্যাটিং দক্ষতার কথা যেমন উঠে এলো মুকেশ কুমারের কথায়, তেমনই আকাশ দীপের বক্তব্যে স্পষ্ট, অনুষ্টুপকে বোলিংয়ের সময় তিনিও অনেক কিছু শিখেছেন। সুদীপ চট্টোপাধ্যায়, সুদীপ কুমার ঘরামি থেকে শুরু করে শিবশংকর পাল, চরণজিৎ সিং মাথারুরা ভাগ করে নিলেন অনুষ্টুপের সঙ্গে মাঠে, মাঠের বাইরে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা। সুজন মুখোপাধ্যায়ের ক্লাব কাস্টমসে প্রথমবার প্রথম ডিভিশন লিগ খেলার সুযোগ পান অনুষ্টুপ। আজ সেই ক্রিকেটারের শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচের আগে আবেগবিহ্বল সুজনও।
অনুষ্টুপও সিএবির সংবর্ধনায় আপ্লুত, আবেগাপ্লুত। তিনি বলেন, ‘‘ক্লাব, সিএবি, বাংলার নির্বাচকরা আমার উপর আস্থা দেখিয়েছেন, আশা করি তাঁদের প্রত্যাশা কিছুটা রাখতে পেরেছি। ২০০৪ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের মাঠে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে প্রথম খেলি। প্রথম ডিভিশনে কাস্টমস ক্লাবে প্রথম খেলার পর কালীঘাটের হয়ে খেলেছি। সকলের আশীর্বাদ পেয়েছি বলেই আজ এখানে দাঁড়িয়ে। যে কঠিন সময় কাটিয়ে কামব্যাক করেছি তাতে মানসিকভাবে নিজেকে ঠিক রাখাটা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিজয় হাজারে, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি জিতেছি। দু’বার পরপর দলীপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। অনেক ভালো মুহূর্ত আছে। যা কঠোর পরিশ্রমের সুফল। আমাকে দেখে কেউ অনুপ্রাণিত হলে তা আমার কাছে অবশ্যই তৃপ্তির হবে। সিএবি আজ মনে রাখার মতো যে আয়োজন করল শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার আগে তাতে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।’’
ছবি ও লেখা— সিএবি
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
