কে ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নায়ক Ayatollah Ali Khamenei

Ayatollah Ali Khamenei

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (Ayatollah Ali Khamenei), যিনি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্তৃত্বের অধিকারী ছিলেন, শনিবার ভোরবেলা নিহত হন, যা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার সূত্রপাত করেছে। সে দেশের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে যে খামেনি তাঁর অফিসে মারা গিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ ইরান জুড়ে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে, যা ঐতিহ্যগতভাবে প্রবীণ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের জন্য পালন করা হয়। তবে কে এই খামেনি, কীভাবেই বা তাঁর উত্থান?

১৯৩৯ সালে পবিত্র শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন খামেনি, ১৯৭৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামিক বিপ্লবের আগে ইরানের রাজনৈতিক উত্থানের সময় একজন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হন। সেই শুরু। তার পর থেকে ক্রমশ জনপ্রিয়তার শিখরে উঠতে থাকেন। যা শনিবার তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে শেষ হল।


খোমেনির ঘনিষ্ঠ মিত্র, খামেনিকে তার বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য শাহ মহম্মদ রেজা পাহলভির শাসনকালে বারবার গ্রেফতার করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিপ্লব ইরানকে একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত করার পর, তিনি দ্রুত নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে ফিরে আসেন এবং নিজের জায়গা তৈরি কতে শুরু করেন, ধর্মীয় কর্তৃত্বকে রাজনৈতিক প্রভাবের মিলিয়ে দিয়েই সেরা নেতা হয়ে ওঠেন খামেনি।

তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যখন ইরান-ইরাক যুদ্ধ এবং বিপ্লবী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ একীকরণের সময়কালে এক অস্থির সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তাঁকে। সেই থেকেই সর্বোচ্চ আসনটা চলে আসে তাঁর দখলে। ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর, খামেনিকে ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা নিযুক্ত করা হয়, যা নির্বাচিত সরকারের ঊর্ধ্বে এবং রাষ্ট্রের উপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব বজায় রাখতে তৎপর ছিল।

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে, তিনি বেশ কিছু বিষয়ের উপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ তৈরি করেছিলেন এতগুলো বছরে। তাঁর মধ্যে যেমন রয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার নেটওয়ার্ক, কৌশলগত বৈদেশিক ও পারমাণবিক নীতিগত সিদ্ধান্ত
যা কার্যকরভাবে তাঁকে ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দিকনির্দেশনার চূড়ান্ত বিচারক করে তোলে, যা রাষ্ট্রপতি এবং সংসদের ক্ষমতার চেয়েও বেশি।

খামেনির শাসনকালে ইরান পশ্চিমের শক্তি, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একটি সংঘাতমূলক অবস্থান গড়ে তোলে, একই সঙ্গে আঞ্চলিক জোট এবং প্রক্সি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়া জুড়ে তার প্রভাব বিস্তার করে। তাঁর নেতৃত্বে, তেহরান রাষ্ট্র-বহির্ভূত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে এবং সিরিয়া, ইরাক, লেবানন এবং ইয়েমেনের সংঘাতে নিজেকে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে রূপ দিতে বড় ভূমিকা নেন তিনি।

খামেনি ধারাবাহিকভাবে পশ্চিমের চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের সার্বভৌমত্বে বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের উপর ভিত্তি করে ইরানের পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করেছিলেন। খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন, যা তাঁকে সমসাময়িক বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক নেতাদের একজন করে তুলেছিল।

তাঁর শাসন ইরানের আধুনিক ইতিহাসের গভীরে বিস্তৃত ছিল – বিপ্লব-পরবর্তী একীকরণ এবং বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গে পারমাণবিক অচলাবস্থা থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভের ঢেউ এবং তীব্রতর আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা পর্যন্ত তাঁর ভূমিকা ছিল।

তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে, ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে চলেছে কারণ এর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী পদে উত্তরাধিকার নির্ধারণের জন্য এগিয়ে যাচ্ছে – একটি প্রক্রিয়া যা ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য উভয়কেই প্রভাবিত করতে পারে। তার আগে থামতে এই যুদ্ধ।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle