লিওনেল মেসির ‘GOAT tour’-এর আয়োজক শতদ্রু দত্ত (Satadru Dutta), বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সল্টলেক স্টেডিয়ামে মেসির আগমনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পর ৩৭ দিন কারাবাস ভোগ করা শতদ্রু, দলটির বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করার হুমকি দিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্টে এই উদ্যোগপতি অভিযোগ করেন যে, সল্টলেকের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর গত তিন বছরের কঠোর পরিশ্রমকে নস্যাৎ করে দিয়েছে এবং তাঁর সম্মান সামাজিকভাবে নষ্ট করেছে। তিনি আরও জানান যে, তিনি দলটিকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন এবং মামলার শেষ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর শতদ্রু বলেন, ‘‘শুধুমাত্র নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন বলেই মনে করবেন না যে আপনারা আপনাদের শাস্তির ভাগ মিটিয়ে ফেলেছেন। আমি মানহানির মামলা দায়ের করব এবং প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাব। আমি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।’’
শতদ্রু বিদায়ী ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের তীব্র সমালোচনা করেন, কারণ তিনি এবং তাঁর সঙ্গীরা জোর করে মেসির সামনে চলে এসেছিলেন—যা ওই ফুটবলারকেরীতিমতো বিরক্ত করেছিল। মন্ত্রী ও তাঁর সঙ্গীদের দ্বারা ওই ক্রীড়াবিদকে ঘিরে ধরার বিষয়টি সল্টলেক স্টেডিয়ামের কানায় কানায় পূর্ণ দর্শকদের ক্ষুব্ধ করে তোলে; কারণ তাঁরা মেসিকে দেখতে হাজার হাজার টাকা খরচ করে মাঠে গিয়েছিলেন, তাঁরা মেসির ঝলকও দেখতে পাননি। মেসি রেগে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যেতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে গ্যালারি, যার ফলে স্টেডিয়ামের ভেতরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং মেসির সফর কলকাতায় খুব খারাপ অভিজ্ঞতার সঙ্গেই শেষ হয়।
শতদ্রু এই ঘটনার জন্য অরূপ বিশ্বাসকেই দায়ী করেন এবং বলেন যে, বিদায়ী মন্ত্রীকে তাঁর কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। শতদ্রু বলেন, ‘‘আমি তাঁকে বারবার নিষেধ করেছিলাম যে এখানে ছবি তুলবেন না। কিন্তু তিনি তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছবি তোলা চালিয়েই যান। এর খেসারত তাঁকে দিতেই হবে।’’
কলকাতার সেই বিশৃঙ্খল ঘটনার পর, পুলিশ শতদ্রু ও অন্যদের বিরুদ্ধে দু’টি পৃথক মামলা দায়ের করে; যার জেরে শতদ্রুকে ৩৭ দিন জেলে কাটাতে হয়। যা তাঁর প্রাপ্য ছিল না কোনওভাবেই। এর পর দেশের আরও দুটো জায়গায় তিনি মেসিকে নিয়ে অনুষ্ঠান করেছিলেন। যেখানে খুব সুষ্ঠভাবে তা সম্পন্ন হয়েছিল। যার থেকে প্রমান কলকাতার অনুষ্ঠান ভেস্তে যাওয়ার পিছনে তিনি যে কারণগুলো দেখাচ্ছেন সেটাই দায়ী।
এদিকে, ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারিও অরূপ বিশ্বাসের সমালোচনা করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার ঘোষণা করার সময় তিওয়ারি বলেন যে, অরূপ বিশ্বাস ‘ক্রীড়াজগতের এ,বি,সি,ডি জানেন না’ এবং তাঁর কার্যকালে তিনি রাজ্যের ক্রীড়ানীতি বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
১৫ বছরের শাসনকালের পর তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার ক্ষমতা থেকে অপসারিত হয়েছে। অন্যদিকে, বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে বিপুল জয়লাভের মাধ্যমে বিজেপি এই প্রথমবার বাংলার ক্ষমতায় এসেছে।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
