তমলুক খেলাঘর জর্জ টেলিগ্রাফ (Tomluk Khelaghar George Telegraph), নামের সঙ্গে কিছুদিন আগেই পরিচয় ঘটেছিল কলকাতা ফুটবলের। জেলা থেকে ফুটবলার তুলে আনার ক্ষেত্রে চিরকাল বড় ভূমিকা নেওয়া জর্জ টেলিগ্রাফ এবার গাটছড়া বেধেছে তমলুক খেলাঘরের সঙ্গে। জর্জ স্পোর্টস ক্লাবের ১০০ বছরের ইতিহাসে এমন অজস্র নজির রয়েছে, যেখানে জর্জে খেলে দেশের বড় ক্লাবের তথা দেশের জার্সিতে বড় নাম হয়ে উঠেছেন ফুটবলাররা। এবার সেই লক্ষ্যেই তমলুকের এই ক্লাবের সঙ্গে গাটছড়া বাধার সিদ্ধান্ত। আর তার সঙ্গে যখন যুক্ত হয় হোসে র্যামিরেজ ব্যারেটো আর সুমন দত্তের নাম, তখন তা আলাদা মাত্রা পায়। কলকাতা ময়দানের দুই প্রাক্তনের হাত ধরেই নতুন নামে পথ চলা শুরু করেছে Tomluk Khelaghar George Telegraph ।
এবার কলকাতা প্রিমিয়ার লিগে তাই নতুন নাম দিয়ে আত্মপ্রকাশ ঘটবে এই ক্লাবের। বুধবার সেই রূপনারায়ণ নদীর পাড়েই গোধূলির আলোয় হয়ে গেল সাংবাদিক সম্মেলন। উপস্থিত ছিলেন জর্জ টেলিগ্রাফ ক্লাবের সভাধিপতি তথা বঙ্গ ফুটবল নিয়ামক সংস্থার চেয়ারম্যান সুব্রত দত্ত। সঙ্গে ছিলেন সবুজ তোতা হোসে র্যামিরেজ ব্যারেটো। এবার জর্জ টেলিগ্রাফ ফুটবল দলের কোচিংয়ের দায়িত্বে রয়েছেন এই ব্রাজিলীয় তারকা। যদিও চিনি এখন অনেক বেশি বাঙালি। আজও তাঁকে দেখলে উত্তাল হয় কলকাতা ময়দান। এবার তিনি প্রিমিয়ারে কোচের ভূমিকায়। ইতিমধ্যেই কোচ হিসেবে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এবার বড় পরীক্ষা। কারণ খেলতে হবে তাঁর প্রাক্তন দল মোহনবাগান আর চিরশত্রু ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে।
ব্যারেটোও উচ্ছ্বসিত এই নতুন দায়িত্বে। বলছিলেন, ‘‘যে ভাবে সমস্তটা আয়োজন করেছে খেলাঘর জর্জ টেলিগ্রাফ তাতে পুরো দল নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত। কলকাতা প্রিমিয়ার লিগে গ্রুপ-এ বেশ শক্ত। এখানে বড় বড় দল রয়েছে। ছেলেরা এক্সপোজার অনেক বেশি পাবে। সব থেকে বড় কথা ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের মতো কলকাতার সেরা দুই দল রয়েছে।’’ আর সেটাই আরও বেশি করে তাতাচ্ছে ব্যারেটোকে। বলেই দিলেন সে কথা, ‘‘ আমার দল বি গ্রুপে পড়লে খানিকটা হতাশই হতাম। এ গ্রুপে লড়াই হবে। আমার দল লড়াই করার জন্য তৈরি।’’ আর ব্যারেটোর এই লড়াকু মনোভাবই ছড়িয়ে পড়বে পুরো দলের মধ্যে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
যাঁর পায়ে ভর করে একটা সময় এগিয়েছে পালতোলা নৌকা, এখন তিনি জর্জের মাঝি। দলের অধিনায়ক ও সহ অধিনায়ক যেমন ঘোষণা করলেন এদিন, তেমনই পরিকল্পনা নিয়েও বেশ খোলামেলা কথা বললেন ব্যারেটো। উপস্থিত বাকি সকলের মতো প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে সুব্রত দত্তের মনেও। সিএফএলে ক্লাবের প্রথম ম্যাচ ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচ নিয়ে যতটা আত্মবিশ্বাসী ব্যারেটো, ঠিক ততটাই উত্তেজিত দলের খেলোয়াড়রা। অধিনায়কের হুমকি, ম্যাচ এগারো জনের বিরুদ্ধে হবে। মাঠেই দেখা যাবে।
আর সামনে যখন ব্যারেটো আর চলছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ তখন ব্রাজিল নিয়ে প্রশ্ন হবে না তা কি হয়? তাই তাঁর বর্তমান দল নিয়ে প্রশ্নের বাইরে উঠে এল বিশ্বকাপ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন। তাঁর দেশ ব্রাজিলকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন ব্যারেটো। বলছিলেন, ‘‘জাপানের বিরুদ্ধে প্রথম দিকে কিছুটা ব্যাকফুটে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল যে ফুটবল খেলছে তাতে এখনও আমার বাজি ব্রাজিল। তবে ব্রাজিলের খেলায় ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে।’’
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
