Diogo Jota-র স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়েই ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ১৬-তে পর্তুগাল

Diogo Jotaছবি ফিফা বিশ্বকাপের এক্স থেকে

ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের নাটকীয় ২-১ গোলে জয়ের পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পাঁচবারের ব্যালন ডি’ওর জয়ী এই তারকা তাঁর প্রয়াত সতীর্থ দিয়োগো জোটার (Diogo Jota) স্মরণে ২১ নম্বর জার্সি গায়ে জড়িয়ে তাঁকে এক আবেগঘন শ্রদ্ধা জানান। জোটার মৃত্যুর প্রথম বার্ষিকীতে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। দীর্ঘদিনের সঙ্গী রুতে কার্দোসোর সঙ্গে বিয়ের মাত্র ১১ দিন পর, ২০২৫ সালের ৩ জুলাই স্পেনে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় লিভারপুলের এই ফরোয়ার্ড এবং তাঁর ভাই আন্দ্রে সিলভা প্রাণ হারান। দিয়োগো জোটার স্মৃতি নিজের গায়ে জরিয়ে চোখের জলে মাঠ ছাড়েন রোনাল্ডো।

পর্তুগাল দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে রাউন্ড অফ ১৬-তে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে, তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তটি ছিল জোটার স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত।দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করে পর্তুগালের ঘুরে দাঁড়ানোর সূচনা করা রোনাল্ডো সতীর্থদের জড়িয়ে ধরার পর অশ্রুসজল চোখে মাঠ ছাড়েন। জোটার ২১ নম্বর জার্সি গায়ে জড়িয়ে তিনি গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকদের অভিবাদন জানান; দেশের অন্যতম প্রিয় ফুটবলারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পর্তুগাল দিনটি উদযাপন করে।


৫৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচ গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দিলে মনে হয়েছিল তারা একটি স্মরণীয় জয় পেতে যাচ্ছে। তবে ৬৮তম মিনিটে ভিএআর-এর মাধ্যমে পেনাল্টি পেলে রোনাল্ডো ঠান্ডা মাথায় তা থেকে গোল করে সমতা ফেরান। ম্যাচটি যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, তখন বদলি খেলোয়াড় গনসালো রামোস স্টপেজ টাইমের চতুর্থ মিনিটে রাফায়েল লিয়াওয়ের ক্রস থেকে হেডে গোল করে পর্তুগালের জয় নিশ্চিত করেন। এরপরই জসকো গভার্দিওল গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে মনে হয়েছিল, কিন্তু ভিএআর-এর হস্তক্ষেপে অফসাইডের কারণে সেই গোলটি বাতিল করা হয়।

এই জয়ের ফলে সোমবার ডালাস স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে রাউন্ড অফ ১৬-এর এক হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত হল। পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযানের পুরো সময় জুড়েই জোটার অনুপস্থিতির বিষয়টি বড় হয়ে দেখা গিয়েছে। ৪৯টি ম্যাচে ১৪টি গোল করে তিনি জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফরোয়ার্ড হয়ে উঠেছিলেন এবং এই টুর্নামেন্টে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা ছিল। মৃত্যুর এক মাস আগে, স্পেনের বিপক্ষে পর্তুগালের উয়েফা নেশনস লিগ জয়ের উদযাপনে অংশ নিয়ে জোটা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ‘‘তোমরা পাশে থাকলে সবকিছুই সম্ভব। ধন্যবাদ, পর্তুগাল!’’

পোর্তো, উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স এবং লিভারপুলে খেলার আগে গন্ডোমার থেকে পাকোস দে ফেরেইরা পর্যন্ত তাঁর এই যাত্রাপথ তাঁকে পর্তুগালের অন্যতম প্রশংসিত সাফল্যের গল্পে পরিণত করেছিল। দেশের অনেক শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়ের মতো জোটা বেনফিকা, স্পোর্টিং বা পোর্তোর অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসেননি; বরং তিনি নিজের চেষ্টায় সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর পথ তৈরি করে নিয়েছিলেন।

এক বছর পরেও পর্তুগাল তাঁর স্মৃতি বহন করে চলেছে। বৃহস্পতিবার ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় তাদের শেষ ষোলোর (নকআউট পর্ব) জায়গা নিশ্চিত করলেও, রাতটি হয়ে উঠেছিল স্মৃতিরোমন্থনেরও। রোনাল্ডোর আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি দলের সেই মানসিক অবস্থাকেই তুলে ধরেছে—যে দল এখনও এমন এক সতীর্থের শোকে মূহ্যমান, যার প্রভাব কেবল মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle