কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণ সোমবার ঘোষণা করেছেন যে, ওড়িশায় ভগবান জগন্নাথের বার্ষিক রথযাত্রা (Rath Yatra) উপলক্ষে ভারতীয় রেল ৩০০টিরও বেশি এবং কেরালায় ওনাম উৎসবের সময় ১০০টিরও বেশি বিশেষ ট্রেন চালাবে। এর আগে এদিন, কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ভুবনেশ্বরের রেল সদন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নান্দেদ-মুম্বই এবং তানাকপুর-নান্দেদ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রার সূচনা করেন এবং তানাকপুর-পিলভিট ট্রেন পরিষেবাটি শাহজাহানপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্বোধন করেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় বৈষ্ণব পুরী ও কেরালার জন্য বিশেষ ট্রেন চালানোর ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘‘গ্রীষ্মকালীন মরসুমে, যা ৩০ জুন শেষ হয়েছে, এ বছর রেকর্ড সংখ্যক ১৫,০০০ বিশেষ ট্রেন চালানো হয়েছিল। জগন্নাথ রথযাত্রা উপলক্ষে ৩০০টিরও বেশি বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। কেরালায় ওনাম উৎসবের জন্য ১০০টিরও বেশি বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। নাগরিকরা যাতে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ পরিষেবা পান, সেজন্য রেলওয়ে, কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর এটি একটি বড় উদ্যোগ।’’
বৈষ্ণব আরও বলেন যে, নতুন চালু হওয়া ট্রেন পরিষেবাগুলি রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে এবং যাত্রীদের, বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তরাই অঞ্চলের শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের উপকারে আসবে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ‘‘তানাকপুর থেকে নান্দেদ সাহিব ও হুজুর সাহিব পর্যন্ত একটি ট্রেনের জন্য দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। এটি উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তরাই অঞ্চলের বিশাল শিখ সম্প্রদায়ের উপকারে আসবে। প্রত্যেকেই ‘পাঞ্জ তখত’-এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে চান এবং এই রেল যোগাযোগ সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে।’’
তিনি আরও জানান যে, খাতিমা ও বানবাসায় ট্রেন থামার (স্টপেজ) যে দাবি উঠেছে, রেলওয়ে তা খতিয়ে দেখবে। বৈষ্ণব বলেন, ‘‘খাতিমা ও বানবাসার জন্য যে দাবি এসেছে, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। যদি সম্ভব হয়, তবে আমরা অবশ্যই খাতিমা ও বানবাসায় এই ট্রেনের স্টপেজের ব্যবস্থা করব।’’
নান্দেদ-মুম্বই এক্সপ্রেসের বিষয়ে কথা বলার সময় রেলমন্ত্রী বলেন, এই ট্রেনটি ওয়াসিম, হিঙ্গোলি ও বাসমত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে এবং বিদর্ভ ও মারাঠওয়াড়া অঞ্চলের যাত্রীরা এর ফলে উপকৃত হবেন। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, তানাকপুর-পিলিভিট ট্রেন পরিষেবাটি শাহজাহানপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়েছে এবং তানাকপুর-আগ্রা পরিষেবা—যা আগে বিশেষ ট্রেন হিসেবে চলত—তা এখন নিয়মিত পরিষেবায় রূপান্তরিত করা হয়েছে।
গত ১২ বছরে রেলওয়ের অর্জনের কথা তুলে ধরে বৈষ্ণব জানান যে, প্রায় ৩৭,০০০ কিলোমিটার নতুন রেললাইন বসানো হয়েছে এবং রেলওয়ের বৈদ্যুতিকীকরণের হার ৯৯.৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, ‘‘গত ১২ বছর ধরে রেলওয়ের আমূল পরিবর্তনের প্রচেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী রেলওয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, যার ফলে আজ প্রায় ৩৭,০০০ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মিত হয়েছে। ভারতের ইতিহাসে রেলওয়ের এমন উন্নয়ন আগে কখনও হয়নি। এটি দেশের জন্য একটি বিশাল অর্জন এবং দেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়ও ছিল। পাশাপাশি, রেলওয়ের বৈদ্যুতিকীকরণের হার ৯৯.৬ শতাংশে পৌঁছেছে।’’
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
