Messi vs Yamal: ১৯ বছর আগে যাঁর কোলে উঠেছিলেন, আজ তাঁরই মুখোমুখি

Messi vs Yamal

উনিশ বছর আগে, লিওনেল মেসি অজান্তেই এমন এক গল্পের অংশ হয়েছিলেন যা একদিন ফুটবলের বিশ্বের সামনে আবার ফিরে আসবে অন্যরূপে তা কে জানত (Messi vs Yamal)। এখন ভাগ্য সেই গল্পকে এক পূর্ণ বৃত্তে নিয়ে এসেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় ২-১ গোলে জয়ের ফলে আর্জেন্টিনা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। ৩৯ বছর বয়সী মেসি ম্যাচের শেষলগ্নে দু’টি দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট করে আবারও প্রমাণ করেছেন যে তিনিই বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের প্রাণভোমরা। তাঁর অপেক্ষায় আছেন স্পেনের কিশোর বিস্ময় লামিন ইয়ামাল, যিনি পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে নির্ভীক পারফরম্যান্স দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। একজন ছুটছেন আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপার সন্ধানে। অন্যজন ছুটছেন তাঁর তরুণ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মুহূর্তটির লক্ষ্যে।

এই অসাধারণ গল্পের শুরু ২০০৭ সালে, যখন ২০ বছর বয়সী মেসি কাতালান সংবাদপত্র ‘ডিয়ারিও স্পোর্ট’-এর আয়োজনে ইউনিসেফের একটি ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময় বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের স্থানীয় পরিবারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল এবং কাকতালীয়ভাবে মেসিকে লামিন ইয়ামাল নামের এক শিশুর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বলা হয়। তিনি পরম মমতায় শিশুটিকে স্নান করান এবং কোলে নিয়ে ছবি তোলেন—তখন তিনি জানতেনও না যে এই শিশুটিই একদিন ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠবে।


দীর্ঘ সময় ধরে ছবিগুলো প্রায় বিস্মৃতির আড়ালেই ছিল। ২০২৪ সালে সবকিছু বদলে যায় যখন ইয়ামালের বাবা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিগুলো শেয়ার করেন। ছবিগুলো দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিশ্বজুড়ে ভক্তদের অবাক করে দেয়; কারণ জানা যায় যে মেসির কোলে থাকা সেই শিশুটিই বড় হয়ে বার্সেলোনার নতুন ‘ওয়ান্ডারকিড’ বা বিস্ময়-বালকে পরিণত হয়েছে।

এরপর থেকে ইয়ামাল সবার সর্বোচ্চ প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছেন। এখনও কৈশোর পেরোননি, অথচ ক্লাব ও দেশের হয়ে একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছেন এবং স্পেনের নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল শক্তির উৎস হয়ে উঠেছেন। চোখ ধাঁধানো ড্রিবলিং, অসাধারণ খেলার বোঝাপড়া এবং বয়সের তুলনায় অনেকবেশি অভিজ্ঞতার গুণে তিনি বিশ্বকাপকে আলোকিত করেছেন; তাঁর পারফরম্যান্স অনেককেই বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে যে তিনিই ফুটবলের পরবর্তী বিশ্বসেরা তারকা।

আর ঠিক উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে আছেন সেই খেলোয়াড়, যাকে আদর্শ মেনেই তিনি বেড়ে উঠেছেন।

মেসি আবারও সময়ের স্রোতকে জয় করেছেন। ৩৯ বছর বয়সেও আর্জেন্টিনার অধিনায়ক অভিজ্ঞতা ও প্রতিভার অপূর্ব সংমিশ্রণে আরেকটি স্মরণীয় বিশ্বকাপ অভিযান উপহার দিয়েছেন। তাঁর সাম্প্রতিকতম শ্রেষ্ঠত্ব ফুটে উঠেছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে, যেখানে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দু’টি দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট পরাজয়কে জয়ের রূপ দিয়েছে এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের আরও একটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে।

এখন ফুটবল বিশ্ব এমন এক সাক্ষাতের অপেক্ষায় যা বিশ্বাস করাও প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এটাই হল ফুটবল, যেখানে সব সম্ভব। যেভাবে সম্ভব মেসি-ইয়ামাল দ্বৈরথ।

যেখানে আরেকটি বিশ্বকাপ মুকুট জয়ের লড়াইয়ে এক কিংবদন্তি চ্যাম্পিয়ন। আর অন্যদিকে এক কিশোর বিস্ময়, যে ফুটবলে নতুন এক যুগের সূচনা করতে চায়। দুই খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারের মাঝে প্রায় দুই দশকের ব্যবধান; অথচ তারা এক সুতোয় বাঁধা পড়ে আছে এমন এক ছবির মাধ্যমে, যা তোলা হয়েছিল তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোনও ধারণাই জন্মানোর অনেক আগে।

ফুটবলের জগতে এর চেয়ে বড় কাকতালীয় ঘটনা খুব কমই দেখা যায়। বার্সেলোনায় দাতব্য কাজের অংশ হিসেবে তোলা একটি সাধারণ ছবিই যেন শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের পটভূমি হয়ে দাঁড়াল। মেসি যখন এক শিশুকে কোলে নিয়েছিলেন, তার ঠিক উনিশ বছর পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চের দুই প্রান্তে মুখোমুখি দাঁড়াবেন তাঁরা দু’জন—আর ইতিহাস অপেক্ষা করছে তাদেরই একজনকে বরণ করে নেওয়ার জন্য।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle