Rath Yatra-র দিন ফিরে দেখা যাক এর নেপথ্যের কিছু কাহিনী

Rath Yatra

আজ রথযাত্রা (Rath Yatra)। দেশজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় যতই রথযাত্রার উৎসব দেখা যাক না কেন, এই উৎসব আসলে পুরীর। যে কারণে প্রতিবছর এই রথযাত্রায় যোগ দিতে সারা দেশ থেকে মানুষ ভিড় জমান পুরীতে। এই সময় ভগবান জগন্নাথ তাঁর শ্রীমন্দির (জগন্নাথ পুরী বা নীলাদ্রিতে অবস্থিত মন্দির) থেকে সুন্দরাচলে অবস্থিত তাঁর উদ্যান-মন্দির ‘গুণ্ডিচা’-য় যাত্রা করেন। এই মন্দিরটি জগন্নাথ মন্দির থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে দুই মাইল দূরে অবস্থিত। তাই ওড়িশার বাসিন্দারা এই উৎসবকে ‘গুণ্ডিচা যাত্রা’ বলে অভিহিত করেন।

ভগবান কৃষ্ণ যখন মথুরা এবং সেখান থেকে দ্বারকায় গিয়েছিলেন, তখন বৃন্দাবনের গোপীরা তাঁর বিরহ অনুভব করছিলেন। তাঁরা তাঁর সঙ্গে যাননি কারণ দ্বারকার ঐশ্বর্য তাঁদের পছন্দ ছিল না। তাঁরা বৃন্দাবনের কুঞ্জবনে ‘শ্যামসুন্দর’ রূপে কৃষ্ণের সঙ্গ উপভোগ করতে চেয়েছিলেন। একবার সূর্যগ্রহণের সময় কুরুক্ষেত্রে রাধারানীর নেতৃত্বে বৃন্দাবনের গোপীরা কৃষ্ণের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। তাঁরা কৃষ্ণকে বৃন্দাবনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তাঁরা কৃষ্ণ, বলরাম ও সুভদ্রার রথ টেনে বৃন্দাবনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। রথযাত্রা ভক্তদের এই ভাবাবেগের প্রতীক এবং গুণ্ডিচা মন্দিরটি বৃন্দাবনের প্রতীক। শঙ্খ, তূরী, ঢোল ও করতাল ধ্বনির মধ্যে দিয়ে হাজার হাজার ভক্ত বিশাল রথ টেনে নিয়ে যান। রথের সামনে সঙ্গীতশিল্পী ও নৃত্যশিল্পীর তাদের পরিবেশন করতে করতে চলে।


এর ঠিক ১৫ দিন আগে, জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমার দিন ভগবান জগন্নাথের স্নান-উৎসব বা ‘স্নান যাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়। জগন্নাথ, বলদেব, সুভদ্রা, সুদর্শন এবং মদন-মোহন (উৎসব-বিগ্রহ)-এর বিগ্রহগুলিকে স্নান-বেদীতে নিয়ে আসা হয় এবং মন্দিরের উত্তর দিকে অবস্থিত কুয়োঁ থেকে তোলা ১০৮ কলস পবিত্র জল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্নান করানো হয়। স্নান-উৎসবের পর ভগবান জগন্নাথ অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে মনে করা হয় এবং তিনি তাঁর ব্যক্তিগত কক্ষে চলে যান। ১৫ দিন ধরে কেউ তাঁকে দর্শন করতে পারেন না। এই সময়কালকে ‘অনবসর’ বলা হয়। এই সময়ে জগন্নাথ বিগ্রহের অঙ্গসজ্জা বা সংস্কারের কাজ করা হয়। একে ‘নব-যৌবন’ বলা হয় (যার অর্থ জগন্নাথের বিগ্রহকে পুনরায় যৌবনাবস্থায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে)।

রথযাত্রা উৎসবের দিন প্রভু পুনরায় ভক্তদের দর্শন দেন। ১৫ দিন ধরে নিভৃত সেবার পর, রথযাত্রার দিন প্রভু তাঁর ভক্তদের সামনে চির-যৌবনময় রূপে আবির্ভূত হন। এরপর শোভাযাত্রা সহকারে তাঁকে রথে নিয়ে যাওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানটি ‘পাহণ্ডি বিজয়’ নামে পরিচিত। গজপতি রাজা নিজে সোনার হাতলযুক্ত ঝাড়ু দিয়ে পথ পরিষ্কার করেন এবং সুগন্ধি জল ও চন্দন গুঁড়ো ছেটান; শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সময় থেকে এই প্রথা চলে আসছে, যখন মহারাজা প্রতাপরুদ্র জগন্নাথ দেবের সেবায় এই কাজটি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে মহারাজা প্রতাপরুদ্র চৈতন্য মহাপ্রভুকে সন্তুষ্ট করেছিলেন। মহারাজা প্রতাপরুদ্রের উত্তরসূরিরা আজও তাঁর সেই দৃষ্টান্ত স্মরণ করেন। এমনকি আজও, রথযাত্রা শুরুর আগে ওড়িশার রাজা সোনার হাতলযুক্ত ঝাড়ু হাতে জগন্নাথ দেবের রথের সামনের পথ পরিষ্কার করেন।

ভক্তরা রথের সামনে মহাসমারোহে সংকীর্তন পরিবেশন করেন। সবার আগে চলে বলদেবের রথ ‘তালধ্বজ’, এরপর সুভদ্রা দেবীর রথ এবং সবশেষে আসে জগন্নাথ দেবের রথ ‘নন্দীঘোষ’। নানা ধরনের খাবার রান্না করে প্রভুকে নিবেদন করা হয় এবং তা প্রসাদ হিসেবে জনসাধারণের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এভাবেই প্রভু গুণ্ডিচা মন্দিরে পৌঁছান এবং সেখানে এক সপ্তাহ অবস্থান করেন।

জগন্নাথ দেব তাঁর ভাই ও বোনের সঙ্গে শ্রীমন্দির থেকে বেরিয়ে আসেন। পঞ্চম দিনে, দেবী লক্ষ্মী তাঁর স্বামীর জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তিনি নিজে গুণ্ডিচা মন্দিরে যান স্বামীকে শ্রীমন্দিরে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য। প্রভু শীঘ্রই ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দেন এবং তাঁকে ‘আজ্ঞা মালা’ (সম্মতির মালা) প্রদান করেন। নিজের ক্ষোভ প্রকাশের জন্য লক্ষ্মীদেবী তাঁর অনুচরদের ‘নন্দীঘোষ’ রথটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। এই অনুষ্ঠানটি ‘রথ-ভঙ্গ’ নামে পরিচিত। তবে নিজের এই ক্রুদ্ধ আচরণের পরিণতির ভয়ে তিনি গুণ্ডিচা মন্দিরের বাইরে একটি তেঁতুল গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়েন এবং গোপনে অন্য একটি পথ দিয়ে নিজের আবাসস্থল শ্রীমন্দিরে ফিরে যান।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle