Durand Cup 2026-এর উদ্বোধনী ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে শুরু মোহনবাগানের

সুচরিতা সেন চৌধুরী: ডুরান্ড কাপের (Durand Cup 2026) উদ্বোধনী ম্যাচেই যখন মুখোমুখি হয় ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান তখন তা ঘিরে যে বাড়তি উন্মাদনা থাকবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। যদিও দুই দলের কেউই এখনও দল গুছিয়ে উঠতে পারেনি। কোচেরা যোগ দিয়েছেন মাত্র চারদিন আগে। বিদেশি সবাই এসে পৌঁছায়নি। যাঁরা এসেছেন তাঁরা খেলার মতো অবস্থায় এখনও পুরোপুরি নেই। এই অবস্থায় মরসুমের শুরু হল ডার্বি দিয়ে। সব ভারতীয়দের নিয়েই প্রথম একাদশ সাজাতে হল দুই বিদেশি কোচকে। একদিক থেকে ভারতীয়দের জন্য নিজেদের প্রমাণ করার সুবর্ণ সুযোগ। যদিও খেলা দেখে মনে হল না, তেমন কোনও ইচ্ছে তাঁদেরও ছিল। তার মধ্যেই দুই দল কিছু আধা সুযোগ তৈরি করল। যা থেকে প্রথমার্ধে কোনও গোল তো এলই না বরং প্রথম ২০ মিনিটের পর থেকেই যেন কিছুটা হতোদ্যম হয়ে পড়লেন দুই দলের ফুটবলাররা। বরং দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম অংশটা মোহনবাগানের হলে, শেষটা ইস্টবেঙ্গলের। তবে শেষ হাসি হাসল মোহনবাগান ১-০ গোলে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে।

প্রথম ৩ ও ৪ মিনিটে একটি কর্ণার ও একটি ফ্রিকিক পেলেও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হল ইস্টবেঙ্গল। ৬ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের নবাগত রোহিত দানুর সামনে একটা সুযোগ চলে এসেছিল কিন্তু তাঁর নিচু হয়ে আসা শট সহজেই বাঁচিয়ে দিলেন বিশাল কেথ। এর পরের ৯ ও ১০ মিনিট ছিল মোহনবাগানের, যখন লিস্টনের ফ্রি কিক থেকে সরাসরি গোল করার চেষ্টা ব্যর্থ হল। অন্যদিকে মনবীর সিংয়ের বক্সের মধ্যে গোলের ক্রস ধরার জন্য কেউ পৌঁছতেই পারলেন না। সব মিলে কলকাতা ডার্বি ঘিরে মাঠের অন্দরে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যায় তা যেন অধরাই থেকে গেল। তার মধ্যেই সাহাল আব্দুল সামাদকে গোলের সামনে কিছুটা ছটফট করতে দেখা গেল। যার ফল ২৪ মিনিটে মনবীরের থ্রু থেকে সাহালের প্রচেষ্টা জিকসনের হাতে লেগে বেরিয়ে গেল বাইরে। বক্সের মধ্যে বল হাতে লাগায় পেনাল্টির দাবি করলেও তা দেননি রেফারি কারণ জিকসনের হাত শরীরের সঙ্গে লেগে ছিল এবং বল এসে তাঁর হাতে লাগে।


এর মধ্যেই হলুদ কার্ড দেখলেন কিয়ান নাসিরি। প্রথমার্ধ শেষ হল গোলশূন্য ভাবেই।দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা অবশ্য খুবই হালকা চালে শুরু হয়েছিল আর তার মধ্যেই গোলের মুখ খুলে ফেলল মোহনবাগান। ৫৩ মিনিটে বক্সের বাঁদিক থেকে কিয়ান নাসিরির পাস গোলের মুখে ধরতে গিয়ে মনবীর পড়ে গেলে সেই বল পেয়ে যান সাহাল। ডানদিক থেকেই জয় গুপ্তাকে পাশে নিয়েই ইস্টবেঙ্গল জালে বল জড়ালেন সাহাল। গোল করে খেলায় কিছুটা গতি বাড়াল মোহনবাগান। তার মধ্যেই দুই দল দুটো করে পরিবর্তন করল।

৬০ মিনিট নাগাদ ইস্টবেঙ্গল রোহিত কুমারকে তুলে মহম্মদ রশিদ আর রোহিত দানুকে তুলে পিভি বিষ্ণুকে নামিয়ে খেলার গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন কোচ। তার ঠিক এক মিনিটের মধ্যেই কিয়ানকে তুলে দীপক টাংরি আর সামাদকে তুলে দেজান দ্রাজিচকে নামিয়ে দেন মোহনবাগান কোচ। এর পর ডেভিডের জায়গায় ড্যানিয়েলকে নামিয়ে নতুন বিদেশিকে দেখে নিলেন হাবাস। অন্যদিকে ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে শহরে পা রাা রডরিগেজকেও নামিয়ে দিলেন প্যানোস। সব মিলে দুই কোচের সামনে এই ম্যাচ নিজের দলকেই মেপে নেওয়ার পরীক্ষা ছিল যেন।

সেই পরীক্ষায় রামিরেজের শট শেষ বেলায় পোস্টে না লাগলে শুরুতেই বড় নম্বর নিয়ে পাশ করে যেতেন তিনি। তবে তেমনটা হল না। বরং শেষ ২০ মিনিট মোহনবাগান বক্সে ঝড় তুলল ইস্টবেঙ্গল কিন্তু তাতে কাজের কাজ হল না। গোলের সামনে বার বার ছটফট করেও গোল তুলে নিতে ব্যর্থ হল ইস্টবেঙ্গল। যার ফল ডার্বি জিতে মরসুম শুরু করে দিল মোহনবাগান। ইস্টবেঙ্গলের কোচের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম ডার্বি হারের মুখ দেখতে হল হাবাসকে।

মোহনবাগান: বিশাল কেথ, শুভাশিস বসু (আলবার্তো রডরিগেজ), রাহুল ভেকে, মেহতাব সিংহ, অভিষেক সিংহ, আপুইয়া, অনিরুদ্ধ থাপা, সাহাল আব্দুল সামাদ (দেজান দ্রাজিচ), কিয়ান নাসিরি (দীপক টাংরি), লিস্টন কোলাসো (সায়ন বন্দোপাধ্যায়), মনবীর সিংহ (সুহেল ভাট)।
ইস্টবেঙ্গল: প্রভসুখন সিংহ গিল, আনোয়ার আলি, সন্দীপ মান্ডি, জয় গুপ্ত, লাল চুংনুঙ্গা, জিকসন Bses, রোহিত কুমার (মহম্মদ রশিদ), ডেভিড লালহানসাঙ্গা (ড্যানিয়েল রামিরেজ), রোহিত দানু (পিভি বিষ্ণু), বিপিন সিংহ (জেসিন টিকে), এডমুন্ড লালরিনডিকা।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle