Durand Derby দিয়ে মরসুম শুরু করতে প্রস্তুত ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের নবাগত দুই কোচ, লড়াই যখন ভারতীয় ব্রিগেডের

Durand Derby

সুচরিতা সেন চৌধুরী: এমন মুহূর্ত ভারতীয় ফুটবলে খুব কমই এসেছে। যখন ডুরান্ড ডার্বি (Durand Derby) দিয়ে শুরু হয়েছে মরসুম। গত কয়েক বছর ধরে ডুরান্ড কাপ দিয়েই শুরু হচ্ছে মরসুম আর সেটা হচ্ছে কলকাতায়। ডুরান্ডের ইতিহাস অবশ্য দিল্লি নির্ভর। একটা সময় ছিল যখন ভারতীয় ফুটবলে দিল্লিরও একটা রমরমা ছিল। ডুরান্ড কাপ পুরোটাই হতো জাতীয় রাজধানীতে। আর হতো নেহেরু কাপ। এখন সবটাই অতীত। তার পরিবর্তে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মিলিটারির এই টুর্নামেন্টকে। তার মধ্যে অন্যতম অবশ্যই কলকাতা। তার সঙ্গে রয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারত আর গোয়া। এবার তাতে যুক্ত হয়েছে জামশেদপুর। সব মিলে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় জায়গা করে নিয়েছে ডুরান্ড কাপ। এবার যা শুরু হচ্ছে কলকাতা ডার্বি দিয়ে।

মরসুমের শুরুতেই ডার্বি হওয়ায় কিছুটা বিপাকেও কলকাতার দুই প্রধান ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। আগের দিন যুবভারতীতে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে সে কথা স্বীকার করে নিলেন দুই দলের দুই নবাগত কোচ পানাজিওটিস দিমপেরিস ও অ্যান্টোনিও লোপেজ হাবাস। মোহনবাগান কোচ প্যানোস বলছিলেন, “অল্প সময় অনুশীলন করেই আমাদের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। প্লেয়াররা পুরো ম্যাচের জন্য প্রস্তুত নয় এখনই। আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের খেলতে হবে। আশা করছি আমার দল কোয়ালিটি ফুটবল খেলবে।”


একই কথা শোনা গেল ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাসের গলায়ও। তিনিও বলছিলেন, “এত অল্প সময়ের অনুশীলনে খেলাটা কঠিন। ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য কোনও সময়ই পাইনি।” তবে আত্মবিশ্বাসের সুর দুই কোচের গলাতেই। যা ক্ষমতা আছে তা নিয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত দুই দল।যদিও নতুন দল দুই কোচের জন্য তবুও দু’জনেই ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে পরিচিত। একজন পঞ্জাব এফসির কোচের দায়িত্ব সামলেছেন আর অন্যজন দীর্ঘদিন সামলেছেন প্রতিপক্ষ মোহনবাগানের দায়িত্ব। যে কারণে দুই কোচের সামনে দুই চ্যালেঞ্জ তবে লক্ষ্য একটাই, ডার্বি জিতে মরসুম শুরু করা।প্যানোস বলছিলেন, “ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে শুরু করাটা আমার জন্য উত্তেজনার। এই প্রতিযোগিতাটাই তো ফুটবল। তবে আমার জন্য ফুটবল সবসময় ১১ বনাম ১১। বাকি কিছু আমাকে ভাবায় না।” অন্যদিকে হাবাসের মত, “আমার দর্শন সলিড, কমপ্যাক্ট অ্যান্ড কমপিট।” যা পুরোপুরি হয়ে উঠতে সময় লাগবে।

দেখুন ভিডিও—

তবে তাঁর মোহনবাগানের কোচ থাকার সময়ের ইস্টবেঙ্গল দল আর এই ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে যে অনেক পার্থক্য সেটাও মনে করিয়ে দিলেন হাবাস। বলছিলেন, “আমার জন্য এটা আলাদা। আমি যখন মোহনবাগানে ছিলাম তখন ইস্টবেঙ্গল আইএসএল জেতেনি আর এখন ইস্টবেঙ্গল আইএসএল চ্যাম্পিয়ন। আর আমি এই ইস্টবেঙ্গল দল নিয়ে খুশি। আমাদের দলে খুব ভালো ভারতীয় প্লেয়ার রয়েছে।” ঠিক যেটা আগের সাংবাদিক সম্মেলনে এসে বলে গিয়েছিলেন মোহনবাগান কোচ। এই প্রথম নয়, অতীতে তিনি যখন পঞ্জাব দলের দায়িত্ব নিয়ে কলকাতার দলের বিরুদ্ধে খেলতে এসেছিলেন তখনও ভারতীয় ফুটবলারদের প্রশংসা শোনা গিয়েছিল তাঁর গলায় আর এদিনও বলে গেলেন, “আমি সব ভারতীয় ফুটবলারদের চিনি। মোহনবাগানে সেরা ভারতীয়রা রয়েছে।”

এবারের ডার্বি যে ভারতীয়দের নিয়ে বাজিমাত করার তা খুব ভালো করেই জানেন দুই কোচ, জানেন দুই দলের ভারতীয় ফুটবলাররাও। এটা যে তাদের প্রমাণ করার ম্যাচ যা মেনে নিলেন ইস্টবেঙ্গলের জিকসন সিং। বলছিলেন, “আমরা প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় পাইনি। তাও আমরা সেরাটা দিতে চাই। আমরা ডার্বির জন্য তৈরি। এটা ভারতীয় প্লেয়ারদের সামনে নিজেদের প্রমাণ করার বড় সুযোগ আর আমাদের সামনে তো আইএসএল-এর পাশাপাশি এএফসিও রয়েছে।”

এটা ঠিক এই ইস্টবেঙ্গলকে ঘিরে প্রত্যাশা অনেকবেশি তার উপর কোচের দায়িত্বে আইএসএল-এর সফলতম কোচ। যিনি কখনও ডার্বি হারেননি। তবে সেটা মোহনবাগানের হয়ে। যে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে শনিবার আরও একটি ডার্বি খেলতে নামছেন হাবাস। যদিও অতীত নিয়ে ভাবতে নারাজ তিনি। বলছিলেন, “১২ বছরের আইএসএল-এ আমি অভিজ্ঞ হয়েছি। আমার কোনও পরিবর্তন হয়নি। তবে অতীত নিয়ে আমি ভাবতে রাজি নই। আমার সামনে এখন বর্তমান আর ভবিষ্যত।” এর সঙ্গে মেনে নিচ্ছেন, ফুটবলে ট্যাকটিক্যাল ও মেন্টাল, দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে এদিন মোহনবাগান কোচের সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে এসেছিলেন দলের নবাগত বিদেশি দেজান দ্রাজিচ। তিনি মরসুমের প্রথম ম্যাচে খেলবেন কি না সেই সিদ্ধান্ত ছাড়ছেন কোচের উপরই। বলছিলেন, “আমার কোনও চোট-আঘাত নেই। আমি খেলবো কি না সেটা কোচ সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে আমরা আমাদের সেরাটা দেব। আমি এই ম্যাচের জন্য মুখিয়ে রয়েছি।”

একজন অ্যাটাক, ডিফেন্সের পাশাপাশি পজেশন নিয়ে যখন ভাবছেন তখন তাঁকে এটাও ভাবাচ্ছে, তিনটি অনুশীলন সেশনে এই পারফেকশন আনা সম্ভব নয়। তখন আর এক কোচ মেন্টাল আর ট্যাকটিক্যাল সেরাটা দেওয়ার কথা বলছেন। যখন প্রথম কলকাতা ডার্বি খেলতে নামছেন মোহনবাগান কোচ তখন ডার্বি কে জলভাত করে ফেলেছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। সব মিলে এই ম্যাচ শুধু আর ডার্বি নয়, এই ম্যাচ মরসুম শুরুর প্রস্তুতি, এই ম্যাচ নতুনের সঙ্গে পুরনোর মেলবন্ধন আর এই ম্যাচ গ্ৰিস বনাম স্প্যানিশ কোচের মগজাস্ত্রের লড়াই।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle