ভারতীয় ফুটবলের প্রেক্ষাপট বদলে দেওয়ার মতো এক ঘটনায়, টাটা স্টিল নিশ্চিত করেছে যে তারা ‘জামশেদপুর ফুটবল (Jamshedpur FC) অ্যান্ড স্পোর্টিং প্রাইভেট লিমিটেড’-এ নিজেদের সম্পূর্ণ মালিকানা বা শেয়ার মাত্র ১০০ টাকার নামমাত্র মূল্যে ‘চার্চিল ব্রাদার্স স্পোর্টস ক্লাব’-এর কাছে বিক্রি করবে। জামশেদপুর ফুটবল অ্যান্ড স্পোর্টিং প্রাইভেট লিমিটেড (JFSPL) হল এই বৃহৎ ইস্পাত প্রস্তুতকারক সংস্থাটির একটি সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান। জানা গিয়েছে, সংস্থার বোর্ডের গঠিত ‘কমিটি অফ ডিরেক্টরস’ (পরিচালক পর্ষদের কমিটি) এই হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছে। এর আওতায়, টাটা স্টিল লিমিটেডের হাতে থাকা JFSPL-এর ১০০ শতাংশ ইকুইটি শেয়ার (যার মধ্যে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৪.০৮ কোটি শেয়ার অন্তর্ভুক্ত) ‘চার্চিল ব্রাদার্স স্পোর্টস ক্লাব প্রাইভেট লিমিটেড’-এর কাছে মাত্র ১০০ টাকার নামমাত্র মূল্যে হস্তান্তর করা হবে।
এবার প্রশ্ন, যদি আইএসএল খেলে তাহলে কী নামে খেলবে ক্লাব। স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে এটা স্পষ্ট, খেলতে হবে জামশেদপুর এফসির নামেই। কারণ আইএসএল খেলার ছাড়পত্র রয়েছে জামশেদপুরেরই। চার্চিল আইএসএল খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ফেডারেশনের অনুমোদনের পরই এই নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিচালক পর্ষদের কমিটির অনুমোদনের পর, টাটা স্টিল লিমিটেড এবং চার্চিল ব্রাদার্স একটি শেয়ার ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিতে JFSPL-এ টাটা স্টিলের সম্পূর্ণ মালিকানা (১০০ শতাংশ শেয়ার) চার্চিল ব্রাদার্সের কাছে হস্তান্তরের শর্তাবলি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, এই হস্তান্তরের বিষয়টি এখনও ‘অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন’ (AIFF)-এর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
২০২৬ অর্থবছরে (FY26) জামশেদপুর ফুটবল অ্যান্ড স্পোর্টিং প্রাইভেট লিমিটেডের টার্নওভার ছিল ৩২.২৩ কোটি টাকা।
জানা গিয়েছে, দু’টি বড় সংস্থা জামশেদপুর এফসি-র মালিকানা গ্রহণের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যার ফলে টাটা স্টিল ক্লাবটি চার্চিল ব্রাদার্সের কাছে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়।
টাটা স্টিলের কর্পোরেট সার্ভিসেস বিভাগের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডিবি সুন্দর রামাম ক্লাব বিক্রির বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘ভারতীয় ফুটবলে চার্চিল ব্রাদার্স একটি ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। আমরা আনন্দিত যে এই চুক্তির ফলে আমাদের খেলোয়াড় ও কোচেরা ক্লাব ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।’’
তৃণমূল স্তরে খেলাধুলার প্রসারে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে টাটা স্টিল জানিয়েছে যে, তারা ‘টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমি’ এবং যুব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ওপরই তাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ রাখবে। এখন পর্যন্ত এই অ্যাকাডেমি থেকে ১৫০ জনেরও বেশি খেলোয়াড় উঠে এসেছেন যারা ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন; এর মধ্যে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের ২৬ জন অধিনায়কও রয়েছেন। জামশেদপুরের ক্রীড়া পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য চলতি বিনিয়োগের পাশাপাশি, টাটা স্টিল তাদের যুব ক্রীড়া পরিকাঠামো বা ‘ইউথ ইকোসিস্টেম’-কে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে AIFF-এর সঙ্গেও যৌথভাবে কাজ করছে।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
