AFC Champions League Two — ইস্টবেঙ্গল এফসি ৪ (জয় গুপ্তা, রশিদ, ডেভিড, রোহিত দানু) vs আল আরাবি এসসি ১ (আনায়ো)
সুচরিতা সেন চৌধুরী: ডুরান্ড কাপের ইস্টবেঙ্গল আর এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু (AFC Champions League Two)-এর ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC) দলের মধ্যে রাতারাতি এতটা বদল কীভাবে ঘটালেন স্যার হাবাস, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। তবে ভালোর দিকে যে কোনও উদ্যোগকেই সাধুবাদ জানাতেই হবে। ইস্টবেঙ্গল মরসুম শুরু করেছিল ডুরান্ড কাপ ডার্বি হেরে। তার পর যে দুটো দলের বিরুদ্ধে ৮ ও ৫ গোলে জিতেছিল তাদের মান নিয়ে যত কম কথা বলা যায় ততই ভালো। সেটা খেলতে খেলতেই মাঝ পথে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র প্রাথমিক পর্যায়ের ম্যাচে নেমে পড়া। সব মিলে রাতারাতি ধারে ভারে অনেকটাই বদলে যাওয়া প্রতিপক্ষ কুয়েতের আল আরাবি এসসি। যারা নেমেছে পাঁচ বিদেশি নিয়ে, অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের বিদেশির সংখ্যা দুই। তবে কোনও পার্থক্যই এদিন বোঝা গেল না ইস্টবেঙ্গলের সুপরিকল্পিত ফুটবলে। বরং লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকলেন হার্দিক, বিপিনরা। যার ফল অতিরিক্ত সময়ে ৪-১ গোলে শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হাসল ইস্টবেঙ্গল। পৌঁছে গেল এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র মূল পর্বে।
ম্যাচ শুরুর ৬ মিনিটেই রশিদের শট বাঁচিয়ে দেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার সুলেমান। ১২ মিনিটে জেসিন টিকের শট সোজা গিয়ে জমা হয় গোলকিপারের হাতে। কাউন্ডার আক্রমণে উঠে গিয়েছিল প্রতিপক্ষ দলও কিন্তু এদিন ইস্টবেঙ্গল গোলের নিচে প্রভসুখনও অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন। যে কারণে প্রথমাার্ধে গোলের সুযোগ তৈরি করেও গোলের মুখ খুলতে ব্যর্থ হয় কুয়েতের দল। ১৯ মিনিটে আল আরাবির তরফে খালেদ লামেরশাদের নিশ্চিত গোলের সুযোগ আটকে যায় গিলের হাতে। এদিন আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল রীতিমতো টান টান। যদিও এক স্ট্রাইকারে খেলে আক্রমণে এগিয়ে থাকবে ইস্টবেঙ্গলই।
২০ মিনিটে জিকসনের সহজ সুযোগ নষ্ট থেকে ২৪ মিনিটে কিনানের গোল গিলের হাতে আটকে যাওয়া, ২৮ মিনিটে ফাঁকা বক্সে ঢুকেও জেসন টিকের গোলে শট নিতে না পারা, সবই ছিল প্রথমার্ধে। কিন্তু গোলের মুখ খুলতে পারল না কোনও দলই। প্রথমার্ধ শেষ হল গোলশূন্য ভাবেই। আর ঠিক যেখানে প্রথমার্ধ শেষ করেছিল ইস্টবেঙ্গল সেখান থেকেই দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করল। তাতে আক্রমণ আরও জোরদার হল। পুরো ম্যাচে যেভাবে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করল হাবাসের ছেলেরা তাতে জিততে না পারলে সে আফশোস বয়ে বেড়াতে হবে আজীবন।
আল আরাবি ম্যাচের সব থেকে ভালো সুযোগটি পেল ৪৯ মিনিটে। যখন আনাও-র শট কোনও রকমে বাইরে পাঠালেন গিল কর্নারের বিনিময়ে আর সেই কর্নার থেকেই কাউন্টার অ্যাটাকে এডমুন্ড থেকে দানি রামিরেজ হয়ে বল ধরে উঠে গিয়েছিলেন জেসিন টিকে। বক্সের মধ্যে ততক্ষণে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিপিনি। তাঁকেই বল বাড়ান জেসিন। কিন্তু ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে গোলে শট নিতে ব্যর্থ হন বিপিন। দলের এমন সহজ সুযোগ নষ্ট দেখে ডাগআউটে রীতিমতো উত্তেজিত দেখায় হাবাসকে। আল আরাবি নিয়ে ঠিক যতটা ভাবা হয়েছিল, খেলা দেখে অবশ্য তেমনটা মনে হল না। বরং তূল্যমূল্য বিচারে এদিন এগিয়ে থাকল ইস্টবেঙ্গলই। বরং ভিজে মাঠ বেশ সমস্যায় ফেলল আল আরাবির প্লেয়ারদের। বার বারই দেখা গেল শুয়ে বসে পড়তে। ততবার ছুটে যেতে হল ফিজিওকে।
৭২ মিনিটে রামিরেজকে তুলে পিভি বিষ্ণুকে নামিয়ে মাঝ মাঠ থেকে আক্রমণে আরও ধার বাড়াতে চাইলেন কোচ হাবাস। আর ৭৪ মিনিটে বক্সের মধ্যে প্রতিপক্ষ ফুটবলার মালেকোকে পিছন থেকে ফেলে দিয়ে পেনাল্টি পাইয়ে দিলেন সন্দীপ মান্ডি। যেখান থেকে গোল করতে ভুল করেননি আনায়ো। এতক্ষণ পর্যন্ত ম্যাচের দখল নিজেদের কাছে রেখেও গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ল ইস্টবেঙ্গল। পুরো ম্যাচে ভালো খেলে ভিলেন হয়ে গেলেন মান্ডি। শেষবেলায় অবশ্য মান বাঁচিয়ে দিলেন জয় গুপ্তা। ৯০ মিনিটে রশিদের ফ্রি কিক থেকে জয় গুপ্তার হেডে ১-১ করল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচ গড়াল অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে রশিদের দৃষ্টিনন্দন গোলেই জয়ের কাহিনী লেখার শুরু ইস্টবেঙ্গলের। এডমুন্ড থেকে রোহিত দানুর পা হয়ে বল পেয়ে গিয়েছিলেন রশিদ। বক্সের মধ্যে থেকেই চলতি বলে ডান পায়ের দুরন্ত শট চলে গেল দ্বিতীয় পোস্টের গা ঘেঁষে গোলে। শেষটা করে গেলন ডেভিড। বক্সের মধ্যে ইকোনোমিডিসের সঙ্গে পাস খেলে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেই ৩-১ করলেন ডেভিড। শেষ মুহূর্তে নেমে গোল করে গেলেন এই মিজো স্ট্রাইকার। শেষ গোল লেখা থাকল রোহিত দানুর নামে। প্রথমবার আইএসএল জয়ের পর প্রথমবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টু-র মূল পর্বে ইস্টবেঙ্গল এফসি।
ইস্টবেঙ্গল এফসি: প্রভসুখন সিং গিল, হার্দিক ভাট, আনোয়ার আলি, সন্দীপ মান্ডি, জয় গুপ্তা, বিপিন সিং (রোহিত দানু), জিকসন সিং, বাসিম রশিদ (রোহিত কুমার), ড্যানিয়েল ফার্নান্ডেজ (পিভি বিষ্ণু), এডমুন্ড লালরিনডিকা (ডেভিড), জেসিন টিকে (ক্রিস ইকোনোমিডিস)
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
