East Bengal: ০ (৫)
টাইব্রেকার: আনোয়ার আলি (গোল), রোহিত দানু (গোল), লালচুংনুঙ্গা (গোল), জেমস ইকোনোমিডিস (গোল), মহম্মদ রশিদ (গোল)
SC Delhi: ০ (৩)
টাইব্রেকার: জুয়ান পেনা (সেভ), রড্রিগোগুইনহো (গোল), দুভান ফেলিপি (গোল), মহম্মদ আইমেন (গোল)
সুচরিতা সেন চৌধুরী: একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ, সঙ্গে কখনও নিজেরা বাইরে পাঠালেন, আবার কখনও বাধা হয়ে দাঁড়াল ক্রসপিস আর পোস্ট। তার মধ্যে প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি পাইয়ে দেওয়া। যদিও তা আটকে গেল প্রভসুখন সিংয়ের হাতে। এক কথায় ডুরান্ড কাপ ২০২৬-এর প্রথম সেমিফাইনালে এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) ঘটনাবহুল প্রথমার্ধ শেষ হল গোলশূন্য ভাবেই। সব ঠিক থাকলে প্রথমার্ধেই ৩-১ গোলে এগিয়ে যেতে পারত ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধে তাতে যুক্ত হতে পারত আরও দুই। তাতে বাধা আরও একবার পোস্ট। সঙ্গে ডেভিডের সহজ সুযোগ নষ্ট। ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) বনাম পোস্টের লড়াই পৌঁছে গেল টাইব্রেকারে। আর সেখানেই বাজিমাত ইস্টবেঙ্গলের। নির্ধারিত সময় গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে জিতে ডুরান্ড কাপ ২০২৬ সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল।
কোয়ার্টার ফাইনালে প্রায় পুরো দলকেই বদলে দিয়েছিলেন হাবাস। প্রথম দলের আটজনকে বদলে দিয়েছিলেন। তবে এদিন ফিরলেন চেনা দলেই। চেনা ছন্দে ফিরতে অবশ্য লেগে গেল অনেকটা সময়। আনোয়ার, এডমুন্ড,জেসিন, বিপিনদের ফিরিয়ে খেলায় আক্রমণ থেকে রক্ষণ শক্তিশালী করলেন ঠিকই কিন্তু গোলের কাছে পৌঁছেও গোল এল না প্রথমার্ধে। ম্যাচ শুরুর তিন মিনিটেই গোলের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। যখন এডমুন্ডের ব্যাকহিল ধরে জেসিন টিকে বক্সের বাঁদিক থেকে ক্রস রেখেছিলেন বিপিনকে লক্ষ্য করে কিন্তু বলের নাগাল পাননি বিপিন। পাল্টা আক্রমণ করতে দেখা গেল প্রতিপক্ষ দিল্লিকেও। যার ফল রড্রিগুইনহোকে বক্সের মধ্যে ফাউল করে পেনাল্টি পাইয়ে দিলেন সন্দীপ মান্ডি।
৩৩ মিনিটে জোসেফ সানির ক্রস বক্সের মধ্যে পেয়ে গিয়েছিলেন রড্রি। তাঁকেই স্লাইডিং ট্যাকল করে বসেন মান্ডি। নিশ্চিত পেনাল্টি পেয়ে যয় দিল্লি। যদিও তাদের ভাগ্যে গোল ছিল না। রড্রির দুর্বল পেনাল্টি শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচিয়ে দেন প্রভসুখন সিং গিল। তবে ততক্ষণে ইস্টবেঙ্গলের নিশ্চিত গোলের সুযোগ আটকে দিয়েছে প্রথমে ক্রসবার আর তাঁর তিন মিনিটের মধ্যে পোস্ট। ১৬ মিনিটে রশিদের ফ্রি কিক সোজা গিয়ে লাগল ক্রসবারে। গোল হলে যে তা দৃষ্টি নন্দন হতো তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। এর ঠিক তিন মিনিটের মধ্যে জেসিন টিকের বক্সের মধ্যে থেকে শট ডানদিকের পোস্টে লেগে বেরিয়ে যায়। না হলে তখনই ২-০ গোলে এগিয়ে যেতে পারত ইস্টবেঙ্গল।
ইস্টবেঙ্গলের মিসের পরিমাণ বারার সঙ্গেই খেলায় ফিরতে দেখা গেল দিল্লিকে। আক্রমণেও ঝাঁঝ বাড়ল। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হল না। দ্বিতীয়ার্ধে পর পর তিনি পরিবর্তন করলেন হাবাস। হার্দিকের জায়গাায় নুঙ্গা, এডমুন্ডের জায়গায় ইকোনোমিডিস আর জেসিনের জায়গায় নামিয় দিলেন ডেভিডকে। হাবাসের সময়ে এখনও পর্যন্ত আগের তুলনায় অনেকবেশি গেম টাইম পাচ্ছেন ডেভিড। তবে ইস্টবেঙ্গল পোস্টের বাঁধা টপকাতে পারল না দ্বিতীয়ার্ধেও। ৭৩ মিনিটে রশিদের শট মহম্মদ আজহারের গায়ে লেগে আবারও পোস্টে লেগে ফিরল। দুই অর্ধ মিলে ইস্টবেঙ্গলের তিনটি গোলমুখি শট আটকে গেল পোস্ট আর ক্রসবারে।
৭৫ মিনিটে ইকোনোমিডিসের বক্সের মধ্যে ক্রস ধরেে ডেভিড যে সুযোগ গোলকিপারের হাতে মেরে নষ্ট করলেন তা দেখে সাইড লাইনে দাঁড়ানো কোচ হাবাসকে রীতিমতো উত্তেজিত দেখাল। দলের গোলমিসের বহর এএফসির জন্যও তাঁকে চিন্তায় রাখবে স্বাভাবিক। ৯০ মিনিটে ৫-৬ গোলে জেতার ম্যাচ পৌঁছে গেল টাইব্রেকারে। সাইড লাইনে অতিরিক্ত উত্তেজনা দেখিয়ে হলুদ কার্ড দেখলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাস।
ইস্টবেঙ্গল: প্রভসুখন সিং গিল, জয় গুপ্তা, সন্দীপ মান্ডি, আনোয়ার আলি, হার্দিক ভাট (লালচুংনুঙ্গা), এডমুন্ড লালরিনডিকা (জেমস ইকোনোমিডিস), জিকসন সিং, ড্যানিয়েল ফার্নান্ডেজ (মহম্মদ আসিফ), মহম্মদ রশিদ, বিপিন সিং (রোহিত দানু), জেসিন টিকে (ডেভিড)
