গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে কুকুরের কামড়ের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ এপিডেমিওলজি’-র ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর ৯১ লক্ষ (৯.১ মিলিয়ন) প্রাণী কামড়ের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে দায়ী কুকুর। ওই গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, প্রতি বছর ৫,৭২৬ জন মানুষ জলাতঙ্ক রোগে (Rabies) মৃত্যুবরণ করেন। কুকুরের কামড়জনিত গুরুতর জটিলতাগুলোর মধ্যে জলাতঙ্ক অন্যতম। এটি জলাতঙ্ক ভাইরাসের (রেবিস ভাইরাস) কারণে সৃষ্ট একটি ভাইরাসজনিত রোগ। একবার শরীরে প্রবেশ করলে এই ভাইরাস স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত চিকিৎসা না করা হলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে।
একবার লক্ষণ দেখা দিলে জলাতঙ্ক প্রায় ১০০ শতাংশ ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। তবে সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। মানুষের ক্ষেত্রে টিকা প্রদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, একটি নতুন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে—শিশুদের জন্য নিয়মিত ‘প্রি-এক্সপোজার’ (রোগের সংস্পর্শে আসার আগে) টিকা চালুর পরিবর্তে কুকুরের টিকাদানের আওতা বাড়ানোই ভারতের কেরালায় জলাতঙ্কজনিত মৃত্যু নির্মূল করার সবচেয়ে কার্যকর ও সাশ্রয়ী উপায়।
‘দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় ভারতের কেরালায় ২০২৬ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত জলাতঙ্ক প্রতিরোধের কৌশলগুলো মূল্যায়ন করা হয়েছে। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর আনুমানিক ৫৯,০০০ মানুষ জলাতঙ্কে মারা যায় এবং এই রোগের ভার বা প্রকোপের ক্ষেত্রে ভারতের অংশই সবচেয়ে বেশি।
বর্তমানে কেরালায় প্রতি বছর প্রায় দশ লক্ষ মানুষকে বিনামূল্যে ‘পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফিল্যাক্সিস’ (PEP) প্রদান করা হয় এবং ভারতে টিকাকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার হারের দিক থেকে রাজ্যটি অন্যতম শীর্ষস্থানে রয়েছে। তা সত্ত্বেও, ২০২৫ সালে কেরালায় র্যাবিস বা জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত।
এই গবেষণায় খতিয়ে দেখা হয়েছে যে, কুকুর বা অন্য কোনও প্রাণীর কামড় খাওয়ার আগেই শিশুদের র্যাবিসের টিকা দেওয়া হলে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে কি না, নাকি অন্য কোনও ক্ষেত্রে বিনিয়োগের ওপর জোর দেওয়া উচিত।
কুকুরকে টিকা দেওয়ার বিষয়টি সমস্যার মূলে গিয়ে সমাধান করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। গবেষণার গাণিতিক মডেল অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ কুকুরকে টিকা দেওয়া হলে কেরালায় জলাতঙ্কজনিত বার্ষিক মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসবে।
এই গবেষণার জন্য গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কেরালা ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ সায়েন্সেস-এর ডিরেক্টরেট অফ মেডিকেল এডুকেশন, স্কুল অফ পাবলিক হেলথ, কেরালার স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স-এর গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন।
গবেষণায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গিয়েছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষের জলাতঙ্কজনিত মৃত্যু নির্মূল করতে হলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক হারে কুকুরদের টিকাদানের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) স্বল্পমেয়াদী ‘পিইপি’ (PEP) চিকিৎসা পদ্ধতিতে সরে আসতে হবে।
তিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
