পশ্চিমবঙ্গের রেল নেটওয়ার্ককে নতুন রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে ৬১টি রেল প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে বলে আশা করা হচ্ছে; উল্লেখ্য, পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যটি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার রাজ্যের সচিবালয়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, বৈঠকে বিভিন্ন রেল প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এরপর বৈষ্ণব ও অধিকারী একটি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেন, যেখানে রেলমন্ত্রী বাংলায় ৫৩৮টি নতুন ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস তৈরির ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, আগামী দিনগুলোতে পশ্চিমবঙ্গে ১০২টি ‘অমৃত ভারত’ স্টেশন গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কলকাতা মেট্রো ৬০টি নতুন রেক (ট্রেন সেট) পাবে। এছাড়া শিলিগুড়ি ও দিল্লির মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত বুলেট ট্রেন পরিষেবাও চালু করা হবে।
রেলমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘এই বুলেট ট্রেনটি নয়াদিল্লি থেকে যাত্রা শুরু করে লখনউ, বারাণসী ও পাটনা হয়ে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে পৌঁছবে। মাত্র ছয় ঘণ্টায় এই দূরত্ব অতিক্রম করা সম্ভব হবে। এছাড়া, আগামী পাঁচ বছরে রাজ্যে ৬০টি নতুন ট্রেন পরিষেবা চালু করা হবে।’’
বাংলার ডানকুনিকে গুজরাটের সুরাটের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ পূর্ব-পশ্চিম মালবাহী করিডোর (ফ্রেইট করিডোর) তৈরির ঘোষণাও করা হয়েছে। রেলমন্ত্রী জানান, বাংলার জন্য ১ লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল প্রস্তুত রয়েছে।
বৈষ্ণব বলেন, বাংলার মানুষকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে রেল প্রকল্পগুলোকে আটকে দিতে পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। নবান্নে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘‘তবে এখন আপনারা অবাধে ও পূর্ণ উদ্যমে কাজ করতে পারবেন। আগের সরকার আপনাদের কাজ করতে দেয়নি।’’
একই সুর শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কণ্ঠেও। তিনি বলেন, তৃণমূলের আমলে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক কার্যত সংঘাতপূর্ণ হয়ে পড়েছিল, যার ফলে অনেক প্রকল্প থমকে গিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ‘‘তবে এখন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকারের সুফল পুরোপুরি ভোগ করতে পারবেন। ৬১টি রেল প্রকল্পের অনুমোদন ইতিমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে।’’
রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে রেল বোর্ডকে পূর্ণ সহযোগিতা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন। আশা করা যায়, সাধারণ মানুষের জন্য শহর বা রাজ্যের বাইরে যাতায়াত এর ফলে কিছুটা সহজ হবে। অতীতে বার বার দেখা গিয়েছে, ট্রেনে রিজার্ভেশন পাওয়া রীতিমতো লটারি পাওয়ার সামিল। বিশেষ করে ছুটিছাটা বা উৎসবের সময়ে। ট্রেন পরিষেবা বাড়লে সেই সমস্যারও সমাধান হবে।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
