শরতের নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুলের দোলা আর শিউলির স্নিগ্ধ সুবাস—প্রকৃতির এই অপরূপ সাজেই বাংলার আকাশে আগমনীর সুর। দেবীপক্ষ শুরু হতেই কলকাতা শহরের আকাশে বাতাসে উৎসবের আমেজ। নতুন জামা কাপড়ে সেজে রাস্তায় নেমে পড়ছে মানুষের ঢল। প্য়ান্ডালে প্য়ান্ডালে মানুষের লাইন জমতে শুরু করেছে। সবাই চাইছেন ফাঁকায় ফাঁকায় যতটা সম্ভব ঠাকুর (Durga Puja 2026) দর্শন করে নিতে। আজ চতুর্থীতে কোথায় যাবেন প্য়ান্ডাল হপিং করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি? না নিয়ে থাকলে তালিকায় যুক্ত করে নিন বেহালা। এমনিতে বেহালার বেশ কিছু পুজো খুবই বিখ্যাত। তার সঙ্গে যোগ করুন ‘লুনা সেভেন স্টার ক্লাব’কে। অসাধারণ প্রকৃতি সচেতন থিমে এবার সেজে উঠেছে তাদের প্য়ান্ডাল। নিশ্চিত আপনার ভালো লাগবে। সঙ্গে এটকা ভালো উদ্যোগকেও সাধুবাদ জানানো যাবে।
দেবী দুর্গার আরাধনায় এক অভিনব ভাবনায় সেজে উঠেছে বেহালার লুনা সেভেন স্টার ক্লাব। এবার তাদের পুজোর মূল আকর্ষণ পাটতন্তু ও পরিবেশ সচেতনতা। বীরেন রায় রোডের এই পুজোমণ্ডপ তৈরি হয়েছে পাট ও পাটজাত সামগ্রী দিয়ে। বাংলার ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্পকে নতুন করে জনজীবনে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
শুধু মণ্ডপসজ্জাতেই নয়, দেবী দুর্গা-সহ অন্যান্য দেবদেবীর সাজপোশাকেও রয়েছে পাটের অভিনব ব্যবহার। প্রতিমার শাড়ি ও ধুতি তৈরি হয়েছে পাট দিয়ে, যা এই ভাবনাকে দিয়েছে এক স্বতন্ত্র মাত্রা।

ঐতিহ্য, শিল্পভাবনা ও পরিবেশ সচেতনতাকে একসূত্রে গেঁথে লুনা সেভেন স্টার ক্লাবের এই উদ্যোগ তুলে ধরেছে বাংলার নিজস্ব সম্পদ পাটের বহুমুখী সম্ভাবনাকে। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিয়ে এভাবেই দর্শনার্থীদের কাছে এক বিশেষ আবেদন পৌঁছে দিতে চায় এই পুজো উদ্যোক্তারা। ঠিক সেই সময় যখন দিকে দিকে বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে রাজ্যের জুটমিলগুলো। হাজার হাজর বেকার মানুষ অসহায় এই পুজোর আবহেও। কে বলতে পার এখান থেকেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলার পাটশিল্প। তাই পাশে থাকুন যে কোনও সমাজ সচেতন উদ্যোগে। পুজোর আনন্দের সঙ্গে জুড়ে থাক সমাজের প্রতি কর্তব্যও।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
