Winter Season-এ সাবধানে থাকতে হবে হার্ট, ফুসফুস, ডায়াবেটিক রোগীদের

Winter Season

সোমবার উত্তর ভারতসহ পুরো দেশজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে, যার ফলে তাপমাত্রা মরসুমের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছে এবং জাতীয় রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বিশাল অংশে তীব্র শীতের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহ (Winter Season) অব্যাহত থাকায়, চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে অতিরিক্ত ঠান্ডা দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক অসুস্থতা, বিশেষ করে হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনি এবং বিপাকীয় রোগগুলোকে মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে।

দিল্লির তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গিয়েছে। যে কলকাতা ঠান্ডার জন্য হাপিত্যেশ করে সেখানেও তাপমাত্রা ১০-এর আশপাশে ঘোরাঘুরি করছে। যা প্রমাণ করে এই বছর দেশের বেশিরভাগ অংশই শীতের রেকর্ড করেছে। যা অসুস্থার পরিমাণ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত তাঁদের জন্য এই আবহাওয়া রীতিমতো ঝুঁকিপূর্ণ।


ঠান্ডা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়— ঠান্ডা আবহাওয়া হৃদপিণ্ড ও রক্তনালীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। শীতকালে রক্তনালী সংকুচিত হয়, জল পানের পরিমাণ কমে যায় এবং প্রায়শই লবণ খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। এই কারণগুলো একত্রিত হয়ে রক্তচাপ বাড়ায় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে এই সময় হৃদরোগীদের তীব্র ঠান্ডা এবং খারাপ বায়ুমানের কারণে সকালে হাঁটাচলা না করাই ভালো। শীতকালীন দূষণ হৃদরোগ সংক্রান্ত ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। রোগীদের অবশ্যই তাদের নির্ধারিত হৃদরোগের ওষুধ নিয়মিত ব্যবহার করকে হবে। শৈত্যপ্রবাহকে তাপপ্রবাহের মতোই গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। যেমন তাপপ্রবাহ মোকাবিলার পরিকল্পনা রয়েছে, তেমনি দুর্বল মানুষদের রক্ষা করার জন্য শৈত্যপ্রবাহ মোকাবিলার পরিকল্পনাও সমানভাবে প্রয়োজন।

ঠান্ডা বাতাস ফুসফুসের রোগ বাড়িয়ে তোলে— ফুসফুসের উপর ঠান্ডা হাওয়ার প্রভাব ক্ষতিকর হতে পারে। ঠান্ডা বাতাস সরাসরি শ্বাসনালীতে জ্বালা সৃষ্টি করে। ঠান্ডা বাতাস শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়ার পথকে সরু করে দেয়, যা ব্রঙ্কোস্পাজম বা শ্বাসনালীর পেশীগুলির হঠাৎ সংকোচন ঘটাতে পারে। এটি ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), যা দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস এবং এমফিসেমা অন্তর্ভুক্ত একটি দীর্ঘমেয়াদী ফুসফুসের অবস্থা, এবং ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষভাবে বিপজ্জনক। এই ধরনের রোগীরা শীতের তীব্রতার সময় প্রায়ই কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় বুকে সাঁই সাঁই শব্দ হওয়ার মতো সমস্যায় ভোগেন। কেউ কেউ এই পরিস্থিতিতে নিউমোনিয়ায়ও আক্রান্ত হয়ে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া, গরম কাপড়ের কয়েকটি স্তর পরা, নিয়মিত ইনহেলার ব্যবহার ও অসুধ খাওয়া এবং গরম পানীয় পান করাটা গুরুত্বপূর্ণ। তাপপ্রবাহের মতোই শীতপ্রবাহও শরীরে বড় ধরনের শারীরিক পরিবর্তন ঘটায়। তাই সাবধানতা জরুরী।

শীতকালে ডায়াবেটিস রোগীদের যত্ন— শীতকালে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শারীরিক কার্যকলাপ কমে যায়, যা সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রার নিয়ন্ত্রণের উপর প্রভাব ফেলে, এবং রোগীদের স্ট্রেচিং, যোগব্যায়াম বা হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে বাড়ির ভেতরে সক্রিয় থাকতে হবে। পিপিএস২৩-এর মতো নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন নিউমোনিয়া, রক্তপ্রবাহের সংক্রমণ এবং মেনিনজাইটিস সহ নিউমোকক্কাল ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট গুরুতর সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। এটি ডায়াবেটিস রোগী এবং বয়স্কদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

শিশুদের ঝুঁকি বেশি— শৈত্যপ্রবাহের সময় শিশু এবং ছোটদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। নবজাতক এবং অপরিণত শিশুদের শরীরের পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল তাদের ওজনের তুলনায় বেশি থাকে, যার ফলে দ্রুত তাপ হ্রাস হয়।  শিশুদের ঠান্ডাজনিত চাপে অলসতা, খাওয়ায় অনীহা এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে। শীতকালে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তির সবচেয়ে সাধারণ কারণ হল শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ। শিশুদের মাথা ঢেকে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তাপ হ্রাসের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল অঙ্গগুলির মধ্যে একটি।

কিডনি রোগীদের রক্তচাপ— ঠান্ডা আবহাওয়ায় রক্তচাপ প্রায়শই বেড়ে যায়। বেশিরভাগ কিডনি রোগীর উচ্চ রক্তচাপও থাকে, তাই শীতকালে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। বেশিরভাগ রোগীর জন্য রক্তচাপ ১৩০/৮০ মিমি পারদের নিচে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, তবে বয়স্কদের জন্য ১৪০-১৪৫ মিমি পারদে কিছুটা শিথিল পরিসর থাকতে পারে। রোগীদের অতিরিক্ত লবণ এবং প্রোটিন গ্রহণ এড়িয়ে চলা উচিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পালং শাক বা শর্ষে শাকের মতো মরসুমী সবজি অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়, কারণ এগুলো পটাশিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

চিকিৎসকরা বলেছেন, শীতের সময় সুস্থ থাকার জন্য বাড়ির ভেতরে শারীরিক কার্যকলাপ, নিয়মিত রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ এবং তৃষ্ণা অনুযায়ী জল পান করা অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন যে শৈত্যপ্রবাহ কেবল একটি আবহাওয়ার ঘটনা নয়, বরং এটি স্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুতর চাপ, যার জন্য ব্যক্তিগত এবং নীতিগত উভয় স্তরেই সচেতনতা, প্রস্তুতি এবং সময়মতো চিকিৎসার প্রয়োজন। তাই এই কয়েকটি মাস সাবধানে থাকুন।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle