Delhi-Dehradun Expressway ৬ ঘণ্টার রাস্তা পাড়ি দেবে আড়াই ঘণ্টায়

Delhi-Dehradun Expressway

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার দিল্লি-দেরাদুন এক্সপ্রেসওয়ের (Delhi-Dehradun Expressway) উদ্বোধন করলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পটি দিল্লি এবং দেরাদুনের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে নিশ্চিত এবং এর ফলে যাতায়াত আরও দ্রুত ও মসৃণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এক্সপ্রেসওয়েটি উদ্বোধন করার আগে প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক ‘দত্ত কালী মন্দিরে’ পূজোও দেন।

আনুমানিক প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দিল্লি-দেরাদুন এক্সপ্রেসওয়েটি দিল্লির অক্ষরধাম মন্দিরের নিকটবর্তী এলাকা থেকে শুরু হয়ে দেরাদুনে গিয়ে শেষ হয়েছে। এই রুটটি উত্তর প্রদেশের বাগপত, বারৌত, মুজাফফরনগর, শামলি এবং সাহারানপুরসহ বেশ কয়েকটি শহরের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে।


এই এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে হরিদ্বারকে সংযুক্ত করার জন্য একটি বিশেষ সংযোগ সড়কও থাকবে। এছাড়া এক্সপ্রেসওয়েটি ‘চার ধাম মহাসড়ক’-এর সঙ্গেও যুক্ত, যা উত্তরাখণ্ডের প্রধান তীর্থস্থানগুলোকে সংযুক্ত করবে। যা ওই পথে যাওয়া ভ্রমনার্থীদের জন্য অনেকটা সুবিধে ও সময় সাশ্রয়ী তো হবে বটেই।

এই নতুন এক্সপ্রেসওয়েটি দিল্লি এবং দেরাদুনের মধ্যে যাতায়াতকে আরও দ্রুত ও মসৃণ করে তুলবে তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। বর্তমানে এই যাত্রায় প্রায় ৬ ঘণ্টা সময় লাগে; কিন্তু এক্সপ্রেসওয়েটি পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে, একই দূরত্ব অতিক্রম করতে মাত্র আড়াই ঘণ্টা (২.৫ ঘণ্টা) সময় লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিবহনের অন্যান্য মাধ্যমের তুলনায়, এই এক্সপ্রেসওয়েটিই দিল্লি এবং দেরাদুনের মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে কম সময় নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সবচেয়ে দ্রুতগামী ট্রেন ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’-এর ক্ষেত্রে এই যাত্রায় প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় লাগে, অন্যদিকে ‘শতাব্দী এক্সপ্রেস’-এর ক্ষেত্রে ৬ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগতে পারে। বিমানের ক্ষেত্রে, কাগজে-কলমে বা তাত্ত্বিকভাবে যাত্রার সময় লাগে প্রায় ৫৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট। তবে, ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় যাতায়াত সময়, যা যানজটের ওপর ভিত্তি করে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টারও বেশি হতে পারে—এবং বিমান ছাড়ার অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর বাধ্যবাধকতা এই সবকিছু বিবেচনা করলে, মোট যাতায়াত সময়ও প্রায় ৫ ঘণ্টা বা তারও বেশি হয়ে দাঁড়ায়। সেই তুলনায়ও এই নতুন মহাসরক ধরে যাতায়াতের সময় অনেকটাই কম লাগবে।

এই এক্সপ্রেসওয়েতে মোট পাঁচটি টোল প্লাজা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে টোল আদায়ের প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। যান চলাচল নির্বিঘ্ন ও সাবলীল রাখতে এই এক্সপ্রেসওয়েতে সাতটি ইন্টারচেঞ্জ বা সংযোগস্থল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া এতে দু’টি রেল ওভারব্রিজ এবং ১০টি বড় সেতুও রয়েছে। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনা করে রাস্তার পাশে ১৪টি সুবিধাকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। দীর্ঘ ভ্রমণকে আরও সুবিধাজনক ও নিরাপদ করে তুলতে এই কেন্দ্রগুলোতে বিশ্রামাগার, ফুড কোর্ট, জ্বালানি স্টেশন এবং শৌচাগারের মতো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা থাকবে।

এই এক্সপ্রেসওয়ের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো রাজাজি জাতীয় উদ্যানের ওপর দিয়ে বিস্তৃত এর ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়ালপথ, যা বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে। তবে ভ্রমনার্থীদের জন্য দৃষ্টি নন্দন যাত্রা হতে চলেছে এই পথে প্রকৃতির মধ্যে দিয়ে। জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে সমতলে রাস্তা তৈরি করে বনভূমিকে বিভক্ত করার পরিবর্তে, এই প্রকল্পে দু’টি বিশাল ‘হাতি চলাচলের সুড়ঙ্গপথ’ রাখা হয়েছে। প্রতিটি সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ মিটার, যার ফলে হাতিরা যানবাহনের সংস্পর্শে না এসেই নিরাপদে রাস্তা পার হতে পারবে। এর পাশাপাশি, অন্যান্য বন্যপ্রাণীদের চলাচলের সুবিধার্থে আরও ছয়টি অতিরিক্ত ‘বন্যপ্রাণী পারাপার পথ’ তৈরি করা হয়েছে।

একবার পুরোদমে চালু হয়ে গেলে, ২১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়েটি ভ্রমণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে এবং বিদ্যমান সড়কপথগুলোর ওপর থেকে যানজটের চাপ লাঘব করবে। সঙ্গে ট্যুরিস্টদের মন ভালো করে দেওয়া প্রকৃতির মধ্যে দিয়ে যাত্রার উপভোগ্য মুহূর্তও দেবে।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle