আরএসি (RAC Ticket) ক্যাটাগরির টিকিটের জন্য পুরো ভাড়া নেওয়াটা অযৌক্তিক, যেখানে টিকিটধারীকে পুরো বার্থ ছাড়াই ভ্রমণ করতে হয়, বলে একটি সংসদীয় কমিটি জানিয়েছে। পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি) বুধবার সংসদে পেশ করা তাদের ‘ভারতীয় রেলের ট্রেন পরিচালনায় সময়ানুবর্তিতা এবং ভ্রমণের সময়’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলেছে যে, “আরএসি (রিজার্ভেশন এগেইনস্ট ক্যান্সেলেশন) ক্যাটাগরির টিকিটের জন্য পুরো ভাড়া নেওয়াটা অযৌক্তিক, যেখানে চার্ট তৈরির পরেও টিকিটধারী বার্থের সুবিধা ছাড়াই আরএসি ক্যাটাগরিতেই থেকে যান।” কমিটি পরামর্শ দিয়েছে যে রেল মন্ত্রকের উচিত এমন গ্রাহক/যাত্রীদের আংশিক ভাড়া ফেরত দেওয়ার জন্য একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যারা পূর্ণ বার্থ পাননি কিন্তু ট্রেনে ওঠার সময় পুরো ভাড়া দিতে বাধ্য হয়েছেন।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, রেলওয়ে আরএসি ক্যাটাগরিতে ট্রেনে বার্থ বুক করার জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে পুরো ভাড়া নেয়। তবে, যাত্রী আরএসি ক্যাটাগরিতেই থেকে যেতে পারেন এবং অন্য একজন আরএসি যাত্রীর সঙ্গে বার্থ ভাগ করে নিতে পারেন। উভয় যাত্রীই রেলওয়েকে পুরো ভাড়া দেন। কমিটি রেলওয়েকে এই ধরনের যাত্রীদের আংশিক ভাড়া ফেরত দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে এবং এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে তাদের অবহিত করতে বলেছে।
ভারতীয় রেলওয়েতে সুপারফাস্ট ট্রেনের মানদণ্ড পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে কমিটি বলেছে যে, ২০০৭ সালের মে মাসে রেলওয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, যদি কোনও ট্রেনের গড় গতি আপ এবং ডাউন উভয় দিকেই ব্রডগেজে ন্যূনতম ৫৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা এবং মিটারগেজে ৪৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা হয়, তবে সেটিকে সুপারফাস্ট (এসএফ) ট্রেন হিসেবে গণ্য করা হবে।
কমিটি বলেছে যে নিরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, একটি ট্রেনকে সুপারফাস্ট হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার জন্য ৫৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার মানদণ্ডটি কম। কমিটি বলেছে, “২০০৭ সাল থেকে সুপারফাস্ট ট্রেনের শ্রেণিবিন্যাসের মানদণ্ডে কোনও পরিবর্তন হয়নি।” এটি আরও উল্লেখ করেছে যে, ৪৭৮টি সুপারফাস্ট ট্রেনের মধ্যে ১২৩টি সুপারফাস্ট ট্রেনের নির্ধারিত গতি ৫৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার কম।
তাদের জবাবে মন্ত্রক কমিটিকে জানিয়েছে যে, সুপারফাস্ট হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা ১২৩টি ট্রেনের তালিকা পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে যে, বর্তমান তথ্য অনুযায়ী ৪৭টি ট্রেনের গতি ৫৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার বেশি। বাকি যে ট্রেনগুলো ৫৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার কম গতিতে চলছে বলে দেখা গিয়েছে, সে সম্পর্কে মন্ত্রক বলেছে যে, নিয়মিত পরিষেবা শুরু হওয়ার পর অতিরিক্ত স্টপেজের ব্যবস্থা করার কারণে কয়েকটি ট্রেনের গড় গতি প্রভাবিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “কমিটি ঘণ্টায় মাত্র ৫৫ কিলোমিটার গতিতে চলা ট্রেনগুলোকে ‘সুপারফাস্ট ট্রেন’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি, মন্ত্রক কর্তৃক নির্ধারিত সীমা মেনে না চলার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।”
এতে আরও বলা হয়েছে, “কমিটি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে বাধ্য হয়েছে যে, ট্রেনগুলোকে সুপারফাস্ট হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্য ছিল উচ্চতর ভাড়া আদায় করা। যখনই ট্রেনের গতি নির্ধারিত সীমার নিচে নেমে গিয়েছে, তখনই ভারতীয় রেলওয়ের উচিত ছিল ট্রেনটিকে সুপারফাস্ট বিভাগ থেকে বাদ দেওয়া এবং ভাড়া সংশোধন করা।” কমিটি আরও মনে করে যে, ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটারের সুপারফাস্ট মানদণ্ডটি “অত্যন্ত রক্ষণশীল এবং সেকেলে”, এবং বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বিশেষ করে যখন চিন ও জাপানের মতো কিছু পূর্ব এশীয় দেশ ভারতের মানদণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি গতিতে ট্রেন চালায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, “কমিটি এই মতও পোষণ করে যে, নতুন ট্রেন চালু করার ফলে অন্যান্য বিদ্যমান এক্সপ্রেস/সুপারফাস্ট ট্রেনগুলোকে পথ ছেড়ে দেওয়ার জন্য থামিয়ে দিতে হয় এবং এর ফলে বিলম্ব ঘটে। তাই কমিটি সুপারিশ করছে যে, মন্ত্রকের উচিত নতুন চালু হওয়া ট্রেনের চেয়ে বিদ্যমান এক্সপ্রেস এবং সুপারফাস্ট ট্রেনগুলো সময়মতো চলাচল নিশ্চিত করার উপর বেশি মনোযোগ দেওয়া।”
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
