আমি অথবা অভিষেক, মমতাকে বার্তা কল্যাণের

গত ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস ছিল এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি। পরপর তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে জয় তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার গড়ে তুলেছিল এবং টানা চারটি লোকসভা নির্বাচনে—যেখানে তৃণমূল একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছিল—তা সেই অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার তৃণমূল এক গভীর অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ল, যখন দলের প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো ও দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোগী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বললেন, ‘‘এটা আমার কাছে চরম অপমানের বিষয়। তাঁর ঔদ্ধত মনোভাব দলটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে… এটা তাঁর বোঝা উচিত।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রতিদিন তিনি নিজেকে ‘রাজা’ মনে করেন… এমনকি দুঃসময়েও। যখন আমি দলের হয়ে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে চাই, তখন তা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অভিষেকের এই মনোভাবের কারণেই কাজ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘‘সিদ্ধান্তটা আগে মমতা দিকেই নিতে হবে। তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতেই হবে… অভিষেককে ছাড়া যদি তিনি দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারেন, তবে আমি আর দলে থাকব না।’’—এভাবেই তিনি ‘হয় তিনি, নয়তো আমি’—এমন এক চূড়ান্ত বার্তা (আল্টিমেটাম) দিলেন।