ডার্বির সকাল, বিশ্ব বিখ্যাত সেই কলকাতা ডার্বি (Kolkata Derby) শুরু হতে আর মাত্র কয়েকঘণ্টা বাকি। তার আগে বদলে গেল স্টেডিয়ামের ভিতরের ভিআইপি গেটের উর থাকা বিশাল বিশ্ব বাংলার লোগো। শনিবার সকাল থেকেই স্টেডিয়াম জুড়ে ছিল সাজ সাজ রজ। এক তো রবিবারের সন্ধ্যেয় আইএসএল ২০২৫-২৬-এর ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান ম্যাচ। তার উপর এবার সিঙ্গল লেগের ইন্ডিয়ান সুপার লিগ হওয়ায় একটিই মাত্র ডার্বি পাচ্ছে আইএসএল। এই অবস্থায় সেই ডার্বি যখন কার্যত ফাইনাল তখন তার উন্মাদনা কোথায় পৌঁছতে পারে তা বুঝতে অতি বড় ফুটবল সমর্থক হওয়ার দরকার নেই। আর এই আবহ তৈরি হয়ে গিয়েছিল যখন কলকাতার দুই দল লিগ টেবলের প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছে গিয়েছিল। এবার সেই সময় আগত। যদিও ভোটের কারণে পূর্ব নির্ধারিত দিন বদলে ডার্বির দিন করা হয় ১৭ মে ২০২৬। যে কারণে এই ম্যাচকেই ফাইনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ দুই দলই সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে ২২ পয়েন্ট নিয়ে এক ও দু’য়ে রয়েছে শুধুমাত্র গোল পার্থক্যের নিরিখে। যদিও এই প্রথম অ্যাডভান্টেজ ইস্টবেঙ্গল।
সেই প্রসঙ্গে পরে আসছি, তার আগে বদল হয়ে গেল স্টেডিয়ামের মাথায় থাকা লোগো। এতদিন সেখানে ছিল বিশ্ব বাংলার লোগো ‘ব’। শনিবার দুপুরে স্টেডিয়ামে পৌঁছে দেখা গেল বিশ্ব বাংলার লোগো ততক্ষণে সেখান থেকে নেমে গিয়েছে আর সেখানে বসছে নবাগত সরকারের লোগো। গোলাকৃতি সেই লোগোর মাঝখানে রয়েছে অশোকস্তম্ভ। আর সেই অশোকস্তম্ভকে ঘিরে উপরে বাংলায় লেখা ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার’ আর নিচে ইংলিশে লেখা ‘Govt Of West Bengal’। সন্ধ্যের আগেই বদলের কাজ সম্পন্ন করে ফেলেন কর্মীরা। দৃশ্যগত বদল যে আরও আসবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ। আর এই বদলের আবহেই আইএসএল-এ প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল। ইতিমধ্যেই শহরে পৌঁছে গিয়েছেন এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে। শনিবার বিকেলে তিনি ডার্বির পুরো ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে স্টেডিয়ামেও যান। জানা গিয়েছে, নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামানিকও ডার্বি দেখতে স্টেডিয়ামে থাকবেন।

তার আগেই রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মোহনবাগান সভাপতি দেবাশিস দত্ত। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, রেফারি ইস্টবেঙ্গলকে টেনে খেলাবে। যদিও পুরো টুর্নামেন্ট দেখলে এবার এটা স্পষ্ট যে ইস্টবেঙ্গলের থেকে পিছিয়েই রয়েছে মোহনবাগান। যদিও সাংবাদিক সম্মলনে দুই কোচই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই তাঁদের মতামত জানালেন। অস্কার ব্রুজোঁ বলছিলেন, ‘‘এই দলের মানসিক দিকটা ভালো ছিল না। এখন আমরা চ্যাম্পিয়নশিপের কথা বলছি। দের বছরে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। এই দলের মানসিকতারই সব থেকে বড় পরিবর্তন হয়েছে।” এর সঙ্গে মোহনবাগান দলের পরিবর্তন নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। বলছিলেন, “মোহনবাগান দলে পরিবর্তন নেই, শুধু কোচ বদলেছে।’’
তবে তিনি দুই স্প্যানিশ কোচের লড়াইকেও এগিয়ে রেখেছেন। তাঁর মতে, তিনি এবং লোবেরা, দু’জনেই স্প্যানিশ। আর স্প্যানিশরা শুধু জয়ের জন্যই খেলে। তা শুনে অবশ্য লোবেরা বলছেন, ‘‘এটা ওঁর মতামত। তবে সবার খেলার দর্শন আলাদা। ওঁর একরকম, আমার একরকম। আক্রমণাত্মক খেলার সঙ্গে রক্ষণটাও সমানভাবে সামলাতে হবে।’’ গোল না খেয়ে ৯০ মিনিটে গোল করে জয় তুলে নেওয়াটাই হবে মূল লক্ষ্য মোহনবাগান কোচের, তা তিনি বুঝিয়ে দিলেন।

আসলে দুই পক্ষের অন্দরে যে মানসিক টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা খানিকটা সংবাদ মাধ্যমের থেকে লুকিয়েই রাখলেন দুই দলের কোচ ফুটবলাররা। আসল লড়াইটা তো হবে মাঠের ৯০ মিনিট। ইতিমধ্যেই যে ৬২,২০০ টিকিট বিক্রির জন্য ছাড়া হয়েছিল, তা সবটাই বিক্রি হয়ে গিয়েছে বলে আয়োজক মোহনবাগানের তরফে জানানো হয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু বাড়তি ট্রান্সপোর্ট সাপোর্টেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। যুবভারতীয় থেকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে যাওয়ার জন্য বাড়তি ২০০ বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। থাকবে বাড়তি মেট্রো সার্ভিস এবং ফেরি সার্ভিস। এছাড়া ফ্যানদের উদ্দেশে জানানো হয়েছে, যাঁরা টিফো নিয়ে আসবেন তাঁদের টিফোর বিষয় দেখবে পুলিশ। তবে অনুরোধ করা হয়েছে টিফোতে যে কোনও রাজনৈতিক বার্তা বা উসকানিমূলক কিছু না থাকে। এছাড়া এই বিপুল আয়োজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১২০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যা আগের দিন থেকেই দেখা গেল। ব্যাপক পুলিশি তৎপড়তা শুরু হয়ে গিয়েছে আগে থেকেই। সব মিলে অনেকদিন পর একটা জমজমাট ডার্বি হতে চলেছে।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
