জানেন কি FIFA World Cup 2026-এর ফাইনালে একটি নয়, দু’টি লাল কার্ড দেখেছে আর্জেন্টিনা

FIFA World Cup 2026

আর্জেন্টিনার জন্য এটি ছিল এক হৃদয়বিদারক মুহূর্ত। রবিবার অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের নাটকীয় জয়সূচক গোলে স্পেন গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) জিতে নেয়। এর ফলে ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চ থেকে বিজয়ী হিসেবে বিদায় নেওয়ার লিওনেল মেসির স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে বার্সেলোনার স্ট্রাইকার তোরেস জোরালো শটে গোলটি করেন। পুরো ১২০ মিনিটের খেলায় আর্জেন্টিনা একটিও ‘শট অন টার্গেট’ (লক্ষ্যভেদী শট) নিতে ব্যর্থ হওয়ায় স্পেনের আধিপত্যপূর্ণ পারফরম্যান্সের যোগ্য পুরস্কার হিসেবেই এই গোলটি আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ ৮০,৬৬৩ জন দর্শকের বিশাল সমাগমে পূর্ণ ছিল ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়াম। সবাই দেখতে চেয়েছিলেন, আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসি তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের মুকুট পরতে পারেন কি না।


তবে ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা—যিনি সম্ভবত তাঁর শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচটি খেলছিলেন—ম্যাচে তেমন কোনও প্রভাব ফেলতে পারেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, অন্যদিকে আর্জেন্টিনা পুরো সময়জুড়ে বেশ কিছু কঠোর ও অখেলোয়াড়সুলভ ফাউল করে। দক্ষিণ আমেরিকান দলটির এই অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের সমাপ্তি ঘটে স্টপেজ টাইমে; স্পেনের ডিফেন্ডার পাউ কুবারসির ওপর নৃশংস ট্যাকল করার দায়ে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে মাঠ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই যখন স্পেনের খেলোয়াড়রা উদযাপনে মত্ত, তখন আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসিকে মাঠের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। এরপর স্পেনের ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল তাঁর কাছে এগিয়ে এলে তিনি উঠে দাঁড়ান এবং তাঁরা করমর্দন ও কোলাকুলি করেন।

ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পরপরই আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকে কাউকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করতে দেখা যায় এবং স্পেনের এক খেলোয়াড় তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন। লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভিকে ধাক্কা দেন এবং নিকোলাস ওটামেন্ডি রদ্রি-সহ স্পেনের কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে তর্কে জড়ান। পারেদেসকে লাল কার্ড দেখানো হয়।

তবে দীর্ঘ সময় ধরে মনে হচ্ছিল আর্জেন্টিনা হয়তো কোনওভাবে ম্যাচটি পেনাল্টি শুট-আউট পর্যন্ত টেনে নিতে পারবে, কারণ স্পেন গোলের দেখা পেতে হিমশিম খাচ্ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল বিতর্কিতভাবে বাতিল হওয়ার পরই স্পেন কাঙ্ক্ষিত গোলটি আদায় করে নেয়।

পেদ্রো পোরোর বাড়ানো একটি উঁচু ক্রস (লফটেড ক্রস) গিয়ে পড়ে উইলিয়ামসের কাছে; তিনি হেড করে বলটি তোরেসের পথে বাড়িয়ে দেন। তোরেস সেই বল জালে জড়িয়ে স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করেন। ২০১০ সালে স্পেন তাদের প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল।

প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর

জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: FacebookTwitterGoogle