সুচরিতা সেন চৌধুরী: আরও একটা ডার্বি (Kolkata Derby)। মরসুম শুরু হয়েছিল ডুরান্ড কাপে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান ম্যাচ দিয়ে। আর শেষও হতে চলেছে এই দুই দলের ম্যাচ দিয়েই। একদিন আগেই ইস্টবেঙ্গল কোচ অতিরিক্ত ডার্বির কথা বলেছিলেন। তবে এটা তো সবে মরসুমের শুরু, এখনও পুরোটাই পড়ে রয়েছে। ডার্বি সর্বস্ব ভারতীয় ফুটবল নিয়ে মনে মনে কিছুটা বিরক্ত হলেও মোহনবাগান কোচ সান্তোসের জন্য এই প্রথম মরসুম কলকাতার দলের সঙ্গে। আর সে কারণেই হয়তো ডার্বি নিয়ে রীতিমতো উত্তেজিত তিনি। হাবাস যখন বলছেন, ‘‘ডার্বি আসলে একটা আবেগ, যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’’ তখন পানোস বলছেন, ‘‘প্রথম ডার্বি থেকে ফাইনালের ডার্বিতে অনেকটাই তৈরি দল।’’ যদিও সূচি থেকে শুরু করে রেফারিং সব নিয়েই বিরক্তি ঝড়ে পড়ল মোহনবাগান কোচের গলায়। যা নিয়ে কিছুটা যেন ব্যাঙ্গাত্মকই শোনাল হাবাসের মন্তব্য।
পানোস বলছিলেন, ‘‘সময়সূচি নিয়ে আমরা সত্যিই হতাশ। এটা একেবারেই অন্যায্য, ৬ দিনে ৩টি ম্যাচ, সঙ্গে ভ্রমণের ক্লান্তি।’’ ইস্টবেঙ্গলকে শহরের বাইরে খেলতে যেতে হয়নি, যে কারণে মোহনবাগানের থেকে অনেকটাই বেশি তরতজ রয়েছে দল। সঙ্গে একদিন বেশি অনুশীলনের সময়ও পেয়েছে তারা। অন্য়দিকে শিলংয়ের মতো জায়গায় খেলতে গিয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়তে হয়েছে মোহনবাগানকে। একে তো প্রবল বৃষ্টি জল ভর্তি মাঠে খেলতে হয়েছে। তার পর ফেরার সময় পুরো দলের এক বিমানে জায়গা হয়নি। তার পর একদিন বিশ্রাম নিয়েই খেলতে নামতে হচ্ছে। সেদিক থেকে দেখতে হলে অ্যডভন্টেজ ইস্টবেঙ্গল।
পানোস তো বলেই ফেললেন, ‘‘মরসুমের শুরুতে তেমন কোনও চাপ ছিল না কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্লেয়ারদের উপর ধকল বেড়েছে। প্রথম ডার্বি আর এই ডার্বির মধ্যে অনেক পার্থক্য। অভিজ্ঞতা বেড়েছে যা গুরুত্বপূর্ণ। আর প্রথম ম্যাচ জিতলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে’’ তবে তিনি কিছুতেই ভুলতে পরছেন না কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে ন্যয্য পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হওয়া। যে অভিজ্ঞতা ফাইনালের আগেও ভাবাচ্ছে তাঁকে।
পানোস বলছিলেন, “একটি ম্যাচে তিনটি নিশ্চিত পেনাল্টি ছিল, আর একটি ম্যাচ খেলতে হয়েছে জলমগ্ন মাঠে। আশা করি আগামীকাল ভালো মাঠে খেলতে পারব।” যা শুনে হাবাস কিন্তু অন্য মুখেই জবাব দিলেন। বললেন, “রেফারিং তো দারুণ হচ্ছে।” তবে তার পরই যেভাবে নিজেই হেসে ফেললেন, তাতে স্পষ্ট পানোসের সঙ্গে তাঁর মতের মোটেও কোনও পার্থক্য নেই।
এদিন বেশ ফুরফুরে মেজাজেই পাওয়া গেল তাঁকে। সব প্রশ্নের উত্তরই দিলেন মজা করে। যেমন মরসুমের প্রথম ডার্বি হারের পর এই ডার্বি বদলায় ম্যাচ কিনা জানতে চাওয়া হলে মজা করে বলেন, “এই বয়সে আমার বদলা নেওয়ার ক্ষমতা নেই।” ঠিক যতটা হালকা মেজাজে ছিলেন হাবাস ততটাই সিরিয়াস পানোস।বলছিলেন, “এ ধরনের ম্যাচে অভিজ্ঞতা খুব গুরুত্বপূর্ণ, তবে শুধু অভিজ্ঞতা থাকলেই চলে না। কৌশলগত, কারিগরি এবং মানসিক উন্নতির প্রয়োজন। আগের ম্যাচগুলোতে আমরা প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেক ভালো খেলেছি। তবে এটা আলাদা ম্যাচ।”
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে এসেছিলেন সমীর জেলকোভিচ। তাঁর প্রথম ডার্বি। বলছিলেন, “আগামীকাল (রবিবার) আমার প্রথম ডার্বি। আমি জানি এটি ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচ। আশা করি আগামীকাল আমরা ট্রফি জিতব।” এর সঙ্গে তিনি জুড়ে দেন, “আমাকে দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। প্রতিপক্ষ রিকোভারির জন্য একদিন বেশি সময় পেয়েছে, তবে এটাকে আমরা অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে পারি না।”
অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের প্রেস কনফারেন্সে হাবাসের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা ছিল এডমুন্ড লালরিনডিকার। কিন্তু তিনি পৌঁছেনি না। কোচকে দেখা গেল বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে। শেষ পর্যন্ত একাই সাংবাদিক সম্মেলন পাড়লেন তিনি। সব হাসি ঠাট্টার মধ্যেও মেনে নিলেন কলকাতায় এটি একটি বিশেষ ম্যাচ। বলছিলেন, “আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি, কারণ উত্তেজনা তুঙ্গে থাকবে। কৌশলগত ও মানসিক দিকগুলো গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভালো দল। আমরা দু’টি অনুশীলন সেশন পেয়েছি। আমাদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।”
এদিকে এই মরসুমে গোলকিপার নিয়ে কথা হবে না সেটা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। কারণ গোলের নিচে একাধিকবার ত্রাতা হয়ে উঠেছেন দুই দলের দুই গোলকিপার প্রভসুখন সিং খিল আর বিশাল কেইথ। দুই কোচই এক বাক্যে তার মেনূ নিলেন। সব থেকে বেশি কথা হল মোহনবাগান গোলরক্ষককে নিয়েই। মোহনবাগান কোচ যেমন মেনে নিলেন বিশালই এ দেশের সেরা গোলকিপার, তেমন বিশালের পাশাপাশি প্রভসুখন ও লাচেনপার কথা বলতেও ভুললেন না ইস্টবেঙ্গল কোচ।
ডার্বির আগের বিকেলে অনুশীলন না করার সিদ্ধান্ত নিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস। বরং তিনি শারীরিক প্রস্তুতির থেকে বেশি জোড় দিয়ে চাইলেন মানসিক উন্নতিতে। মোহনবাগান কোচ পানোস অবশ্য পুরো দমে অনুশীলন সারলেন ক্লাবের মাঠে। তার আগে চলল দীর্ঘ মিটিং।
প্রতিদিন নজর রাখুন জাস্ট দুনিয়ার খবর
জাস্ট দুনিয়ার সঙ্গে গোটা বিশ্বকে রাখুন নিজের পকেটে। Follow Us On: Facebook, Twitter, Google
